ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও এখানে প্রচুর পরিমাণে গণতান্ত্রিক সংকট লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সর্বশেষ সংকট সৃষ্টি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে প্রধান দুই দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে। বর্তমান সরকার কি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রহিত করেছে তা এখনও সাধারন জনগণের নিকট স্পষ্ট নয়। তবে বিরোধী দলীয় সমর্থকরা ধারনা করছেন, সরকার পরবর্তী নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা রহিত করেছে। তাই তারা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বহাল প্রশ্নে আপোসহীন অবস্থান নিয়েছে। অপরদিকে সরকার সমর্থকরা যুক্তি দেখাচ্ছেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আর যেন কখনও অগণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্যই এ ব্যবস্থা রহিত করা হয়েছে। আমার ধারনা দুই দলই কিছু অভিসন্ধিকে অনুমান করে এর পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যার দরুন কেউ তার অবস্থান থেকে সরে আসছেনা। দেশের বিরাজমান এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গণতন্ত্রের সংকট দিন দিন প্রকটতর হচ্ছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন। এই পরিস্থিতিতে বৃহৎ দুই দলের উচিৎ সমাঝোতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা করা। এতে দেশবাসী যেমন উপকৃত হবে, তেমনি অহেতুক একটি বিতর্কেরও অবসান ঘটবে। সুশীল সমাজের উচিৎ হবে শুধু সমালোচনা না করে সমস্যা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটিতে তরুণ প্রজন্মের মতামতকেও মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের বক্তব্য ও ভাবনাগুলোকে সরকারের উচিৎ হবে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা। সর্বোপরি, সকলের সম্মিলিত যুক্তি ও পরামর্শের ভিত্তিতেই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু সম্পর্কিত জটিলতার অবসান ঘটাতে হবে।