ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

 

অনেক টাকা খরচ করে এবার জামায়াত-এ-ইসলাম তাদের ছাত্রশিবির কে মাঠে নামিয়েছে , উদ্দেশ্য ইন্টারনেটে কোমলমতি ছেলেদের প্রভাবিত করা ! একএকজন শিবিরের একাধিক নামে রেনামে ইন্টারনেটের সোসিয়াল নেটওয়ার্কে ও ব্লগে একাউন্ট করা আছে , তারা রাতদিন পরিশ্রম করে থাকে ।

এবার তারা নূতন রূপে শুরু করেছে নূতণ কৌশলে জণগনকে তাদের পক্ষ্যে ভেড়াতে । উদ্দেশ্য, জনগণকে দেশাত্ববোধের মরিচিকা দেখিয়ে তাদের মতের সাথে একত্র করা । জনগণকে চকমা দেখিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করা ! যেমনটি, তাদের নেতারা পূর্ব রাজনীতি করেগেছে , ওয়াজ নসিহত করার নামে জনগণকে জামায়াতের পক্ষে নিয়ে আসা কিন্তু তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে , কারণ ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দলটির শুরুথেকে আজ অবধি তাদের ভোট বাড়েনি , মাত্র ৩ % ভোট ! এতবড় লম্বা সময় পার করে , ধর্মে ঢাক বাজিয়ে এখনো তাদের ভোট ৩% এর বেশি নয় । এর মূলে রয়েছে অসৎ উদ্ধেশ্য ।
তাদের নেতাগণ সব সময়ই দ্বৈত-ফেস প্রদর্শন করে এসেছে । মূখে ধর্মের নাম থাকলেও তারা যে আসলেই ধর্মের দল নয় তা জনগণের বুঝতে কস্ট হয় নি ।

তাদের নেতা ও জামায়াত প্রতিষ্ঠাতা নিজেই বলেছেন “নামাজ ইসলামের বনিয়াদ নয়, এগুলো হল ট্রেইনিং মাত্র , আসল উদ্দেশ্য হল ইসলামের শ্বাসন কায়েম করা !” ..। অথচ , শিবির সাধারণ কোমলমতি ছাত্রদের বলে বেড়ায় আমরাই একমাত্র সংগঠন যারা নামাজ না পড়লে দলে রাখি না ! নামাজ না পড়লে মেসে খাবার বন্ধ ! এগুলো হল তাদের একটা কৌশল মাত্র , ছাত্রদের চোঁখে মরিচিকা দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয় ।

জামায়াত নেতারা তাদের উদ্দেশ্য সাধনে যা দরকার তাই করেছে । নারী নেতৃত্ব হারাম বলেও তারা তাদের ইমাম বানিয়েছে একজন নারীকে , আর তার সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে আজ একযুগ হল ! …।

আজ, যখন তাদের অপকর্মের জন্য বিচার চলছে , যখন যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষনেতারা বন্দি ঠিক তখনই নূতন করে জনগণকে তাদের দলে সম্পৃক্ত করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছে । তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢালতে দ্বিধাবোধ করেনা ।

যখন রাজনীতির মাঠ দখল করতে তারা ব্যর্থ তখন এল আরেক অসৎ উদ্দেশ্য ! আর তা হল জনগণকে আবার নূতন করে ভারত বিরোধী সিন্টিমেন্ট জাগানো । তারা এখন আবার সামনে এনেছে ফেলানিকে আর সদ্য ভারতীয় মিডিয়ার প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রকে । এটা ত সাংঘাতি যে ফলানি কাঁটাতারে ৪ ঘন্টা ঝুঁলেছিল , আরও কষ্টের কথা কিছুদিন আগেও একজন গরু ব্যবসায়িকে বিএসএফ উলঙ্গ করে পিটিয়েছে , এগুলো নিন্দাজনক বটে , তবে এটাও বুঝতে হবে আমাদের স্মাগলার রাই এভাবে মরছে , কোন সাধারণ মানুষ কোমই মরে ! এসব হত্যকান্ডের পেছনে বিএসএফের আতি উৎসাহী কিছু জাওয়ান জড়িত । আর এসব ঘটনা কি বিএনপি জমাত সময়ে ঘটেনি ? আজ যেভাবে প্রতিবাদে নেমেছে তখন কেন তারা প্রতিবাদ করতে পারেনি ? তবে আমরা সাধারণ মানুষ তখন এখন বুঝিনা , বুঝি সব সময়ের জন্যই বন্ধ হোক । সাথে বন্ধ হোক আমাদের দেশের থেকে বর্ডার এলাকার অপকর্মের তৎপরতা !!

আজ এক পত্রিকা (আমারদেশ) ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে যেভাবে ভারত মানুষ হত্য করে সেভাবে আর কোন দেশের মানুষ হত্যা হয় না । কথা সত্য কারন আমাদের সীমান্ত সমতল ভুমি আর অবাধ চলাচল , যার মধ্যে স্মাগলিং ! বাংলাদেশ ছাড়া যেসব দেশ আছে সেসব দেশে এমনভাবে স্মাগলিং হয়না । এভাবে বেপড়োয়া হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে কেউ যায়না । কোন কোন দেশ আছে পাহাড়ি যেমন নেপাল , ভুটান তাদের সাথে ত অবাধ চোরাকারবারি হবার সম্ভাবনা নেই । শ্রীলংকা সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত সেখানেও হত্যা হওয়া অসম্ভব । পাকিস্তানে অর্ধ পাহাড়ি এলাকায় সীমানা আর বাঁকি অন্চল কাঁটাতারের বেড়া ! নেপালের সাথে সীমান্ত পাহাড়া নেই । নেপালের রুপি ভারতে ভাতের রুপি নেপালে অবাধে লেনদেন হয় , এমনকি তাদের দুই দেশ যে কেউ যে কোন সময় বিনা ভিসাতেই ঘুড়তে পারে তাদের কোন পাশপোর্ট ভিসা লাগেনা । ভুটান সীমান্তু ও পাহাড়ি এলাকা । যার জন্য ভারতের এলাকাতে বাংলাদেশের সাথে অন্য কোন দেশের তুলনা হয়না ।

