ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
একজন আস্তিকের মতামত!
———————————
অনুরোধঃ পড়ার আগেই সীল মারবেন না দয়া করে, আমি নিতান্তই সাধারণ একজন মানুষ যার জ্ঞ্যান-বুদ্ধির প্রচণ্ড রকমের অভাব!
কোন ব্যাক্তি ‘নাস্তিক’ এ ব্যাপারে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে আমার কোন আপত্তি নেই! অজস্র নাস্তিক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে সুইডেনে যাদের অনেকেই নাস্তিক এবং প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করেন অন্যের ধর্ম বিশ্বাসকে। একসাথে বছরের পড় বছর কাজ করেছি, পড়াশুনা করেছি কখনো বিন্দুমাত্র বৈষম্য অনুভব করিনি। লম্বা দিন থাকায় রোজা না রেখে কাজ করার সময় নাস্তিক কলিগদের প্রশ্নের শিকার হয়েছি যে কেন আমি রোজা রাখলাম না, আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমার ভুলটা! ওরা কিন্তু আমার ধর্মকে কোন দোষ দেয়নি, আমাকে দোষ দিয়েছে আর এতে আমার বিন্দু মাত্র খারাপ লাগেনি বরং নিজের ফেইলর এর জন্য লজ্জা পেয়েছি!
কিন্তু খারাপ লাগে যখন কেউ কেউ ‘মুক্তচিন্তা’ আর ‘নাস্তিকতা’র মুখোশে সরাসরি ইসলাম ধর্মকে দায়ী করে! ধর্মীও চরমপন্থিরা যেভাবে ধর্মটাকে ব্যবহার করে একের পর এক আন্যায় করে যায় তেমনি কিছু ধর্ম-বর্ণবাদীরা ‘মুক্তমনা’ ‘হিউম্যান রাইটস’ নাম নিয়ে একপেশেভাবে ধর্মকে সমালোচনা করে যায়।
বাংলাদেশে ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে উগ্রবাদী চরমপন্থিরা ইসলামের নাম নিয়ে যেভাবে ধর্মের অপব্যবহার করে যাচ্ছে সেটাকে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ধার্মিক মানুষগুলোর বিশ্বাসের সাথে মিলিয়ে ফেলা কি ঠিক হবে? ভারতের ‘শিবসেনা’র সাথে ইসলামিক চরমপন্থিদের কি খুব বেশী পার্থক্য? সব তো একই কাতারেই পরে! তাহলে শিব-সেনাদের জন্য কি পুরো হিন্দু কমিউনিটিকে দায়ী করা ঠিক হবে?
শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের উদাহরন দিতে গেলেই মুসলিম সন্ত্রাসীদের নাম প্রথমে চলে আসে, খুব ভালো ভাবেই জানি কেন আসে! কারণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি অকাজ গুলো ওরাই বেশী করে যাচ্ছে! কিন্তু ওদের দিয়েই কি বৃহত্তর একটা কমিউনিটিকে দোষারোপ করা যায়? বিপরীত ভাবে, অজস্র বিখ্যাত সব মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান…বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ আছেন ছিলেন যারা শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসায় অজস্র অবদান রেখেছেন! তাঁদের ধর্মবিশ্বাসের কি কোনই মূল্য নেই?
ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য করার নাম নাস্তিকতা নয় এবং এটা বাক স্বাধীনতার মধ্যেও পরেনা! মুক্তচিন্তা যদি করতেই হয়; তবে আইনস্টাইন,বিলগেটস,এডিসনের মত মুক্ত চিন্তা করলেই হয়! দেশের দশের উপকার হবে! হিউম্যান রাইটস কি কেবল অধার্মিকদের জন্য? ধর্মবিশ্বাসীদের কি হিউম্যান রাইটস নেই?
‘অ্যান্টি-ইসালামিস্ট’, ‘অ্যান্টি-হিন্দুইস্ম’ আর ‘নাস্তিকতা’র মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত! কারণ ‘অ্যান্টি’ দিয়ে যখন কিছু শুরু হয়ে তখন তা উগ্রতায় পরিণত হয়! গঠনগত সমালোচনা যদি করতেই হয়, যারা ধর্মের অপব্যাবহার করে যাচ্ছে তাঁদেরকে ধর্মের রেফারেন্স দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দেয়া উচিৎ! এভাবে কি নিরপেক্ষ ও গঠনগত সমালোচনার মাধ্যমে অনাকাঙ্খিত ঘাঁত-প্রতিঘাত এড়ানো সম্ভব নয়? বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী! এই দুই এর মধ্যে মতের অমিল আজ নতুন কিছু নয়! গোলমাল’টা শুরু হয় যখন অন্যের বিশ্বাসটা ভুল প্রমাণের জন্য কিছু মানুষ উঠেপড়ে লেগে যায়, যা কেউ কেউ উপেক্ষা করতে পারে না। কারো কলমের এক খোঁচায় কারো মন ভেঙে যায়, আবার কেউ অন্ধ বিশ্বাসের জোরে কারো জীবন কেড়ে নেয়! এই ঘাত প্রতিঘাতের অবসান হোক। একে অন্যের ধর্ম অথবা বিশ্বাসকে (আস্তিকতা অথবা নাস্তিকতা) সম্মান দিতে শিখুক! আমাদের সবার সামাজিক স্বহাবস্থানের কোন বিকল্প নেই, তাই বিতর্কের জন্ম দিয়ে আমাদের সবার ক্ষতি! উন্নয়নশীল একটা দেশে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো ছাড়া অনেক বৃহত্তর বিষয় রয়েছে যেখানে সবার মিলে মিশে মগজ ঢালা উচিৎ!