ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

আমাদের কাঠ বাগানের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ চোখে পড়ল—তাদের! পুরনো একটা ভাঙ্গা কাঠের গুড়ির উপর সবুজ লতা-গুল্ম সাথে জড়াজড়ি করে— তারা থোকায় থোকায় ফুটে আছে । টকটকে রং! কমলা এবং হলুদ মিশনো— দেখতে অপূর্ব লাগছে । আমি আরো ভালো করে—এদের সৌন্দর্য দেখার জন্য কাছে গেলাম! আহ কি তার অপূর্ব রঙ! সুন্দর খাজকাটা-বাহারি রঙ । পুরো কাঠের গুড়ির অর্ধেকটা জুড়ে ফুটে আছে তারা। আমি অনেক গুলো ছবি তুললাম তাদের! যদিও এগুলোকে এক ধরণের ছত্রাক বলে, বেশির ভাগ সাদা রঙ হয়— তবে এই রঙটা আমাকে খুব আকর্ষন করলো! সাদাটা দেখেছি, যা ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম নামে পরিচিত। ছোট বেলায় এই বিষয়ে বইতে পড়ছি।

IMG_2862

ঢেড়শ ক্ষেতে ফুটে আছে—বড় বড় সাইজের ঢেড়শ! আর কোন কোন গাছে ঢেড়শ ফুল শোভা পাচ্ছে, তাদের রঙ বেগুনীর মধ্যে সাদা । কোন কোন ঢেড়শ পেকে গিয়ে—হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে! কোনটা আবার সবুজ সতেজ। কিন্তু ঢেড়শ ক্ষেত আর ঢেড়শ ফুল যতটানা আমাকে আকর্ষন করলো তারচেয়ে বেশী আকর্ষক করলো— ঐ মরা কাঠের গুড়ির উপর ফুটে থাকা সেই সব ব্যাঙের ছাতা—ছত্রাক! যা এলাকায় ব্যাঙের ছাতা নামে পরিচিত!

যদিও বাংলাদেশের কোথায় কোথায় এই ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় । চাইনিজ রেষ্টুরেন্টেগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । সারা বিশ্বে পুষ্টিকর সবজি হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার এটি।

আমাদের বাড়ির নুরু মিয়াকে এই ছত্রাক নিয়ে জানতে চাইলে, সে উত্তরে বলল—এটাকে আমরা ব্যাঙের ছাতা বলি,আমাগো ঘরের আনাচে-কানাচে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এ গুলা হয়—বর্ষায় । আর গরুর গোবর রাখার জায়গায় অনেক দেখতে পাওয়া যায়। বেশীর ভাগ সাদা হয় । আবার অন্য রঙের হয়। এই গুলার রঙ যেমন কমলা । তবে এগুলো খাওয়া যায় না—জংলা, বিষাক্ত! আমি তাকে বললাম; আর এই জন্যই কি দেখতে এতো সুন্দর . . .!

 

লেখক : সাংবাদিক আলোকচিত্রী

 

 

slide

ক্যাপশন: মরা কাঠের গুড়ির উপর ফুটে থাকা সেই সব ব্যাঙের ছাতা । ছবি: মনিরুল আলম