ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 
53_PSC+exam_23112014_04

শতভাগ শিক্ষার জাতি সারাদেশে মহাসমারোহে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩১ লাখ পরীক্ষাথী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। যদিও বোর্ড সমাপনী পরীক্ষা দু’টি করার প্রস্তাব দিয়েছিলো শিক্ষাবিদরা, কিন্তু সে আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আমলারা এখন মোট ৪টি বোর্ড ফাইনালের ব্যবস্থা করেছে। ক্লাস ফাইভে পড়া একটি অবুঝ শিশু বোর্ড ফাইনালের মতো একটি জিনিসের মুখোমুখি হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হবে, এবং পরীক্ষায় আশার অতীত শিক্ষাথী পাস করবে এ আমরা হলফ করে বলতে পারি।  কয়েকদিন আগে স্যার মুহম্মদ জাফর ইকবাল জনকণ্ঠ পত্রিকায় শিশুদের শৈশব-কৈশোর নষ্ট করার চেষ্টা হতে বিরত হবার জন্য একটি কলাম লিখেছেন। আমরা আসলে জাতি হিসেবে কী চাই তা মনে হয় আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। শিক্ষায় শতভাগ পাসের নামে আমরা যা করছি তা ভয়াবহ থেকে ভয়াবহতর। কারা এর পেছনে কাজ করছেন বা তাদের ভবিষ্যত চিন্তা কী আমাদের জানা নেই। কিন্তু পরীক্ষার হল ফেরত অবুঝ শিশুদের কান্না, মন খারাপ আমাদের ব্যথিত করছে যারপরনাই। আমরা এও জানি এ লেখা দেখে যে কেউ একে সরকারের সমালোচনা বলে চিহ্ণিত করে অনেক কড়া কথাও বলবেন।

ফারিয়া   ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে এসেছে (২৩ নভেম্বর ২০১৪)। তার নিজের স্কুলেই সিট পড়েছে। তাকে পরদিন (২৪ নভেম্বর ২০১৪) কিছুতেই পরীক্ষার হলের দিকে নিতে পারছে না তার মা। এগিয়ে যাই কী হয়েছে শুনতে- ফারিয়া প্রথম এক ঘণ্টা নিজের মনে লিখেছে, তার সব ভালোই কমন পড়েছে। কিন্তু দেড় ঘণ্টা শেষ হবার আগে ক্লাসে শিক্ষক ঢোকেন এবং প্রশ্নের উত্তর বলতে থাকেন। ও নিজে যা লিখেছে সেটা ঠিক আছে কি না মিলিয়ে দেখবে, না কি যা বাকী আছে তা লিখবে এ দোটানায় পড়ে বাচ্চা।একই ঘটনা আজকেও ঘটবে এ আতংকে সে আজকে আর পরীক্ষা দিতে যেতে চাচ্ছে না।

স্বনামধন্য এক স্কুলের গেটে এক অভিভাবক সেই স্কুলের শিক্ষকের সাথে ঝগড়া করছেন। আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যেতেই যা শুনি তা অভিনব। ভদ্রমহিলার দু’বাচ্চা একসাথে জেএসসি দিচ্ছে গত সপ্তাহে। একজনের সিট স্বনামধন্য এ স্কুলে পড়েছে। বিখ্যাত স্কুলের শিক্ষকরা ক্লাসে কড়া গার্ড দিচ্ছেন। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের উত্তরও  বলে দিচ্ছেন  না। তার অন্য বাচ্চার সিট পড়েছে কম বিখ্যাত স্কুলে। সেখানে সব প্রশ্নের উত্তর শিক্ষকরা বলে দিচ্ছেন, গার্ড -ও ঢিলেঢালা। এমন যদি বিখ্যাত স্কুলে শিক্ষকরা করেন তাহলে তো তার দু সন্তানের নাম্বার দু’রকম হবে।

কোচিং সেন্টার তো এমন সাজেশন দিয়েছে যে সব প্রশ্ন কমন। বলতে পারেন ইংরেজি প্রশ্ন পিএসসি’র ফাঁস -ই হয়ে গেছে। খোদ ঢাকা শহর এ অবস্থা হলে অন্য জায়গায় না জানি কী হাল!  আমাদের বাচ্চারা আমাদের কাছ থেকে কী শিখছে আমি জানি না। শিখছে যেনতেন ভাবে পরীক্ষায় নম্বর বেশি পেতে হবে। সারা বছর মনোযোগের সাথে পড়ালেখা করার কোন প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার হলে শিক্ষকরা বলে দেবেন।  বড় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও সমস্যা নেই, নৈব্যর্ক্তিক প্রশ্ন দিয়েই পাশ করে ফেলা যাবে। জীবনে পড়ালেখার প্রয়োজন শুধু সার্টিফিকেটের জন্য। সততা বলে কিছু নেই। এগুলো আধুনিক যুগে বেমানান। আসুন আমরা সবাই শতভাগ শিক্ষিত জাতি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করি। যে জাতি পাশের পর পাশ দেবে কিন্তু কিছু লিখতে পড়তে পারবে না।

আমি সরকারের ষড়যন্ত্রকারী নই। একজন ভুক্তভোগী মাত্র।