ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমি সারাজীবন মানব কল্যাণের কথা ভেবেছি।একান্ত স্বার্থপরভাবে কিছুই করিনি। আমার শরীর আমার ।এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার বৈধ মালিকও আমি।মরনের পরে আমার শরীরটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যানে দেয়ার অঙ্গীকার করছি । আমার উত্তরাধিকারগণ এ সম্পর্কে কোন ওজর-আপত্তি করিতে পারিবে না।তাদের দাবী কোন আদালতে গ্রাহ্যও হবেনা।আমি মারা গেলে আমার মৃতদেহের বৈধ মালিক হবে ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ’।কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার শরীর নিয়ে যথেচ্ছভাবে কাটাছেড়া করতে পারবে।

সদ্য প্রয়াত “কমরেড মুকুন্দ লাল বসু” উপরোক্ত অঙ্গীকারনামাটি লিখিতভাবে করেছিলেন ২০১০ সালে ৬ ফেব্রুয়ারী। আর সেই অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী প্রয়াত কমরেড মুকুন্দলাল বসুর ছোট ছেলে ডা:বঙ্গ কমল বসু আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল পিতার মরদেহ গবেষণার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করেন।মৃতদেহ হস্তান্তরের পূবে প্রয়াত বসুর ছোট ছেলে ডা:বঙ্গ কমল বসু পিতার অঙ্গীকারটি পড়ে শোনান। গত ৮ আগষ্ট,সোমবার বেলা ১ টায় খুলনা মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে প্রয়াত “কমরেড মুকুন্দলাল বাসুর” মরণোত্তর দেহদান সম্পর্কিত অনুষ্ঠানটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এনাটমি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডা:মনিমোহন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষণার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এটাই প্রথম মরণোত্তর দেহদান।

আমাদের সমাজে নানাবিধ সামাজিকতার কারনে মরণোত্তর দেহদান তো দূরের কথা। মরণোত্তর চক্ষুদানও করতে চান না ।তবে রক্ত দানকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।সেক্ষেত্রে প্রয়াত মুকুন্দলাল বসু ব্যতিক্রমই বলা যায়। তিনি তার দেহ দানের অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন এবং তার উত্তরাধীকাররা তা বাস্তবায়ন করলেন।ফলে তিনি ও তার উত্তরাধীকাররা অবশ্যই শ্রদ্ধা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য।লাল সালাম “কমরেড মুকুন্দলাল বসু”।

***
তথ্য সূত্র:দৈনিক পূর্বাঞ্চল,খুলনা