ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অনেকেই হয়ত শিরোনাম দেখে ভাবছেন এটা কেমন শিরোনাম হল ! ছাগলের সাথে আবার ডিজিটালের সম্পর্ক কি !! ?? আসলে ছাগলের সাথে ডিজিটালের সম্পর্ক দেখানে নয় বরং এখানে দুটি ধারার রাজনীতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।

এখানে দেশে দুটি ধারার রাজনীতিবীদদের ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের তাদের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও তাদের নেয়া প্রকল্প তুলে ধরছি । একটি ধরার মধ্যে আছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ আর অপরদিকে বিশ্লেষণ থাকছে বিএনপির ছাগল পালন কর্মসূচি ।

বতর্মান সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তার আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের জনগণকে একটি নির্বাচনী ম্যান্ডেট প্রদর্শন করে যার নাম ছিল “পরিবর্তনের অঙ্গিকার “ বা দিন বদলের সনদ ! রূপকল্প ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ । এমন সময় দেশবাসীকে এই ডিজিটাল রূপকল্প দেখানো হল যখন দেশের ৮০% মানুষ ডিজিটাল কি তা বুঝতো না ! তবুও শিক্ষিত সমাজ আর যুবসমাজ তার ভাবার্থ বুঝতে পেরে এই সনদটি সাদরে গ্রহণ করে নিল আর নেত্রীকে বিপূল ভোটে নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসাল । ডিজিটাল শব্দটির সাথে শেখ হাসিনার নাম জুড়ে গেল , এমনকি বিরোধীদল বিএনপি পর্যন্ত এই শব্দটাকে হাসিনার দেয়া বলে রসিকতা করতে লাগল , আর তারা ডিজিটাল শব্দকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাঙ্গাত্মক প্রচারণা করতে থাকল । তাদের মাথায় কখনও দেশকে ডিজিটাল বানানোর কোন পরিকল্পনা আসেনি বলেই তারা এটা বিরু্দ্ধে কথা বলতো , থাকবেই কেমন করে , বিএনপি তো জনগণকে ছাগল পালন কর্মসূচি দেখাত , যুবকদের ছাগলের খামার করতে বলতো, আর শিক্ষিত ছেলেদের চাকুরি না দিতে পেরে ছাগলের খামার করতে পরামর্শ প্রদান করতো ! যাক সেগুলো পরে আলোচনা করব ।

সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচি গ্রহণ করেন দেশকে টেকনোলজির আওতায় আনতে । কারণ তার ছেলেও আইটি সেক্টরের বিশেষঙ্গ । সজিব ওয়াজেদ জয় হলেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার , তিনি নিজে দলীয় ভাবে শেখ হাসিনার আইটি বিষয়ে উপদেষ্টা , আর তারই প্লান মোতাবেক এগুচ্ছে ডিজিটাল কর্মসূচি । আসুন দেখি সরকার যেসব প্লান হাতে নিয়েছে তার উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ:

১. যেদিন মন্ত্রণালয়ে বসেন প্রযুক্তি মন্ত্রী সেদিনই বিটিআরসিকে লাইসেন্স প্রদান করেন ব্রডব্যান্ড ক্যানেকশন প্রদানের, এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশের গ্রাম থেকে গ্রামান্তর, প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত অপটিকাল ফাইবার ক্যানেকশন দেয়ার যাতে গ্রামের একজন কৃষকও ঘরে বসে কৃষি পরামর্শ ইন্টারনেটের মাধ্যমে পেতে পারেন , যাতে করে গ্রামের একজন ছাত্রছাত্রীও ঘরে বসে ইন্টারনেটে রোজগার করতে পারেন ।

২. ইন্টারনেটকে সস্তায় এবং ছোট প্যাকেজে জনগণের মাঝে তুলে দেবার ব্যবস্থা করেছেন ।

৩. কম্পিউটারকে সহজলভ্য করেছেন , ল্যাপটপকে জনগণের জন্য সহজলভ্য করেছেন । উল্লেখ্য, আওয়ামীলীগ সরকার ১৯৯৬-২০০১ সালে কম্পিউটারকে সহজলভ্য করে দিতে কম্পিউটারের উপর ট্যাক্স ভ্যাট প্রত্যাহর করেছিল । এতে যে দেশ থেকে কম্পিউটার কিনে আনা হয় সেই দেশের তুলনায় আমাদের দেশেই কম্পিউটারের দাম কোম ছিল ।

