ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

উন্নত জীবনের আশায় পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীই এখন বিদেশ গমনে ইচ্ছুক। কিন্তু যেসব নারী এমন বাসনা পোষণ করছেন তারা বিদেশ যাওয়ার পরকল্পনা হাতে নিতেই পড়ছেন দালালের খপ্পরে। যাওয়ার কথা এক দেশে কিন্তু পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে অন্যদেশে। করার কথা কোন মানসম্মত কাজ, কিন্তু ভাগ্যে তাদের জুঁটছে বাধ্য করানো পতিতাবৃত্তি পেশা। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাগুলোতে এখন অহরহই এভাবে নারী ও শিশু পাচারের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু কোনভাবেই তা রোধ করা যাচ্ছেনা। আইনি জটিলতা এবং সরকারি উদ্যোগের অভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে পাচারকারীরা। ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষ পাচার হচ্ছে। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গত ১০ বছরে শুধু ভারতেই ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩ লাখ নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। পাকিস্তানে পাচার হয়েছে আরও ২ লাখ। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, যারা পাচারের স্বীকার হচ্ছে তাদের ৬০ শতাংশেরও বেশি কিশোরী, যাদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। বর্তমানে রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জসহ সীমান্ত এলাকাগুলো পাচারকারীদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। আর এসব পাচার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিজিবির গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, ‘পাচারকারী নেটওয়ার্কের সাথে জড়িতরা খুবই প্রভাবশালী। স্থানীয়ভাবে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও তাদের সহায়তা করেন। ফলে তাদের কথায় সহজেই বিশ্বাস করে গ্রামের অসহায় গরিব মানুষ নারী ও শিশুদের তুলে দেয় তাদের হাতে।’[ তাই নারী ও শিশুর পাচার বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিজিবি সদস্যদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নারী ও শিশু পাচার রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। দালালচক্রকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। বিশেষত, নারী অভিবাসনের ক্ষেত্রে সবোর্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।