ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করি কেননা তারা এই উদ্দোগ না নিলে আমরা আজ এই বিজয় লাভ করতাম না । এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪০ বছরের মধ্যে এটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিজয় । সমূদ্র অংশের ন্যায্যতা আমরা ফিরে পেয়েছি । আমাদের আধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে । মিয়ানমার চীনের শক্তি ব্যবহার করে আমাদের জলসীমার মধ্যে ঢুকে তেল অনুসন্ধান চালাতো । আজ প্রমাণ হলো শক্তি নয় ন্যায়পথই জয়ের পাথেয় ।

আমাদের দাবি ছিল ১ লাখ ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার, পেয়েছি ১ লাখ ১১ হাজার । শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষেই এলো বঙ্গোপসাগরের সীমানা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার বিরোধ মামলার রায়। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (ইটলস) বুধবার এ রায় দিয়েছে। তিন বছর আইনী লড়াই শেষে বাংলাদেশ তার দাবির চেয়েও বেশি সমুদ্রসীমা পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ যেখানে বঙ্গোপসাগরে এক লাখ সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার কর্তৃত্ব দাবি করেছিল, সেখানে পেয়েছে এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার। ট্রাইব্যুনালের প্রধান জোসে লুই জেসাস বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় রায় পাঠ শুরু করেন। রাত পৌনে আটটার দিকে তার রায় দেয়া শেষ হয়। এ সময় বিচারক ১৫১ পৃষ্ঠার রায় পড়ে শোনান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, “রায় অনুযায়ী মিয়ানমারের সঙ্গে জলসীমায় উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সীমা রেখাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এলাকা এবং মহীসোপান এলাকায় বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ আইনগত অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের বিরাট বিজয়। আমরা যা যা চেয়েছি তা সবই পেয়েছি। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় আমাদের কর্তৃত্ব চেয়েছিলাম। আর আমরা পেয়েছি এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার। এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের ক্ষেত্রে ১৩০ নটিক্যাল মাইলের যে ছেদবিন্দু ছিল সেক্ষেত্রে দুই শ’ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত গমন সুবিধা পেয়েছি। ”

২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর নিজেদের দাবির স্বপক্ষে ইটলসে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ সরকার। উল্লেখ্য, এই সরকারের ক্ষমতায় এসেই সমুদ্র সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন । এটি জননেত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শিতার ফলাফল । এর সাথে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা । এতদিনে বুক ফুলিয়ে গর্ব করার মতো ঘটনা ঘটেছে । আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তিনি নিজেই ১৯৭৪ সালে সমুদ্র জলসীমার আইন করেছিলেন, তাতে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়ে সয়ং ভারতও এমন আইন করতে পারেনি । সেই আইনে দাবি আর সীমানার প্রেক্ষিতে আমরা আজ পেলাম জনকের কন্যার মাধ্যমে ।

বিরোধী দলকে বলবো অন্তত এবার সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে সহযোগিতা দিন , কেননা আপনারা তো মিয়ানমারের বড় বন্ধু ছিলেন তবে কোন সমস্যার সমাধানের কোন উদ্যোগ নেননি । উল্লেখ্য, এই রায়ের কোন আপিল করা যাবেনা , তাই আমাদের এই রায়ই আসল প্রাপ্তি ।