ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

ব্যবহার, উপযোগীতা এ শব্দগুলো আমাদের কম বেশী পরিচিত। আমরা আমাদের বাথরুম, ওয়াশরুম কিভাবে ব্যবহার করি! এ এক গবেষণার বিষয়। আমরা অনেকেই এমনভাবে এ জিনিসগুলো ব্যবহার করি যে আমাদের পরে ঐ স্থানে আর কেউ যাবে না। আমি ই শেষ ব্যবহারকারী। আস্ত একটি রিপোর্ট করেছিলাম সেই ছোটবেলায় নারীদের জন্যে অফিস আদালতে বাথরুম নিয়ে। মেয়েরা বাথরুম কিভাবে ব্যবহার করে?

মতিঝিলে পোস্টিং। আমি এক ”মার্দ” মহলে তখন কাজ করি। পঁয়তাল্লিশ জনের সাথে একমাত্র ”জেনানা” আমি। বহু আন্দোলনের পর একটা ওয়াশরুম পেয়েছি। চাবি রাখি যক্ষের ধনের মতো নিজের কাছে। কলিগের বোন এসেছে। সে বাথরুমে যাবে। বিরসবদনে দিলাম চাবি। তিনি আইটি বিশেষজ্ঞ। তিনি হিজাবী। তিনি ও তার ভাই অফিস শেষে চলে গেলেন আমাকে আমার মূল্যবান চাবি দিয়ে। পরেরদিন সকালে অফিস শুরু হলো। আমার খাস পিয়ন দৌড়ে এলো, ক্লিনার বাথরুম পরিষ্কার করার পর ফ্ল্যাশ করেছে, কিন্তু পানি নামছে না। বললাম স্যানিটারী মিস্ত্রি আর সুইপারকে খবর দাও। ওরা আসার পর বললাম শুনো কমোডের চার পাশের হোয়াইট সিমেন্ট সরায়ে কমোড খুলো, গুণধর দেখবা স্যানিটারী প্যাড ফেলে গেছে। আমার কথা শুনে স্যানিটারী মিস্ত্রি আর সুইপার মনে হলো খুব আশ্চর্য হয়েছে। আমার খাস পিয়ন এক ঘণ্টা পরে জানালো বাথরুম ঠিক হয়েছে, প্যানের ভেতর থেকে একটি আস্ত প্যাড তারা বের করেছেন।
কলা ভবনে আর্টস বিল্ডিংয়ে একদিন বাথরুম ওভার ফ্লো, সুইপার আসছে পান খেতে খেতে, গুণবতী নারীদের কমোডে ফেলা চারটি প্যাড তিনি বের করলেন।
আগের পোস্টটি দিয়েছি মেয়েরা নারীত্বে পৌঁছালে স্যানিটারী প্যাড/ন্যাপকিন ব্যবহারের উপযোগীতা নিয়ে। তারা সেটা ব্যবহার করার পর কি কি ঘটাতে পারেন এটা তার ছোট্ট তালিকা। যে কোন জিনিস সে যদি একটা চিপসের প্যাকেটও হয় প্রোপার ওয়েতে ডিসপোজ করা খুব ই জরুরী। ব্যবহৃত প্যাড সুন্দর করে যে ফয়েলের ভেতর থাকে সেটাতে মুড়াতে হবে, তারপর একটি কাগজের প্যাকেটে করে নির্দিষ্ট বিনে ফেলতে হবে। বিন পাওয়া না গেলে প্যান্টের পেছনের পকেটে ও রাখা যায় ফেলার উপযুক্ত জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত। যারা প্যান্ট পরেন না তারা কাগজের প্যাকেট বা জিপলক প্যাকেটে করে নিজের ভ্যানিটি ব্যাগেও রাখতে পারেন জরুরী মুহূর্তে। আমাদের ছোটবেলায় রাস্তায় ড্রেনের পাশে বহুবার দেখেছি রক্তাক্ত তুলোর প্যাড পড়ে থাকতে, এগুলো পায়ে লাগলে পা পঙ্গু হয়ে যেতে পারে, জ্বীনে-ভূতে ধরতে পারার গল্পও শুনেছি।
বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বন্ধু বাথরুম ব্যবহার করে আসার পর ডাইরেক্ট জিজ্ঞেস করেছি, দোস্ত দাঁড়ায়ে কাজ সারছো? দোস্ত বলে দাঁড়ায়ে করলেও সই করে করছি। আমি বলছি, সুন্দর করে সিট কাভার কমোডের মুছে আয়, তোদের এসব থেকে মেয়েদের ইউরিন ইনফেকশন হয়। আমার দোস্ত অন্যদের সামনে যারপরনাই বিব্রত, আমাকে বলে দোস্, আর দাঁড়ায়ে কাজ সারব না, তোরে কথা দিচ্ছি।
আমার খুব মনে হয় এগুলো নিজেরা নিজেদের জানাতে হয়, শিক্ষিত করতে হয়; না জানাতে লজ্জা নেই, লজ্জা জেনেও ভুল কাজটা করা। আরেক কাঠি বাড়িয়ে বলি, নারীরা নিজেদের কথা নিজেদের ভাবতে হবে,একজন আরেকজনকে শিক্ষিতে করতে হবে, কারণ গুরু বলে গেছেন আরো দশ বছর আগে-

”আর নয়, জাত যাক, সে তো দু’বেলাই যায়/তবু এই সত্য মানি-নারী ছাড়া কেউ নেই নারীকে বাঁচায়।” (তসলিমা নাসরিন, নির্বাসিত নারীর কবিতা, পৃষ্ঠা :৪২)