ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ধর্মের মূল বিধানকে সংস্কার করা যায় না। যে বিধান সু্স্পষ্ট সেটা নিয়ে কোন বিতর্ক হয়না। তবে ধর্মে সংস্কার আছে, তা হলো কুসংস্কার থেকে সংস্কার করে মূল ধারায় নিয়ে আসা। যুগে যুগে সকল ধর্মেই সংস্কারক এসেছেন, তারা সংস্কারও করে গেছেন। যেমন মুসলিম ধর্মে এখনো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, ওলামায়ে দেওবান্দ, মক্কা গ্রান্ড ইমামগণ সহ বহু সংস্কারক বর্তমানে মুসলীম ধর্মে সংস্কার করেই চলেছেন। তারা সংস্কার করছেন বিদাতকে দূরীকরণে, কুফুরিকে দূরীকরণের কাজে । তারা মুসলিমদের মাঝে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করছেন যাতে করে মুসলিমরা ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরে আসে।

এমনি ভাবে, হিন্দু ধর্মে রাজা রামমোহন, বিদ্যাসাগরসহ বহু মনীষীগণ হিন্দু ধর্মে সংস্কার করেছেন । তারা বাল্য বিবাহ বিলুপ্তকরণ, সতিদাহপ্রথা বিলুপ্তী প্রভৃতি । সতিদাহ হিন্দু ধর্মে কোন বেদের বিধান ছিলনা, তেমনি বাল্য বিবাহও তাই । কিন্তু সুসংস্কার বসত যুগে যুগে অন্ধরা বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে মূল ধর্ম থেকে বিপথে নিয়ে গেছে , আর এর ফলশ্রুতিতে এক সময় মানুষ হয়েগেছে নরপশু । তারা মৃতের সাথে জিন্দাকেও জালিয়ে দিয়ে উৎসব করেছে , আর এটাকেই ধর্মের বিধান মানতে বাধ্য করেছে ।

মুসলিম ধর্মেও এমন বহু ঘটনা রীতি নেওয়াজ আছে যা ইসলামের অংশ নয়, কিন্তু সোয়াবের আসায় এমন করছে , তাদের মধ্যে তাজিয়া মিছিল একটি । আবার তিন তালাক একসাথেই দেয়াকে জায়েজ মনে করে শত শত বছর মুসলীমরা দু:খ ভোগ করেছে । কিন্তু তালাকের বিধান যে তিন মাসে তিনবার দিতে হবে এটাই কোরানের সুস্পষ্ট বিধান ।

সংস্কার নিয়ে আলোচনা এজন্য করছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাম্প্রতি বলেছেন মুসলীমদের তিন তালাক নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে । আসলে তার ঘোষণা কি তা তাকেই ভাল করে পরিস্কার করতে হবে । মুসলীম ধর্মের সংস্কারক তাকে হলে চলবেনা । তার উচিত হবে তালাকের সঠিক বিধান কি তা মুসলীম উলামাদের সাথে বৈঠক করে জেনে নেয়া এবং তার প্রেক্ষিতে আইনের কোন সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করা ।

কোরানে যেটা সঠিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আছে তা নিয়ে কোন বিরোধ না করাটাই উত্তম হবে তার । এমন হতে পারে এক সাথে তিন তালাক নিষিদ্ধ করে আইন করা যেতে পারে কেননা, এতে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান আছে । কিন্তু মুসলীম পুরুষেরা তিন তালাক দিতে পারবেনা , এমন আইন করার চেষ্টা মুসলীমরা মেনে নিবেনা ।

তালাক বিষয়ে বড় বড় মুসলীম দেশের আইনকে ফলো করা উচিত হবে , যেমন ইন্দোনেশিয়া । ইন্দোনেশিয়াতে তালাক সম্পর্কে যে আইন আদালত থেকে ধার্য করা হয়েছে, তা তাদের জাতি এক বাক্যে মেনে নিয়েছে । কিন্তু একই আইন ইন্দোনেশিয়ার আদালতের রায়ের ২.৫ বছর আগে বাংলাদেশ উচ্চ আদালত দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই আইন না মানতে বড় বড় হরতাল মিছিল সমাবেশের মত ঘটনা ঘটেছে । এবং সেই রায়কে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে মুসলীম সকল দলের পক্ষ থেকেই । অথচ ইন্দোনেশিয়াতে, তারাও যে মুসলিম আমরা বাংলাদেশিরা সেই মুসলিম । কিন্তু তারা মানতে পেরেছে সহজেই , আমরা মানতে পারিনি।

সুতরাং, এমন রায় দেয়া বা আইন করার আগে অনেক গবেষণা দরকার, বিভিন্ন নথিপত্র এবং মুসলিম উলামাদের মতামত নেয়া দরকার। সেটা দেশি হোক বা বিদেশি। নরেন্দ্র মোদীর তালাক বিষয়ে বকৃতায় ভারতে দারূণ হৈচৈ পড়েছে বলেই আমার এই মতামত প্রকাশ করলাম । মোদীকে মুসলিম পক্ষ বাদে সকল পক্ষ সমর্থন করছে, রাজনৈতিক থেকে শুরু করে হিন্দু ধর্মগুরুরা । কিন্তু বিষয়টা মুসলিমদের, তাই মুসলিম পক্ষকে নিয়েই করতে হবে। তাদের ব্যাখ্যা শুনতে হবে এবং বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের তালাক সংক্রান্ত আইনের ডকুমেন্ট দেখাতে হবে।