ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রেলমন্ত্রীর একটি উক্তি থেকে বেশ একটা সম্পর্ক দেখা হয় একটি হল সুরঞ্জিত আর অপরটি হল কাল বিড়াল । জানিনা যে ঘটনাটি ঘটে গেল সেটাই তার কাল বিড়াল কিনা – তবে আমার মনে হয় কোথাও কোন ষড়যন্ত্র চলেছে ! ঘটনা এমন হবে কেন ? আমার সন্দেহের কিছু কারণ আছে , যা থেকে সুরঞ্জিতকে নির্দোষ মনে হয় ,
১। মাত্র ৭০ লক্ষ টাকা একজন মন্ত্রী ঘুষ খাবেন সেটাও কিনা দল বল বেধেঁ ! ৭০ লাখ কত জনের চাকুরির ঘুষের টাকা হতে পারে ?? প্রতিজন একটা রেলওয়ে ডিপার্টমেন্টে যদি চাকুরি নেয় তবে ১০ লাখ কারে দিবেই , তাতে মাত্র ৭ জনেরই ৭০ লাখ টাকা পাওয়ার কথা । আর এক্ষেত্রে একজন মন্ত্রী কি করে ৭ জনের টাকায় নিয়োগ বানিজ্যে হাত বাড়াতে পারে ?

২। মন্ত্রী জড়িত থাকলে টাকার ভাগ-বাটোয়ারা কেন রাস্তায় হবে ? তাতে কেন একজন এপিএসের সাথে ড্রাইভারের দ্বন্দ্ব হবে ? .। মন্ত্রী জড়িত থাকলে সবাই ত মন্ত্রীকে টাকা দিয়েই কত ভাগে পাবে সেই অনূগ্রহে মন্ত্রীরই পথপাণে চেয়ে থাকত ? মন্ত্রীকে পাশ-কাটিয়ে যদি তারা রাস্তায় টাকা ভাগাভাগি করতেই যায় তবে তারা যে মন্ত্রীকে না জানিয়েই টাকার ধান্দায় এমন অপকর্ম করছেনা তারই বা কি প্রমাণ আছে ?

৩। মন্ত্রী জড়িত থাকলে , ডাইভার কখনই গাড়ি পিলখানায় নিয়ে গিয়ে টাকা ধরিয়ে দিতে সাহস করতেন না , এটা নিশ্চিত ।

৪। রাতের ঘটনা, মিডিয়ার জানার কথা নয়, ব্যপারটা গভীর রাতে একটি সংক্ষিত এলাকায়, যেখানে মিডিয়া যেতে পারবেনা , সেই নিউজ ফ্লাস হয় কি করে ? ওখানে ত বিডিআর প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনা স্বীকার করতে রাজিই হয়নি । থানাও একই অবস্থা । তাহলে কি বিরোধী পক্ষের সাংবাদিক আগেই টের পেয়েছিল এমন ঘটনা ঘটবে ? এটা কাদের দেয়া সংকেত ? তাহলে কি ড্রাইভারকে কোন পক্ষ্য আগেই এমন কাজ করিয়ে নেয়ার জন্য ঘুষ প্রদান করেছে কিন ? এটাও মনে ঘুরপাক খাচ্ছে । এমন অনেক প্রশ্ন জাগে , আর তাতে মনে হয় বেচারা সুরঞ্জিতের কুঞ্চি তার বাঁশের চেয়ে বড় হয়ে গিয়েছিল বলেই আজ বাবুর এই দশা ।
তা না হলে , একজন ড্রাইভার এমন দু:সাহস দেখায় যা কল্পনাতেও সম্ভব নয় ! উনি কার বা কাদের কাছ থেকে এতবড় আশ্বাস পেয়েছেন যে তাকে এইকাজ করলে বড় সহায়তা করা হবে । সেটা আর্থিক , আইনগত , এমনকি বড় পোষ্ট ! সেটা খতিয়ে দেখা দরকার । এটা মনেহয় বড় ষড়যন্ত্র ।। সৎ মানুষের পথ সীমাবদ্ধ কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীর পথ প্রশস্থ !! আমার মনে হয় সুরঞ্জিতের বিরুদ্ধে কিছু মহল উঠে পরে লেগেছে । আমরা এমন সত্যবান যুধিস্ঠির মত ড্রাইভার কে দেখেই বলতে পারি উনি নিশ্চয় কারও বা কোন মহল বিশেষের পেইড করা গোলাম । কেননা , এমন নিম্নশ্রেনীর কর্মচারি কিভাবে এমন দু:সাহস করে থাকতে পারে ?? ড্রাইভাররা সাধারণত কালের সাক্ষ্যি হয়ে শুধু নিরব দর্শকের মত দেখেই থাকেন । তার মনে টাকার যখনই লোভ হল আর এমন দু:সাহস দেখাল তখন অবশ্যই ভাবার বিষয় লোভী ড্রাইভার কার কাছে আগেই বিক্রি হয়ে এসেছিল ।
বাবু সুরঞ্জিত কিছু মহলের আগে থেকেই রোষানলে পড়েছেন যখন তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়্যারম্যান হয়েছেন । বিশেষ করে মৌলবাদিরা তাকে দেখতেই পাড়েন না ।
গতকাল সুরঞ্জিত বাবু নিজেই বলেছেন “বছরের পর বছর রেল বিভাগে জমে থাকা দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে সংস্থাটিকে
মুক্ত করতে গিয়েই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, মাত্র কয়েক মাসে দায়িত্ব নিয়েই তিনি রেলকে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। সে কারণে ব্যবসার… লালবাতি জ্বলে গেছে। রেলের এই উন্নতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিপক্ষও তৈরি হয়েছে। চক্রটি খুবই শক্তিশালী দাবি করে সুরঞ্জিত বলেন, তাদের কোনো দল মত নেই। অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে কেবল একজন মন্ত্রীর পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব নয়। তার পরেও যতক্ষণ তিনি এ দায়িত্বে আছেন লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্থির সিদ্ধান্তে পেঁৗছেছেন যে, ওই ঐক্যবদ্ধ চক্র এবং ষড়যন্ত্রকারীদের তৎপরতার অংশ হিসেবেই এপিএস এবং জিএমের ঘটনাটি ঘটেছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনা নিয়ে তুরস্ক রওনা হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছে। পুরনো ঘটনা তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলেও জানান তিনি।”
সুতরাং, ব্যাপারটাই পুরোটাই সাজানো ,… নাটক হয়েছে , উদ্দেশ্য সুরঞ্জিতকে ফাঁসানো !!!