ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

চীনের নিরাপত্তার লক্ষ্যঃ

চীনের প্রচলিত নিরাপত্তা ভাবনা সম্পর্কে বলা হয় যে, চীন মনে করে তার এমন কোন শত্রু নেই যে তাকে ধ্বংস করবে। মাও সেতুং মনে করতেন বিপ্লবের গুরুত্ব বোঝার জন্য আমাদের শত্রু কে এবং আমাদের বন্ধু কে তা ভালোভাবে অনুধাবন করতে হবে। তিনি মনে করেন চীনের পূর্ববর্তী বিপ্লবগুলো ব্যর্থ হওয়ার কারণ হল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করতে না পারা। তাই তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রকৃত বন্ধুর সাথে মৈত্রী স্থাপন করে শত্রুদের মোকাবেলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। জনস্টন নামের একজন নিরাপত্তাবিদ চীনের অধুনা পূর্ববর্তী নিরাপত্তা সম্পর্কে বলেছেন, ‘চীনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠনের বিকল্প নেই। যে কোন ধরনের সহিংসতা ও প্রতিকূলতার ক্ষেত্রে এই সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে হবে।’

(১৯৩৯-১৯৪৫) চায়না অপদস্ত হওয়ার ফলে বুঝতে পারল যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তি অর্জন ছাড়া তারা সম্মানিত জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেনা। তাই তারা ধীরে ধীরে শক্তি অর্জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পল কেনেডি মনে করেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সীমাগুলোকে চায়নার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারলে চীন আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হবে যার ফলশ্রুতিতে চায়না শক্তির রাজনীতি প্রদর্শন করতে পারবে। এটা স্পষ্ট যে চায়না তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো ধীরে ধীরে প্রসারিত করছে। চায়না ইতিমধ্যে রকেট উৎক্ষেপণ ক্ষেপনাস্ত্র বিদ্যা ও পারামাণবিক শক্তি অর্জন করেছে।

কেনেডি ইকোনোমিষ্ট পত্রিকায় আরও মন্তব্য করেন, ‘আগামি কয়েক বছরের মধ্যে চায়নার অর্থনীতি যথেষ্ঠ শক্তিশালী হবে যার ফলশ্রুতিতে সামরিক বাহিনীরও উন্নয়ন সাধিত হবে। চায়নার বিশাল সামরিক বাহিনী পার্শ¦বর্তী রাষ্ট্র ও বৃহৎ শক্তিগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়াবে।’ জন রয় কেনেডির সাথে সহমত পোষণ করে বলেন যে, ‘চায়নার ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে একুশ শতাব্দীর মধ্যে তারা সুপার পাওয়ার হতে পারে। এই শক্তিমত্তা চায়নাকে আরও অধিক সাহসী করে তুলবে, অন্যের উপর শক্তিপ্রয়োগে ইচ্ছুক করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তি হিসেবে নিজের স্বার্থ আদায়ে চেষ্টা করবে।’

মাও সে তুং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য পাঁচটি নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন যার মূল ধারনা ছিল চায়না কখনও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হতে পশ্চাৎপসরণ করবেনা। যে কোন ভাবেই হোক রাজনীতিতে এই নীতিগুলো চায়না দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবে। আধুনিক চীনের সংস্কারক দেং জিয়াওপিং নিরাপত্তা সম্পর্কে যে ধারনা দিয়েছেন সেখানে তিনি সামরিক বাহিনী নিয়ে মাও সেতুং এর ধারনাগুলোকে পরিত্যাগ করেছেন এবং এর পরিবর্তে দেশের সর্বাত্মক শক্তির উন্নয়ন ঘটানোর কথা বলেছেন। দেং জিয়াওপিং এর কৌশলগত ধারনাগুলো খুবই জটিল। তার কৌশলগুলো গঠিত হয়েছে শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রয়াস নিয়ে। চায়নার নিরাপত্তার ধারনাকে এভাবে সংঙ্গায়িত করা যায়ঃ

চীনের নিরাপত্তা = সামরিক শক্তিমত্তা+ অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা + জাতীয় ঐক্য + অগ্রগামী অর্থনীতি + বিশ্বশান্তি।

এই ফরমূলা অনুযায়ী বিশ্বশান্তি নির্ভর করবে চায়নার শক্তিশালী হওয়ার উপর। চায়না যতই উন্নত হবে ততই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য অধিক নিশ্চয়তা দিতে পারবে। চায়নার শ্রেষ্ঠ নেতা দেং জিয়াওপিং একই ধারনা পোষণ করে বলেন, ‘চায়না যতই শক্তিশালী হবে ততই বিশ্বশান্তির জন্য তা সুযোগ বয়ে আনবে।’ মেডিরোস এবং টেইলর দাবী করেন যে, বর্তমান সময়গুলোতে চায়না সম্মুখ যুদ্ধের ঝুঁকি কম নেবে, অত্যাধুনিক ও অধিক আস্থাশীল হয়ে উঠবে এবং একই সময়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সুসংগঠিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে। চায়নার আদর্শ ও ঐতিহ্য বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, জাতীয়তাবাদ ও শক্তির রাজনীতির উপাদানগুলো চায়নার কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং বৈদেশিক নীতির লক্ষ্যগুলো অর্জনে সহায়তা করেছে। চায়নার আধুনিক জাতীয়তাবাদ শক্তিশালী হয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা গ্রহণ করে।

