ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আরবিমাসগুলোরমধ্যঅন্যতমগুরুত্বপূর্ণমাসহলমহাররমমাসএবংএইমাসেরমধ্যশ্রেস্টতমদিনহচ্ছেএইমাসের১০তারিখ।বহুবিধ কারনে এই দিনের শ্রেস্টত্ব আমাদের সামনেপরিলক্ষিত হয়।

এই দিনে আকাশ , ভূমি এবং লাউয়ে কালাম নিজের অস্তিত্ব পায়।

এই দিনে আল্লাহ পাক আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) এবং আদি মাতা বিবি হাওয়া (আঃ) কে পৃথিবীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য সৃষ্টি করেন।

এই পবিত্র দিনে আল্লাহ আদম (আঃ) শয়তানের প্ররোচনায় পরে যে ভুল করেছিলেন তার জন্য তার তওবা কবুল হয়। শত শত বছর চোখের পানিতে ভাসিয়ে শেষমেশ যখন রহমাতুলিল্লিল আলামিন মুহাম্মদ (স) তার নামের উছিলায়  তওবা  করেন তখন পরম করুণাময় আল্লাহ উনার ভুল হতে উনাকে অব্যহতি দান করেন। (আলহামদুলিল্লাহ্‌) ।

এই দিনে হযরত নুহ (আঃ) তার আর্ক নিয়ে সহি সালামতে তীরে ভিড়েন।

এই দিনে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ভূষিত করেন। উনার তি্নটি বিশেষ সৎ স্বভাব ছিল। আর তা হল ১। উনি মানুষের সাথে প্রচুর সালাম বিনিময় করতেন ২। উনি গভীর রাতে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন ৩। উনার মেহমানদারী করতে অনেক পছন্দ করতেন ।  আর উনার এই তিনটি বিশেষ গুনের জন্যই আল্লাহ উনাকে খলিলুল্লাহ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

হযরত ইয়াকুব (আঃ) এবং তার পুত্র হযরত ইয়ুসুফ (আঃ) র মধ্য চল্লিশ বছর পর এই দিনে আবার দেখা হয় । ইয়ুসুফ (আঃ) র অন্যান্য ভাইরা মিলে চক্রান্ত করে তাকে ঘর ছাড়া করেছিলেন।

হযরত আইয়ুব (আঃ) কে বহু বছর যাবত আল্লাহ শারীরিক অসুস্থতা দিয়ে  পরীক্ষা নিচ্ছিলেন এবং দিনে আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করেন।

এই দিনে হযরত ইয়ানুছ (আঃ) কে মাছের পেট থেকে আল্লাহ মুক্তি দান করেন।

এই দিনে হযরত দাউদ (আঃ) র তওবা আল্লাহ কবুল করেন।

এই দিনে ক্ষমতাধর সম্রাট যিনে নিজেই একজন নবী ছিলেন , সোলেয়মান (আঃ) তার রাজ্য ফিরে পান। তার রাজ্য তার হাতছাড়া হয়েগেছিল।

এই দিনে হযরত ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ চতুর্থ আসমানে তুলে নিয়েছিলেন।

এই মর্তবাপূর্ণ দিনে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং বিবি খাদিজা (রাঃ)র শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।

এই সেই দিন দিনে এই সুন্দর পৃথিবী যার  মায়ায় আমরা বিভোর , যার টানে আমরা আমাদের  আসল গন্তব্য ভুলতে বসেছি তা ধ্বংস করা হবে। ( কিয়ামত)

এই দিনে হযরত হুসেইন (রাঃ) শহীদদের মর্যাদা পান।

 

মদিনাতে হিজরত করার পর রাসুল (সঃ) দেখতে পেলেন যে জিউসরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তাদেরকে কারন জানতে চাইলে তারা উত্তরে বলেন যে এই দিনে মুসা (আঃ) ফিরাউনের হাত থেকে তার সঙ্গী সাথী সহ মুক্তি পেয়েছিলেন। তার জন্য আমরা এই দিনে রোজা রাখি। মুহম্মদ (স:) উত্তরে বললেন আমরা মুসা (আঃ) র সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। সুতরাং এই দিনে আমাদের ও সাওম পালন করা উচিত। সুতরাং মহারমের ৯ তারিখে এবং ১০ তারিখে রোজা রাখার কথা বলা আছে রত ফরয না তবে এর মর্তবা অনেক বেশি।

হযরত কাতাদা (রাঃ) বলেছেন যে রাসুলুলাহ (সঃ) বলেন যে , আশুরার দিনে যারা রোজা রাখবে আল্লাহ তাদের সবার বিগত বছরের ছোট গুনাহ মাফ করে দিবেন । ( মিশকাত শরিফ , প ১৭৯)

রাসুলুল্লাহ ( সঃ) বলেন , আমি যদি সামনের বছর জীবিত থাকি তবে আমি ৯ তারিখে রোজা রাখব। ( মিশকাত শরিফ , প ১৭৯)

 

