ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

তাবলীগি কার্যক্রম একটি পুরাতন পদ্ধতি যা নতুনরূপে কয়েক দশক আগে উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম হযরত মওলানা ইলিয়াস (রহঃ) তাবলীগ জামায়াত নামে পুনরায় শুরু করেন। তাবলীগ একক কোন সংগঠন নয়, এটি একটি শাখা । দ্বীনি দাওয়াতের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শাখাটি হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদাহ্ । আহলে সুন্নাত হল সুন্নী মতাবলম্বীদের সংগঠন। সমস্থ পৃথিবীতে এই তাবলীগ শান্তিতে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে ।

আমাদের উপমহাদেশে ইসলামের দাওয়াত আসে এবং ধর্মান্তরকরণ হয় তাবলীগের মাধ্যমে । তাবলীগ জামায়াত একটি শান্তিপ্রিয় সংগঠন যেটি প্রতিটি দেশে তাদের স্ব স্ব আইন মেনে সে দেশের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি রেখে দাওয়াত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । দ্বীনি ইসলামের প্রসার যে শান্তিতে হয় তার উজ্জল দৃষ্টান্ত হল এই তাবলীগ জামায়াত ।

আজ পৃথিবীতে দিকে দিকে চরমপন্থা যখন ছড়িয়ে পড়েছে । যখন সমস্থ পৃথিবী মুসলীম বলতেই সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন এই শান্তিপ্রিয় সংগঠনটি ইসলামের আসল মর্ম সকলের হৃদয়ে উদ্ভাসিত করে ইসলামের শান্তি প্রিয়তাকে ।

পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যে দেশে তাওয়াতুত্ তাবলীগ কার্যক্রম নেই । সব চেয়ে বেশি তাবলীগি দ্বীনি দাওয়াত কার্যক্রম প্রচার হয় ইন্দোনেশিয়াতে । তারা ঘরে ঘরে তাবলীগি দাওয়াত পৌছে দিচ্ছে । আর পৃথিবীর সকল দেশে ইসলামের শান্তির দাওয়াত কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু মানুষকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন করছে তাবলীগ ।

তাবলীগি হুজুরগণ লোভ মুক্ত । তাদের মধ্যে অনেক বড় বড় আলেম আছেন যারা দেশের শীর্ষস্থানীয় । মুফতি, মুজাদ্দেদ, মুহাদ্দেস, শাইখুল হাদিস, হাফেস সহ বহু বড় বড় আলেম যারা এই সংগঠনের সাথে জড়িত । তারা বয়ান করে ইসলামের বাণী কোন পয়সা ছাড়াই ।
মানুষের চরিত্র গঠন, সঠিক দ্বীনের মর্ম অনুধাবন, সঠিক ধর্ম শিক্ষা, ইবাদতের পদ্ধতি শিক্ষা, নির্ভুল ইবাদ, যেমন সালাত শিক্ষা, গুমরাহি হতে বেঁচে থাকার উপায়, পরহেজগারিতা, আমলে সলিহান হয়ে বেঁচে থাকতে কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি ।

স্বাধীনতার পূর্বে বিশ্ব ইজতেমা কাঁকরাইল মসজিদ প্রাঙ্গনে খুব ছোট পরিসরে হত । স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাস্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাবলীগ জামায়াতকে টঙ্গির বিশাল ময়দান (১৫০ একর) জায়গা প্রদান করেন । যা ১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সেই স্থানেই সম্মেলন হয়ে আসছে ।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে রাশিয়াতে তাবলীগ জামায়াত সরকারী ভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন দ্বীন প্রচারের জন্য । এবং কাকরাইল মসজিদকে বৃহৎপরিসরে পরিবর্ধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান । আসুন, আমরা সবাই এই দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে জীবনকে ইসলামের আলোকে পরিচালিত করি ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাবলীগের দাওয়াতি কার্যক্রমের কাজে কবুল করুন ………… আমিন ।