ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

যারা ১৯৭১ দেখেনি তারা মিয়ানমার দেখো। এভাবেই স্বদেশী সেনা দিয়ে বাঙালীদের উপর অত্যাচার করেছিল। এভাবেই পাক সেনারা বাঙালী মেয়েদের হত্যা ধর্ষণ করেছিল। এভাবেই এলাকা শূণ্য করে ভারতে শরণার্থী বানিয়ে পাঠিয়েছিল যেমনটি রহিঙ্গারা চীনে যাচ্ছে। তবে, পার্থক্য এটুকুই যে, চীনে শরণার্থী হয়েছে মাত্র ৩ হাজার আর আমাদের দেশ থেকে ভারতে গেছে ১ কোটি। মিয়ানমার মেরেছে কয়েক শত, আর পাকিস্তানী সেনারা আমাদের মেরেছে ৩০ লক্ষ। বার্মাতে নারীরা ধর্ষিতা হয়েছে হাজার মহিলা আর আমাদের দেশে ধর্ষিতা হয়েছে ২ লক্ষ। আর, আমাদের বুদ্ধিজীবি, ছাত্র যুবক, মেধাবী যারা মারাগেছে তা অপূরনীয় ক্ষতি।

যারা আজ রোহিঙ্গাদের জন্য কাঁদছো তারা একবার কাঁদো আমাদের সেই সব শহীদদের জন্য যারা বাঙালী হওয়ার অপরাধে মৃত্যুবরণ করেছে, যারা ধর্ষিতা হয়েছে শুধু বাঙালী নারী হওয়ার অপরাধে!

আর বার্মা প্রশাসনের প্রতি যেভাবে ঘৃণা প্রকাশ করছো, সেভাবেই একবার ঘৃণা প্রকাশ করো পাকজান্তা সামরিকদের প্রতি আর আমাদের দেশীয় রাজাকারদের প্রতি যারা আমাদের মা বোনদেরকে ধরে তুলে দিয়েছিল পাক মুসলমান নামধারী সেনাদের হাতে আমদ-প্রমোদের জন্য! তাহলেই কেবল মনের মধ্যে মানবতা জাগ্রত হবে, তাহলেই কেবল দেশভক্তি জাগ্রত হবে। তবেই কেবল নিজেকে প্রকৃত মানুষ মনে হবে। আর এই ধ্যান-ধারণা জাগ্রত হলে কখনোই বাংলাদেশের বিপিএলের মত খেলাতে পাকিস্তানী পতাকা উড়বেনা গ্যালারিতে। কোন রাজাকারের ফাঁসি হলে; হরতাল ভাংচুর হবেনা কোন বাঙালীর দোকানে বা প্রতিষ্ঠানে। কোন মানুষ মরবেনা পেট্রোল বোমার আঘাতে। এসো, বার্মা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়ি নিজেকে, আর তাদের জন্য যেটুকু পারি সাহায্যে এগিয়ে যাই।

— মেহেদী হাসান।
সদস্য, সদর উপজেলা যুবলীগ, জয়পুরহাট।