৪. দেশি প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা দোয়েল নামক ল্যাপটপ উৎপাদন করেছেন , যার সর্বনিম্ন মূল্য মাত্র ১০,০০০ টাকা ।

৫. ছাত্রছাত্রীদের হাতে এই দোয়েল ল্যাপটপ বিতরণ করা হবে ।

৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অদূরভবিষ্যতে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাশ করানো হবে , তার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ।

৭. বড়বড় নামিদামী স্কুলের ক্লাস সরাসরি টিভিতে প্রচার করা হচ্ছে । যাতে করে গ্রামের ছেলেরাও শিক্ষা বৈষম্যের শিকার না হোন ।অদূরভবিষ্যতে, স্কুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঢাকার নামিদামী স্কুলের পাঠ্যদান তুলেধরা হবে , সরাসরি ঢাকার শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা পাবে ।

৮.কলেজগুলোতে ২০২১ সালের মধ্যেই মাল্টিমিডিয়ার প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার জন্য প্রযুক্তি পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ।

৯. পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি , এইচএসসি লেভেলে রেজিস্ট্রেশনে অনলাইনে চলছে ।

১০. ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে চলছে । উল্লেখ্য, আমরা আর পেপার পত্রিকাতে ছাত্রলীগের/ছাত্রদলের ভর্তি বাণিজ্য শব্দটি আর খুজে পাইনা ।ভর্তি ব্যণিজ্য সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে ।

১১. সকল কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইট করা হয়েছে । যাতে ছাত্রছাত্রীরা স্বস্বকলেজ থেকে তথ্য পেতে পারে ।

১২. রেজাল্ট ভর্তি তথ্য সমূহ অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে ।

১৩. ই-টেন্ডারিং চালু করা হয়েছে , যাতে করে টেন্ডারবাজি ও টেন্ডার ছিনতাই আর না হয় । এতে করে দলপ্রীতি স্বজনপ্রীতি রোধ হবে ।

১৪. প্রতিটি উপজেলা থানা ইউনিয়ন কে ইন্টারনেট সেবা চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে ।

১৫. উপজেলা পর্যায়ে ও ইউনিয়নে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সরকারিভাবে প্রদান করা হয়েছে ।

১৬. প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাবকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।

১৭. সরকারি ভাবে জেলা তথ্য বাতায়ন সেবা চালু করা হয়েছে ।

১৮. দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যটন কেন্দ্র ঐতিহাসিক স্থান প্রভৃতির ওয়েব সাইট করে প্রচার করা হচ্ছে ।

১৯. সকল মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও বাজেট সহ কাজ সমূহ ইন্টারনেটে তুলে ধরা হচ্ছে ।

২০. মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু হয়েছে । এতে বিদেশে আমাদের কোন প্রোবলেম হবে না ।

২১. এই সরকারের সময় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সাথে যুক্ত হয়েছে । কাজ পুরোদমে চলছে । আর এই সরকার আগের টার্মে (১৯৯৬-২০০১) থাকাকালে প্রথম সাবমেরিন কেবলের সাথে যুক্ত হয় ।

২২. জনতা টাওয়ার যা ছিল এরশাদের কলংক, সেই কলঙ্ক ধুয়ে দিয়ে জনতা টাওয়ারকে আইটি পার্ক ঘোষণা করা হয়েছে । এখানে সফটৃওয়ার তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হবে ।

২৩. গাজিপূরে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হচ্ছে , যেখানে ক্লাশ নেয়া হবে প্রযুক্তিতে , ছাত্রদের প্রত্যেকের একটি করে কম্পিউটার ও টেবিল চেয়ার সংযুক্ত থাকবে , ক্লাশ হবে প্রজেক্টরে । বই থাকবেনা । শুধু ই-বুকেই পড়াশুনা হবে । শিক্ষকগণ নোট দিবেন পেনড্রাইভের মাধ্যমে ।

২৪. দেশে বিভিন্ন স্থানে প্রযুক্তি মেলার আয়োজন চলছে যাতে করে দেশি-বিদেশিদের সাথে তথ্য বিনিময় হয় ।

২৫. হাজার হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এই আইটি সেক্টর থেকেই । এমনিভাবে অনেক প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে ।

২৬. আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (১৯৯৬-২০০১) ৫টি মোবাইল কোম্পানিক লাইসেন্স প্রদান করে , মোবাইলকে সহজলভ্য করে দেয় । উল্লেখ্য, বিএনপি সময়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেনের সিটিসেল ব্যবসা করতো এককভাবে সিন্ডিকেট করে , অন্য কাউকে আসতে দেয়নি বাজারে ।