চায়নার আধুনিক জাতীয়তাবাদের উদ্দেশ্য হল চায়নার সেই প্রাচীন মহিমাকে পুনরুদ্ধার করা। এই সময়ে চায়নার উন্নয়নের জন্য কাঙ্খিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার এবং সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জাতীয় উন্নয়ন দরকার। দেং জিয়াওপিং বিচক্ষণতার সাথে বুঝতে পেরেছিলেন যে, সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এটার মাধ্যমে চায়না তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে।

বর্তমানে চায়নার অর্থনীতি দ্রুততার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু তাদের অভ্যন্তরীন রাজনীতির এখনও উন্নয়ন সাধিত হয়নি। পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদ এখনও সেখানে অনুপস্থিত। অর্থাৎ অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্যে সেখানে এখনও একটি বিপরীতমুখী অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চীনের অভ্যন্তরীন রাজনীতি চীনের নিরাপত্তা রক্ষার্থে কতটুকু সক্ষম হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেছেন। অভ্যন্তরীন অস্থিতিশীল রাজনীতি বিচ্ছিন্নতাবাদ ও আঞ্চলিক বিবাদগুলোকে আরও সক্রিয় করবে। তাইওয়ান, তিব্বত ও জিনজিয়াং এর পুরাতন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনগুলোর সাথে নতুন আরও অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন জোড়দার হতে পারে এবং সেই সাথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সীমান্ত বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে।

চায়নার বৈদেশিক নীতির উদ্দেশ্য হল শান্তি নিশ্চিত করা। ১৯৯০ সালে চায়না তার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরত্বের সাথে উপলব্ধি করে। এগুলো হলঃ
১. তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
২. Diayutal Island প্রশ্নে জাপানের সাথে বিবাদ এবং ১৯৯৭ সালে জাপানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চুক্তি।
৩. সীমান্ত বিবাদ ও দক্ষিণ চীন সাগর প্রশ্নে ভিয়েতনামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং
৪. ভারতের সাথে সীমান্ত বিরোধ এবং ১৯৯৮ সালে ভারতের পারামাণবিক বিষ্ফোরণ সম্পর্কিত হুমকি।

এগুলো চীনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। এক্ষেত্রে অনেকে ধারনা করেছেন, চীন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। সেগুলো হল আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো। এর মধ্যে তিনটি শক্তি উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত যেগুলো চীনের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। আবার ভারত বর্তমানে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং পাওয়ার পলিটিক্সে প্রভাবশালী একক হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে যা চীনের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। ফলে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর মাঝে জটিল হিসাব নিকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চায়নার বর্তমান কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো হলঃ জাতীয় প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালীকরণ, সকল ধরনের বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রস্তুত রাখা, মূল ভূ-খন্ডের সাথে তাইওয়ানকে সংযুক্ত করা, স্প্রাটলী দ্বীপপুঞ্জে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা, জাতীয় ঐক্য বিধান করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

যাহোক এই মুহুর্তে চায়না চাইবে ইন্ডিয়া, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিশ্চিত করতে। চায়না তার পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে, চায়না সরাসরি কোন দেশে আগ্রাসন চালাবে না এবং সে কোন দেশের জন্য হুমকি হিসেবে কাজ করবেনা। চায়না এটাও ঘোষণা করেছে যে সে নিজেকে কখনও সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেনা।

তাইওয়ান ইস্যুঃ
তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূ-খন্ডের সাথে একত্রীকরণ করা ও দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে চীনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চীনের মূল উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে। তাইওয়ানের বিষয়টি চীনের নিকট খুবই স্পর্শকাতর এবং এতে চীনের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে এবং চায়না ও তাইওয়ানের মধ্যে একটি অতীত মহিমান্বিত ইতিহাস রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে তাইওয়ান চীনের নিকট খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাইওয়ান চায়নার একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। কিন্তু ১৮৯৫ সালে জাপান চীনের নিকট থেকে এটিকে দখল করে নেয়। আবার ১৯৪৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কায়রো ঘোষণার মাধ্যমে চীন এটি আবার ফিরে পায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ঐ ঘোষণায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৫ ও ৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান কে চীনের অংশ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে যখন চীনে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠিত হয়। সিনো-সোভিয়েত ব্লকের আধিপত্য যাতে প্রতিষ্ঠিত না হয় সে জন্য সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে তাইওয়ান ছিল খুবই গুরত্বপূর্ণ।

তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র সুরক্ষিত সামরিক ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল যেখান থেকে শত্রুপক্ষের অঞ্চলগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তি করা সহজ এবং এখান থেকে চায়নার কেন্দ্রে আক্রমণ করা সহজ। চায়না আমেরিকাকে তাইওয়ান থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে দৃঢ় ও জোরালো আহবান জানায় । ১৯৭০-৭১ সালে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যস্থায় দুই দেশের মধ্য আলোচনা হয়। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে একটি চিঠি লেখেন যাতে বলা হয় কোন শর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার না করে নেয় তবে কখনই চীন ও মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। এভাবে কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন অবস্থায় চীন ঘোষনা করে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ান সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় তাহলে সমস্যার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার জন্য একজন রাষ্ট্রদূত পাঠাতে পারে । যাহোক যুক্তরাষ্ট্র হেনরি কিসিঞ্জারকে কূটনৈতিক হিসেবে নিয়োগ করে এবং তিনি চাইনিজদের এই নীতিকে আশ্বস্ত করেন যে, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে চায়নার উভয় অঞ্চলের জনগণ একই চায়নার অর্ন্তগত’। এরপর থেকে দুদেশের সম্পর্কের বরফ গলতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে স্বাক্ষরিত হয় সাংহাই ঘোষণা। সাংহাই ঘোষণায় অখন্ডিত চীনের অবস্থানকে স্বীকার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে বলা হয় তাইওয়ান চীনের একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্র বারবার পুনরাবৃত্তি করে তাইওয়ান ইস্যুটির শান্তিপূর্ন সমাধানের স্বার্থেই এটা করা হয়েছে এবং তারা আরও ঘোষণা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান হতে সকল সামরিক কার্যক্রম তুলে নেবে। কিন্তু সাংহাই চুক্তিতে ১৯৫৫ সালে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেটির কি হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

চাইনিজ বর্ণনা অনুযায়ী যখন ১৯৭১ সালের জানুয়ারী মাসে সরকারীভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় তখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রশাসনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে, মিউচুয়াল ডিফেন্স ট্রিটি বাতিল করে এবং সকল সামরিক কর্মকান্ড রহিত করে। তারপরও সম্পর্ক একেবারে স্বাভাবিক হয়না।

যাহোক এই মুহূর্তে চায়না তাইওয়ানকে মূল ভূ-খন্ডের সাথে একত্রিত করে সমঝোতার চেষ্টা করলে তা কোনভাবেই সফল করতে পারবে না। আবার সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যা
সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে কেননা যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই বিষয়টির সাথে জড়িত রয়েছে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য এখনও রয়েছে এখানে । এলান কলিনস বলেছেন, আপাতত চায়না তাইওয়ানের ব্যাপারে দৃঢ় ও সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তিনি যে যুক্তি দাঁড় করান তা হলো,

(১) তাইওয়ান যদি স্বাধীনতা ঘোষণা করে তবে চীন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে।
(২) সামরিক হুমকি স্বাধীনতা ঘোষনার সম্ভাব্যতাকে কমিয়ে দিতে পারে।
(৩) সামরিক হুমকির জন্য সরাসরি যুদ্ধ সৃষ্টির সম্ভবনা কম।

তবে চায়না তাইওয়ানকে তার ভূমির সাথে একত্রিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এজন্য তারা সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত । কোন দেশ যাতে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে এবং তাইওয়ানের সাথে সামরিক মৈত্রী স্থাপন করতে না পারে সে ব্যাপারে চীন অত্যন্ত সজাগ। চায়নার সামরিক বাহিনীও দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংহতি রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমন করতে যথেষ্ট শক্তি সম্পন্ন।

চীন-তাইওয়ানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিঃ
চীন নিজেকে উঠতি শক্তি হিসেবে মনে করছে। ওয়াশিংটনের এক সম্মেলনে তনরমহরবি ইৎুবুরহংশর বলেন, চীনকে ইউরোপ, জাপান ও রাশিয়ার সমতুল্য মনে করা উচিৎ। উত্তর ও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি অনেকাংশে আমেরিকা ও চীন সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, ‘চীনের বিরাট ঐতিহ্য রয়েছে এবং চীন তার লক্ষ্য অর্জনে সর্বদা বদ্ধপরিকর।’ চীন বর্তমানের অন্যতম আঞ্চলিক শক্তিশালী দেশ। রস মন্তব্য করেন, পূর্ব এশিয়ায় চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ হল তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং চীন-জাপানের কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্ক। এটি পূর্ব এশিয়ার পরিবেশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে চীন তাইওয়ানকে নিজের অধিকারে রাখতে চাইবে। যুক্তরাষ্ট্র চাইবে তাইওয়ান চীনের প্রভাবাধীন না থেকে নিজেদের মত করে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করুক। কিন্তু চীন এটা কখনই মেনে নিতে চাইবেনা। অর্থাৎ তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে চীন ও আমেরিকা উভয়েরই স্বার্থ রয়েছে। তাই এ অঞ্চলে শান্তি রক্ষার্থে চীন-তাইওয়ান স্থিতিশীলতা একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

চলবে…….