ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

মাংসে চর্বি থাকে, এই চর্বি শরীরের জন্য অনেক ক্ষতির কারণ এটা সবাই জানেন । কিন্তু আপনি কি জানেন মাংসের চর্বি এক সময় ধর্মানুসারে নিষিদ্ধ ছিল? ক্ষতিকারক জিনিস বহু ধর্মেই নিষিদ্ধ আছে বহু আগে থেকেই যা বিজ্ঞান জানতো না । আজ আধুনিক বিজ্ঞান যা বলছে তা পূর্বযুগের ধর্মের বাণীর বিপরীত নয় ।

পাক-কিতাব বা আহলে কিতাবিদের উপর যে সকল কিতাব এসেছিল সেই সকল শরীয়তে মাংসের চর্বি ততোটাই নিষিদ্ধ ছিল যতটা রক্ত নিষিদ্ধ মুসলিমদের জন্য । কিন্তু কোরান নাজিলের পর রক্তকে হারাম করা হলেও চর্বিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি । তাই মুসলিমরা চর্বি খেয়ে থাকেন, কিন্তু এটি হারাম হবার যেমন কোন বিধান ইসলামে নেই তেমনি হালাল হবার কোন বিধান নেই ।

তাই মুসলিমরা চর্বি খান মাংসের মতোই । কিন্তু হযরত মূসা (আ) এর শরীয়তে মাংসের চর্বি মাংস থেকে বিচ্ছিন্ন করেই খাওয়ার উপযোগী করা হত। এজন্য পশু কুরবানি দেবার পর রক্তকে ত্যাগের জন্য ঘরের দেয়ালে ছড়িয়ে দিত আর মাংস পুড়িয়ে ভাল করে চবি বাদ দিয়ে মাংসকে খাবার জন্য হালাল করা হতো ।

আবার হিন্দু ধর্মেও মেদ যজ্ঞ করা হত, এতে পশু বলি দিয়ে তার মেদ আগুনে পুড়ে দেয়া হত । সে সময় রক্তপাত করে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হতো আর চর্বি সমর্পণ করা হতো অগ্নি দেবতার উদ্দেশ্যে । তাই তারা চর্বি বিবর্জিত মাংস ভক্ষণ করতো ।

এখনও পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে যারা প্রাণীর মাংস খাওয়া থেকে বিরত আছেন। পরিসংখ্যান বলছে একজন নন-ভেজ থেকে অনেক বেশি সুস্থ হলেন ভেজরা । অর্থ্যাৎ, সে সময়ে জনগণ ধর্মনীতি পদ্ধতি মেনেই নিজেদের এই ক্ষতিকারক জিনিস থেকে বাঁচিয়ে রেখে নিজেদের সুস্থ রাখতে সক্ষম হয় । আজকাল আমরা চর্বি জাতীয় খাবার এতটাই খাই যে আমাদের শরীরে কি পরিমাণ অসুখ বাসা বাঁধছে তা জানি । মানব শরীরে রক্তে লিপিডের পরিমাণ বাড়াচ্ছে, শরীরের কোলেষ্টোরেলের পরিমাণ বাড়িয়ে পেরিফেরি নার্ভকে ন্যারো করে দিচ্ছে , ফলে হার্ট ব্লক, ব্রেন স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতিরিক্ত মেদ সহ ওজন বাড়িয়ে শরীরকে অকেজো করে দিচ্ছে । তাই আসুন চর্বি মুক্ত খাবার খাই, নিজেদের আয়ু বাড়াই ।
— মেহেদী হাসান ।