২৭. বেসরকারি টিভি লাইসেন্স প্রদানও এই সরকারের গত টার্মেরই অবদান , যাতে করে তথ্য মানুষের হাতের নাগালে পৌছে গেছে । অপরদিকে , আমাদের বিরোধীদল বিএনপি ক্ষমতায় থাকে ১৯৯৪ সালে প্রথম সাবমেরিন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবার আমন্ত্রণ পেয়েছিল , কিন্তু তারা সেই নেটওয়ার্ক গ্রহণ করেনি , তারা মনে করেছিল আমাদের সকল তথ্য বিদেশে পাচার হয়ে যাবে , সেই সময় বিনা খরচে আমরা সাবমেরিন নেটওয়ার্ক পেতাম !! সেই সময়ের সরকারের নির্বুদ্ধিতায় আমাদের দেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে ।
২৮। সরকার দেশে প্রথমবারের মত ঐতিহাসিক কাজ করতে চলেছে । বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎখেপনের সিদ্ধান্তে । এতে আমাদের দেশের বিরাট উপকার হবে ।
২৯। ভূমি জরিপ ডিজিটার সিস্টেমে হতে চলেছে ।
৩০। ঘরে বসে থানায় যাতে মামলা করা যায় সেই ব্যস্থা চলছে ।

পরবর্তীতে আমরা যুক্ত হয়েছি আওয়ামী লীগ সময়ে কিন্তু সেটার জন্য অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে । সময় লস হয়েছে ! আজ আমরা ভারতের আইটি রাজধানী ব্যাঙ্গলোরকে টপকে যেতাম । কিন্তু ভারত সেই সুযোগে তাদের অবস্থান গড়ে নিয়েছে । যা আমাদের আর সম্ভব হল না ।

বিএনপি কোন সময়ই প্রযুক্তি খাতে তাদের দূরদর্শিতা দেখাতে পারেনি , যেন প্রযুক্তি বিমূখতা তাদের গ্রাস করে রেখেছিল । তাইত তারা তেমন বেকার সমস্যা সমাধান করতে পারেনি । বেকারদের পথও দেখাতে পারেনি । তারা ছাগল পালনের প্রতি উৎসাহ দেখাত । কেমন করে দেখাত সেটাও বর্ণনা করি :

১. টিভিতে হরহামেশা প্রচার করা হত , “বেকার ভাইদের জন্য সুখবর , সরকার ছাগল পালনে উৎসাহ প্রদান করছে । যারা শিক্ষিত যুবক তারা বেকার না থেকে ছাগল পলন করুণ , ছাগল একটি লাভজনক ব্যবস্থা ! একটি ছাগলের বছরে দু থেকে ৪টি পর্যন্ত বাচ্চা হয় । “

২. ছাগল পালনের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হত ।

৩. ছাগল পালনের ফজিলত বর্ণনা করা হত ।

৪. কোথাও বন্যা হলে ছাগল প্রদান করে বন্যার্তদের মাঝে সাহায্য প্রদান করা হত । এতে দূর্ভোগ বাড়তো কেননা , বন্যায় নিজের খাবার জুটতো না , ছাগলের ঘাস পাওয়াই ছিল সমস্যা ।

৫. কোথাও কেউ দূর্ঘটনায় মারা গেলে বিশেষ করে লঞ্চ-দূর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ২টি করে ছাগল দেয়া হত এক একটি পরিবারকে । এগুলো হল ছাগল পালনের উৎসাহে বিএনপির ভুমিকা!

আমরা তাই জানতে চাই বিএনপি নেত্রী কি ডিজিটাল পদ্ধতিতে অতিষ্ট হয়ে আবার ছাগল পালন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন নাকি এই সরকারের উন্নয়ণ ক্রমধারা বাস্তবায়নের জন্য ঘোষনা দিবেন? বর্তমান বিশ্বে আর ছাগল পালনের জন্য বেকার শিক্ষিত যুবকদের উৎসাহিত না করে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিকেই বেছে নিতে হবে । যাতে করে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের কাছে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বের সাথে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে ।

আমরা আর সেই বিএনপির ছাগল পালন কর্মসূচিতে যেতে চাই না , আমরা চাই সুখি সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ । উন্নত প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় একটি দেশ , ডিজিটাল বাংলাদেশ ।