কারবালাঃ হযরত হুসাইন ( রাঃ) আমাদের প্রিয় নবী এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) র আদরের কন্যা মা ফাতেমা (রাঃ) র ঘরে  চতুর্থ হিজরিতে তার জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম হযরত আলি (রাঃ) যিনি মুসলিম জাহানের শুধু  খলিফাই ছিলেন না উনাকে জ্ঞানের দরজা বলা হত এবং সেই জ্ঞানের শহর ছিলেন রাসুল (সঃ) নিজেই। হুসাইন (রাঃ)  জন্মের পরে রাসুল (সঃ) নিজে উনার কানে আযান দিয়েছিলেন।  হাসান নামের অর্থ হল সুন্দর এবং হুসেন নামের অর্থ হল সুন্দরের একটি অংশ।  রাসুল (সঃ) হযরত হুসাইন ( রা)কে অনেক বেশি পরিমাণে ভালবাসতেন তাই তিনি তার সাথে অনেক বেশি সময় কাটাতেন। হুসেইন (রাঃ) শিক্ষা দীক্ষায় সব দিক থেকেই একজন যোগ্য ব্যািক্তত্ব হয়ে উতছিলেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা) ছিলেন অন্যতম প্রধান সাহাবী এবং যোগ্য খলিফা। উনার গত হবার আগেই উনি রাজ্যভার উনার ছেলে ইয়াযিদের হাতে দিয়েছিলেন।  উনার এই সিদ্ধান্তে হযরত হুসাইন (রা), হযরত  আব্দুল্লাহ ইবন উমর , এবং আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভিন্ন মত পোষণ করেন। অপরদিকে আমির মুয়াবিয়া মত প্রকাশ করেন যে খলিফা যে সিদ্ধান্ত নিবেন তার বিপক্ষে কারও বিরোধিতা করা উচিত না। কিন্তূ উনার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ পুরোপুরি ভিন্ন রুপ দেখাল। তার শাসনকার্যে মুসলিম কোন নেতাই সন্তুষ্ট ছিল না। উনি মদিনার শাসনকর্তা কে আদেশ দিলেন যে তিন জন তার খলিফা হবার ব্যাপারে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে তাদের সম্মতি নিতে।  হুসাইন (রাঃ) এবং আবুদুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা) মক্কায় চলে গেলেন।  সেখানে কুফা (বর্তমান ইরাক) থেকে অনেক চিঠি আসতে লাগল যারা ইমাম হুসাইন (রা) কে খলিফা হিসাবে দেখতে চায়। ইমাম হুসাইন মুসলিম ইবন আকেল (রাঃ) কে কুফায় পাঠালেন । কুফাতে গিয়ে মুসলিম ইবন আকেল (রাঃ) জানালেন যে সব কিছু আমাদের পক্ষে আছে। ইয়াজিদ যখন দেখল যে কুফাবাসি ইমাম হুসাইনেকে খলিফা হিসাবে দেখতে চাচ্ছে তখন সে তার সেনাবাহিনী পাঠাল এবং কুফাবাসি গাদ্দারি করে মুসলিম ইবন আকেল (রাঃ) কে হত্যা করল। ইমাম হুসাইন চিন্তা করলেন যে আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে তো সঠিক সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন নেয়া উচিত। ইমাম হুসাইন র ছেলে যয়নাল আবেদিন তাকে বলেছিলেন সত্যি পথে চলার জন্য যদি জীবন চলে যায় তো যাবে সেই পথেই চলা উচিত। ইমাম হুসাইন কুফার উদ্দেশ্য যাত্রা করলেন এবং পরে সংবাদ পেলেন যে মুসলিম ইবন আকেল (রাঃ) কে হত্যা করা হয়েছে।

অবশেষে আশুরার দিন আসল । হুসাইন (রা) চার হাজার সেনার মধ্যে শুধু ৭২ জন ছিল আর সবাই চলে গিয়েছিল। হুসাইন (রা) বলেছিলেন যে তোমারা যে যে চাও চলে যেতে পার। আব্বাস (রাঃ) র হাতে পতাকা ধারন করলেন।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে যাবার আগে হযরত হুসাইন (রা) তার সামনে কুরাআন স্থাপন করলেন এবং আল্লার কাছে প্রার্থনা করলেন “ প্রভু আমি সব দ্বিধাতে আপনার উপর নির্ভর করেছি এবং আপনি সব বাধা বিপত্তি দূর করেছেন । আপনি সর্বদা আমার রক্ষক এবং আমি নিজেকে সর্বদা আপনার সামনে আত্তসমারপন করেছি, আপনি ই সব ভালত্বের অধিকর্তা”।  তারপর মাত্র ৭২ জন সেনার সাথে ইয়াজিদ বাহিনির সহস্র সেনার যুদ্ধ শুরু  হল। যুদ্ধে পবিত্র নবী পরিবারে ২২ জন শাহাদাত বরন করেন। ইমাম হুসাইন ও শাহাদাত বরন করেন। মৃত্যুর কোলে ঘুমিয়ে গেলেন রাসুল (স) র প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রাঃ) । যার শরিরে প্রবাহিত হচ্ছে মা ফাতেমা এবং আলি (রাঃ) র রুধির ধারা তাকে কিভাবে অন্যায় প্রতিবাদ করা থেকে রুখতে পারে। পরকালে যাত্রার আগে যুদ্ধের মধ্যে ও তিনি নামাজ কাজা করেন নি। আসুন আমরা সবাই মিলে পবিত্র এই দিনের মর্তবা বুঝে সেই অনুযায়ি আমল এবং আকিদা গড়তে পারি। আমিন । যদি আমার লেখনিতে কোন ভাল কিছু থাকে তবে তা আল্লাহ প্রদত্ত কিন্তু যদি খারাপ কিছু থাকে তবে তা আমার এবং শয়তান প্রদত্ত।