ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

গতকাল শনিবার আগারগাঁওয়ে ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকের ছাত্রীদের বিক্ষোভের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন প্রথম আলোর তিনজন আলোকচিত্র সাংবাদিক।

বিষয়টি আজকের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সবগুলো সংবাদপত্রে গুরুত্বের সাথে শীর্ষ সংবাদ (লিড নিউজ) হিসেবে আসলেও প্রথম আলো খবরটিকে করেছে ‘সেকেন্ড লিড’!

আশ্চর্য! প্রথম আলোর এমন ভূমিকা কেনো? তা নিয়ে সারাদিন সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলো চাপা গুঞ্জন!

‘বদলে যাও, বদলে দাও’ এবং এ ধরনের দূর্নীতি বিরোধী স্লোগান, ক্যাম্পেইন এবং কর্মকাণ্ডের জন্য প্রথম আলোর একটা আলাদা ব্রান্ড ভ্যালু এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরী হয়েছে সাধারণ জনগনের মধ্যে- একথা মেনে নিয়ে আমরা ঘটনাটিকে আসুন একটু অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি।

প্রথম আলো দূর্নীতির বিরুদ্ধে, অন্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে যেন জীবন্ত যম। সংগত কারনেই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি আজ তাদের শীর্ষ খবর হবার কথা ছিল। পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, নির্যাতিত ফটো সাংবাদিকরা প্রথম আলো পরিবারের সদস্য। সিদ্ধান্ত মোতাবেক এটিকে ফার্স্ট লিড নিউজ করা হবে এটা যেন জানাই ছিল প্রথম আলো পাঠক পরিবারের। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কিন্তু ঘোট পাকিয়েছিল অন্য জায়গায়। আচমকা প্রথম আলোর একটি বিভাগ থেকে বলা হল, যেহেতু অভিযুক্ত পুলিশদের শাস্তি হয়েই গেছে (ঘটনার পরপর অভিযুক্ত সহকারী পুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার), সেহেতু নিউজটি ‘কম’ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই যাবে রোববারের পত্রিকায়!

রোববার সকালে গুজব ছড়িয়ে পড়েন যে, এই ঘটনা জানতে পেরে গতকাল রাত বারোটায় প্রথম আলোর সব আলোকচিত্র সাংবাদিক ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, তড়িঘড়ি করে সামলে নিতে এক সিনিয়ার রিপোর্টারের একপ্রকার চাপের মুখেই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি ‘সেকেন্ড লিড’ করা হয়। এ বিষয়ে এখনো চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রথম আলো ফটো সাংবাদিকদের ভেতর।

যারা বদলে যেতে বলে, যারা প্রথম আলোর ব্যানারে দুর্নীতিবিরোধী সাক্ষরতা অভিযান চালায়, খোদ সেই পরিবারের ভেতরই এই ধরনের বিমাতাসুলভ আচরন কতটুকু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বহন করে?

প্রথম আলো কি তাহলে অন্য বা অন্যান্য কোনো শক্তি বা স্বার্থের ‘মিউচুয়াল ইনডাকশানে’ ভুগছে, যার কারনে খোদ প্রথম আলো পরিবারের সদস্যদের প্রতি ঘটে যাওয়া বর্বর পুলিশি নির্যাতনের খবরটি ‘ফাস্ট লিডের’ দামে বিকোচ্ছে না?

সকল সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ হোক, বন্ধ হোক সাংবাদিক নির্যাতনকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাদি মানসিকতার। সত্যের জয় হোক, জয় হোক সুন্দরের।