ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

আজ ছিলো বিশ্ব বাঘ দিবস।আর আজই আমার গ্রামের তাজা, টগবগে তরুন”হাসান” সুন্দরবনে বাঘের আক্রমনে নিহত হয়েছে। সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি যথারীতি বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিপদাপন্ন তালিকাভূক্ত হিংস্র অথচ অতিসুন্দর এই প্রাণীকে রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই আয়োজন।দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচী হিসেবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার (সূত্র:দৈনিক পূর্বাঞ্চল) আয়োজন করা হলেও সুন্দরবনের পাশ্ববর্তী গ্রাম গুলোতে জনসচেতনতা সৃষ্টির কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই(অন্য এলাকায় হলেও আমার এলাকায় এ ধরনের কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি)।

আমরা আম-জনতা/টোকাই,আমরা অনেক কিছু বুঝিনা কিন্ত একটা জিনিস বুঝি যে,বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা-সভা বা ঢাকা চিড়িয়াখানায় বাঘদের একদিনের জন্য(অন্যদিন ওদের পরিমিত খাবার না দেওয়ার কবর মাঝে-মাঝে পত্রিকায় দেখি) ভালো খাবার দিয়ে সুন্দরবনে বাঘ রক্ষায় ইতিবাচক কোন ফল হবে না।বাঘ বিশেষত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাস করে সুন্দরবনে আর বাঘদের অস্থিত্ব রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া দরকার সুন্দরবনের পাশ্ববর্তী গ্রাম গুলোতে। বলা যায় সুন্দরবনের পাশ্ববর্তী গ্রাম,সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল বনজীবী (বাওয়ালি,মাওয়ালী,জেলে,
বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী) দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির দরকার। পাশাপশি বাঘের আক্রমনে নিহতদের পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করা,জনবসতি এলাকায় বাঘের প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা যায় বা হঠাৎ কোন বাঘ লোকালয়ে চলে আসলে কিভাবে বাঘটাকে হত্যা না করে আবার বনে ফিরিয়ে দেয়া যায় সেসব বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা আবশ্যক। এছাড়া সুন্দরবনের পরিবেশ,প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সুন্দরবণাঞ্চলের মানুষের মধ্যেই জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া জরুরী ।বাঘের আবাস ভূমির গর্বিত দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বাঘ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগের নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রশ্ন রয়েছে।
আজই বিশ্ব বাঘ দিবসে আমার নিজের গ্রামের বাসিন্দা অর্থাৎ খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১০ নং গড়ইখালী ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের লুৎফর গাজীর পূত্র হাসান গাজী(২১) আজ সকাল আনুমানিক ৭ টায় সুন্দরবনের “মঠের খাল” নামক স্থানে মাছ ধরার সময় বাঘের আক্রমনে মৃত্যু বরন করেন।

উল্লেখ্য যে নিহত হাসান ও তার খালু ইবদার গাজী অন্যান্য দিনের মত আজও সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। মাছ ধরার সময় হটাৎ একটি বাঘ হাসান এর উপর ঝাপিয়ে পড়ে।হাসান যথারীতি জীবন বাঁচানোর সব চেষ্টা করে। হাসানের হাতে থাকা দা দিয়ে বাঘের মুখে বারবার কোপায়ে নিজেকে ছাড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে নৌকায় পৌঁছানোর পর মৃত্যুবরণ করে। তার লাশ সকাল ১১-৩০(আনুমানিক) গ্রামে পৌছালে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আমি নিজেও লাশ দেখতে গিয়েছিলাম। সমস্ত মুখ ও শরীরে বাঘের আক্রমনে চেহারা চেনারও উপায় নাই। গত এক বছরে শুধু আমার গ্রামের ৭ জন বাঘের আক্রমনে নিহত হয়েছে।

অপরদিকে নিহত হাসান এর সঙ্গী ইবদার গাজীর কাছ থেকে জানতে পারি যেভাবে বাঘটা আহত হয়েছে তাতে বাঘটিও বাঁচবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তাহলে কি বিশ্ব বাঘ দিবসে আমরা একজন হাসান ও একটি বাঘকে হারালাম?