এখন আসি বর্তমান ছাত্রশিবিরের চক্রান্তের কথায় । তারা কিছুদিন যাবৎ উঠেপড়ে লেগেছে ভারতীয় বিরোধী সেন্টিমেন্ট গড়তে , উদ্দেশ্য জনগণকে পাকিস্তানি প্রিতি বৃদ্ধি করা । জনগণ যাতে পাকিস্তানি বর্বরতা ভুলে যায় , যাতে ভুলে যায় আমাদের দেশে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে এই জামায়ার নেতৃত্বে পাক সেনারা , ২.৫ লাখ নারির ইজ্বতের দাম তারা ভুলিয়ে দিতে এখন তৎপর । কৌশল ভারত বিরোধী মনোভাব , তবে আমাদের প্রতিবাদ সব সময় সব দেশের অন্যায়ের তবে কেউ ব্লেম-গেম করবে সেটাও হতে দেয়া যায় না ।

শিবির প্রচার করছে ভারতীয় পণ্য বর্জণ করার ! ভাল কথা , দেশি পণ্য ব্যবহার করে ধন্য হতে চাই , কারণ দেশি পন্য ব্যবহার না করলে দেশ স্বনির্ভর হতে পারেনা , ভারত স্বনির্ভর কারণ তারা “স্বদেশী আন্দোলন” করেছিল । তবে তাদের বাস্তবতা আর আমাদের বাস্তবতা কি এক হতে পেরেছে ?

ভারতীয় বর্ডার একদিন বন্ধ থাকলে পিঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায় , ভারতীয় গরু না আসলে ৭০% মানুষ কুরবানী দিতে পারবেনা । ভারতীয় চাল, ডাল , চিনি আমাদের দেশের পন্য দাম স্থিতিশীল রাখে । যদি ভারতীয় পন্য বর্জন করি তবে দেশের প্রয়োজন মিটবে কি ?? আমাদের আমদানি নির্ভর দেশের মত দেশে কি ভারতের পন্য ছাড়া কোন উপায় আছে ? একদিন কেন ছাড়ব , পারলে সারা বছর ছাড়তে রাজি যদি আমাদের পন্য আমাদের চাহিদা মেটাতে সক্ষমতা অর্জন করে , কিন্তু তা এখনো সম্ভব নয়ম, আর ভারত ছাড়া যদি অন্যদেশ থেকে আমদানি করা হয় তবে ত পণ্রের দাম আকাশ ছোঁয়া হবে । শুধু ভারতীয় হিন্দি সিনেমা একদিন বন্ধ করলেই চলবেনা , আসুন আমরা গরুর মাংস, পিয়াজ চিনি ডাল মসলা ছাড়াই রান্না করে খাই ।।। কি সম্ভব ?? না সম্ভব নয় । তাই এগুলো সস্তা সেন্টিমেন্ট দিয়ে রাজনীতি কেন ? জাতীয় সমস্যা ত সমাধান করতেই হবে কিন্তু সেটাও শান্তির উপায়ে অবশ্যই , আমরা বাঙালি শান্তিপ্রিয় । তবে রাজনীতি যারা করতে চাচ্ছেন তাদের বলব কেন আপনাদের সময় এর কোন প্রতিবাদ হয়নি ?? কেন পারেননি সমাধান করতে ??

ভারতীয় চ্যানেল অনেকেই বন্ধ করতে চায়, ভাল । আমাদের অনেক চ্যানেল, তবে তাতে মেধার বিকাশ হবে ত ? জিওগ্রাফি বাংলা, ডিসকোভেরি বাংলা , পিস টিভি বাংলা , এগুলো ঞ্জানের চ্যানের কোথায় পাবেন , ভারত মানেই হিন্দি নয় , যতদিন সুস্থধারার মেধা ভিত্তিক বিনোদন আমরা তৈরি করতে না পারব ততোদিন কি বিদেশি ভাল কিছু ত্যাগ করা সম্ভব ? হিন্দি শিখবনা বলে সিএন চ্যানেল বন্ধ করে কি পাকিস্তানি উর্দু চ্যানেল চালু করে উর্দু শিখতে হবে । স্পোর্স চ্যানেল কি শিবির কর্মীরা ছাড়তে পারবেন ??

যদি বিদেশি চ্যানেল দেখতেই হয় তবে ভারত বাদ কেন ?? দেশি স্বত্বা চ্যানেল যেখানে শুধু খবর আর কিছু নাটক ছাড়া কিছুই নেই , আছে ঝগড়াঝাটির টক্ শো !! আসুন স্বনির্ভর হই, তবে অপরাজনীতি রুখতে ভারতীয় পন্য বর্জনের আগে জামায়াত শিবিরের এইসব অপকর্ম ও কুট কৌশল বর্জন করি !!

***
ফিচার ছবি: Sirajul Hossain এর ফেসবুক থেকে সংগৃহিত