ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

অন্য একটি ব্লগে নিবন্ধন করেও লেখা প্রথম পাতায় প্রথমে প্রকাশ হয় না ।প্রায় এক মাস নিবন্ধন করেও এবং দু-একটা পোষ্ট লিখেও মন্তব্য করারও সুযোগ/অধিকার কোনটাই পাচ্ছি না। তারপরও এখনো অপেক্ষা করা ছাড়া পথ নেই। বিশেষত ভালো ভালো লেখায় মন্তব্য না করতে পারার কষ্ট নিয়ে হলেও পড়তে ভালো লাগছে।

সিস্টেমের কারনে বা পদ্ধতির কারনে অনেক কিছু হয়।এক সময় ঢাকায় যাত্রীরা লাইন দিয়ে বাসে উঠতো না,যে যাত্রী যার মতো দৌড়ে উঠতো কিন্ত এখন সিস্টেমের কারনে লাইন দিতে হয়। প্যারিসে থাকা অবস্থায় আমার কিছু আফ্রিকান বন্ধুদের দেখতাম মেট্রো/বাস/ট্রামের টিকিট কাটতো না। ৩ বছর এক আফ্রিকান বন্ধুকে জানতাম যে, প্যারিসে থাকা অবস্থায় একদিনও বাস,মেট্রো,ট্রাম বা ট্রেনেও টিকিট কাটতো না।ধরা পড়লে চেকার একটা ফাইন এর কাগজ ধরিয়ে দিতেন। কিন্ত হটাৎ একদিন জুরিখে দেখা বন্ধুটির সাথে। ঠিক জুরিখ ট্রেন স্টেশনে,দেখি টিকিট কাউন্টার থেকে মাসিক টিকিট কাটছে।আমিও টিকিট এর জন্য লাইনে,জিগাসা করলাম কিরে কলেগা প্যারিসে তো টিকিট কাটতে না এখানে টিকিট কাটছো যে। তার উত্তর ছিলো, প্যারিসের মত এখানে ফাঁকির সুযোগ নাই।

যাহোক কৌতুকটা বলি। সুইজারল্যান্ড এর ৩৫ বছরের এক তরুন যে ঈশ্বরে তেমন বিশ্বাস করতো না। তারমানে ছোটবেলা থেকে কোন কারনে ছেলেটির নাকি ঈশ্বরের দ্বারস্থ হতে হয় নি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান কিন্ত কোন সমস্যায় পড়লেও সরকারী সহযোগিতা এত দ্রুত পেতো যে ঈশ্বরের ডাকার আগেই তার সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।একবার বড় একট রোগে আক্রান্ত হয়ে ভিনটারট্যুর হাসপাতালে ছিলো ২ মাস তাও ঈশ্বরকে ডাকার সুযোগ পায়নি। সেই তরুন একবার বাংলাদেশে বেড়ায়ে সুইজারল্রান্ডে ফিরে নাকি সবসময় সাথে বাইবেল রাখে আর সবার আগে রোববার সকালে গীর্জায় পৌছায় আর অন্যান্য বন্ধুদেরকেও তার মত চলার পরামর্শ দেয়। বাংলাদেশে বেড়ানোর পরে যে এই পরিবর্তন কেনো হলো ছেলেটির ভাই,বোন,পিতা,মাতা বা বন্ধুরা কেহ গবেষনা করে খুজে বের করতে ব্যর্থ হয়ে সরাসরি তাকে প্রশ্ন করে। বলোতো ব্যাপার টা কি ?তুমিতো আগে ঈশ্বরেই বিশ্বাস করতে না কিন্ত এই বাংলাদেশ ভ্রমনের পর তোমার এই পরিবর্তন কেন ? ছেলেটি না হেসে বেশ যুক্তির সাথেই বললো, হ্যা আগে তো তাই ভাবতাম যে,ঈশ্বর নেই কিন্ত বাংলাদেশে যেয়ে দেখলাম দেশটাতে তো কোন সিস্টেমই নাই এবং সত্যি যদি ঈশ্বর না থাকে তবে দেশটা চলছে কি ভাবে? নিশ্চয় ঈশ্বর আছে নাহলে বাংলাদেশের মত গরীব দেশগুলো চলতো না। তাই এখন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।