ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

আল্লাহ মানব এবং জিন জাতীকে শুধুমাত্র তার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআন শরীফের এই আয়াতকে ভিত্তি করেই আমরা আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল থাকি। কিন্তু হঠাৎ করেই মনে প্রশ্ন আসল যে আল্লাহর কি কোন দরকার আছে আমাদের ইবাদাতের। এমনটা তো নয় যে আমরা ইবাদাত করলে আল্লহার শান ও মান বৃদ্ধি পাবে। তবে আমাদের ইবাদাতের আল্লাহর কি প্রয়োজন। একজন মানুষ যখন ইসলামিক অনুশাসন মানার সাথে সাথে আধ্যাত্মিকতায় সাথেও সম্পর্কিত থাকবে তখন তার আত্তা কলুষিত হতে পবিত্র হতে থাকবে। পবিত্রতা যার যত বেশি তার পাপ করার প্রবনতা এবং কুসংস্কাের আচ্ছন্ন হবার প্রবণতা ততই কমতে থাকবে। আল্লাহ যখন পৃথিবীতে মানুষ প্রেরণ করবেন তখন ফেরেশতারা বলেছিল যে আপনি কি এমন কতক কে পাঠাবেন যারা পৃথিবীতে দাঙ্গা ফ্যাসাদ  করবে। আল্লাহ ই ভাল জানতেন তাই তিনি মানুষকে এমন ভাবে সৃষ্টি করে পাঠিয়েছেন যাতে তাদের এমন পরিস্থিতির সামনে না পরতে হয়। মানুষ যখন নিজেদের আত্তা পবিত্র করতে পারবে তখন তার দিয়ে সমাজের উন্নতি ছাড়া আর কিছুই হবে না। কয়েকজন মানুষ নিয়ে একটি পরিবার এবং কিছু পরিবার নিয়ে একটি সমাজ। কিছু সমাজ গড়ে তোলে একটি শহর এবং কিছু শহর নিয়েই একটি দেশ। তাই বুঝি বিখ্যাত মনিষী জালালুদ্দিন আল রুমি (রঃ) বলেছিলেন ‘ গতকাল আমি চালাক ছিলাম তাই সারা পৃথিবী পরিবর্তন করতে চেয়েছি , আজ আমি বুদ্ধিমান তাই নিজেকে পরিবর্তন করতে নেমেছি’। লুদ (আ) র সম্প্রদায়কে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন কারন তারা সমাজে ব্যভিচার শুরু করেছিল। তারা নিজেদের প্রতি অত্যাচার এবং আগত নব সম্প্রাদায়কে কলুষতার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।

তাদের এমন অবস্থা হয়েছিল কারন তারা ইসলামিক অনুশীলন এবং আধ্যাত্মিকতা থেকে  অনেক অনেক দূরে ছিল । আমরা সবাই কম বেশি জানি যে মানুষের মধ্যে দুইটি সত্তা আছে। একটি ভাল কাজের দিয়ে ধাবিত করে এবং অন্যটি খারাপ কাজের দিয়ে প্রয়োচিত করে।  প্রতিটি মানুষ সম্পূর্ণ পবিত্র হয়েই পৃথিবীতে আসে। কিন্তু আমাদের কলুষিত সমাজের প্রভাবে আমাদের ভিতর টা পুরাই ঘৃণিত হয়ে যায়। তাই তো আমরা আশরাফুল মাখলুকাত হয়েও ভুলে যাই আমাদের দায়িত্ব এবং করতব্য। মানুষ হত্যা এবং ধর্ষণের মত জঘন্য কাজ করতে একটু ও খারাপ লাগে না। যখন আমরা পবিত্রতা অর্জন করব তখন আমাদের ভাল এবং খারাপের চিরায়িত বিদ্বেষে ভাল সত্তাই জয়ী হবে। স্বাভাবিক ভাবেই সমাজের পরিচালনা বরাবরের তুলনায় অনেক বেশি ভাল হবে। কারন সামাজিক জিব মানুষের আচার আচরণের উপর অনেকটা নির্ভর করে সমাজের পরিচালনা। নিজের মধ্যে কলুষতা দূর করতে আমাদের প্রয়োজন হচ্ছে ইসলামিক শরিয়ার উপর সম্পূর্ণ আমল এবং আধ্যাতিকতার মর্তবাকে কে বুঝা। আধ্যাতিকতা অনুভূতির বিষয় এটা সেই অনুভূতি যা আমাদের খারাপ কে খারাপ বলে চিনতে সাহায্য করবে। ইসলামে আধ্যাতিকতার যথেষ্ট গুরুত্ব আছে বলেই ইমাম গাজ্জালির মত পণ্ডীত যাকে মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ মানা হয় তিনি পথে পথে ঘুরেছিলেন আধ্যাতিকত শিক্ষকের জন্য। জালাল উদ্দিন আল রুমি তার সময়ের খুব বড় মাপের আলেম হয়েও নিজেকে সম্পূর্ণ সপে দিয়েছিলেন শামস তারবেজের কাছে। ইসলামিক অনুশাসন শিক্ষার জন্য আমাদের অনেক উৎস আছে। ইসলাম সম্পর্কিত তথ্যগুলো আমদের নাগালের খুব কাছে। উপরের কথাগুলো আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। যদি ভাল কিছু থেকে থাকে তবে তা আল্লাহ প্রদত্ত এবং যদি খারাপ কিছু থেকে থাকে তবে তার জন্য আমি এবং শয়তান দায়ী। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করন। আমীন