ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের ১৩৭ ধারা অনুযায়ী এটি গঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সাংবিধানিকভাবে দেশের প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগদানে পরীক্ষা গ্রহণ, নিয়োগ সুপারিশ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মেধাবী প্রজন্ম ধীরে ধীরে তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এর অন্যতম কারণ হল প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করতে না পারা। এখন পিএসসি’র অধীনে সব পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁসের নজির খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, সরকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, সাব রেজিস্ট্রার ও ৩৩তম বিসিএস এর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পিএসসি বরাবরই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। তবে ৩৩ তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষা বন্ধের মাধ্যমে পিএসসি প্রমাণ করেছে এবার সত্যই প্রশ্ন ফাঁসের মত ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়টি অনেকটা উদ্বেগজনক। যার অধীনে একটি দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশকে পরিচালনা করার জন্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিয়ে থাকে সেখানে এ ধরনের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ও সীমাহীন দুর্নীতি জাতিকে হতাশাগ্রস্ত করে। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন পিএসসি রাজনীতিকীকরণের দোষে দুষ্ট। আর রাজনীতিকরণ হলেই সেখানে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি উঠে আসে। আবার প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারেও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকে বেশি। তাই আমাদের উচিৎ পিএসসি’কে অন্তত রাজনীতি মুক্ত রাখা। পিএসসি’তে রাজনীতিকরণ হলে সেখানে মেধাবীরা বঞ্চিত হবে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন মেধাবীহীন হয়ে উঠতে পারে। অপরদিকে পিএসসি’কেও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রশ্ন ফাঁসের মত গর্হিত কাজকে কঠোরহস্তে প্রতিরোধ করতে হবে।