ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

index

 

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যার তুলনায় ছাত্রছাত্রীর পাসের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। এছাড়া বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীর পছন্দের বিষয় ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। কারন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট পড়ায়। আর এই সুযোগেই বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার নামে মূলত শিক্ষা বাণিজ্য করেই যাচ্ছে। ইউজিসি -কে ধোঁকা দিয়ে বছরের পর বছর নিজস্ব ক্যাম্পাস না চালু করে ভাড়া বিল্ডিং এ ক্লাস নিয়েই যাচ্ছে।

তবে এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের চটকদার বিজ্ঞাপন আর মিডিয়ার উপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। আর এ কারনেই সঠিক তথ্য বাহিরেই কোন শিক্ষার্থি পায়না। যেমন কিছু দিন আগে একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানমণ্ডিতে অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ক্যাম্পাস না থাকার কারনে শিক্ষার্থিরা ধানমণ্ডি লেককেই ক্যাম্পাস হিসাবে ব্যবহার করছে আর এই প্রতিবেদনে ইউল্যাব, স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে উল্লেখ করলেও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কোন কথা উল্লেখ করা হয়নি।

যদি ধানমণ্ডি লেকে সঠিক পরিসংখ্যান চালানো হয় তবে সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী পাওয়া যাবে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির । ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যায় (প্রায় ১৫ হাজার)

একটি প্রধান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। যাদের ধানমণ্ডিতেই চারটি ক্যাম্পাস আছে কিন্তু কোন ওপেন স্পেস নেই। এছাড়া উত্তারায় একটি ও স্থায়ী ক্যাম্পাস (আশুলিয়া,সাভার) রয়েছে। যদিও ইউজিসি শাখা ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা তা মানছে না, বরং ধানমণ্ডিতে অবস্থিত ক্যাম্পাসগুলোর উপরে ফ্লাট বৃদ্ধি করছে।

বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে যাদের মান ও ক্যাম্পাস সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন অংশে কম নয় বরং গর্ব করার মত। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সংখ্যক সিট থাকলেও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির নির্দিষ্ট সংখ্যক সিট বলে কিছু নেই। যেমন বুয়েটের ৮০০+, নর্থ সাউথ, আহসান উল্লাহ্‌র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ মিলে এক হাজারের মত হলেও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির স্প্রিং ২০১৫ (জানুয়ারি সেশনে) ধানমণ্ডি শাখায় এক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০ টি সেকশনে ৪৫ জন করে মোট ৯০০ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া উত্তরা ও আশুলিয়া ক্যাম্পাসে তো আছেই। তার মানে সরকারি ইউনিভার্সিটির টোটাল যত সিট তার চেয়েও বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক সাবজেক্টে ভর্তি হয়। হচ্ছে। আর এত সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির অন্যতম প্রধান কারণ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমুনিকেশনের শাখা আইইবি-র (ইন্সিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশের) সদস্য আর ওয়েব সাইট রাঙ্কিং এ এগিয়ে থাকা।

কিন্তু ওয়েবসাইট রাঙ্কিং আর ওয়ার্ল্ডে পড়াশুনার রাঙ্কিং যে এক না তা অনেক ছাত্রছাত্রিই বুঝতে পারেনা। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামি কয়েক বছরে দ্বিতীয় বড় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। এত সংখ্যক ছাত্র ছাত্রীর থাকলেও নেই সেই অনুপাতে শিক্ষক। খরচ বাঁচাতে শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে টিএ (টিচার অ্যাসিস্ট্যান্ট) দিয়ে ক্লাস নেয়া হয়। যদিও বিগত ৪ বছরের চেয়ে ফি দ্বিগুন বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেও কাগজে কলমে তাদেরকে স্টাডি লিভ দেখানো হচ্ছে।

তাই আমি মনে করি ইউজিসির উচিৎ প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিষয়ে নিদিষ্ট সংখ্যক সিটের কথা উল্লেখ করা ও সকল প্রকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা যাতে নিশ্চিত হয় তার জন্য পদক্ষেপ নেয়া। সেই সাথে আইইবি (ইন্সিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ) যেন ইচ্ছেমত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন না দেয়, আর নিয়ম না মানলে যেন তার অনুমোদন বাতিল করে।

আর ছাত্র-ছাত্রীর উচিৎ যেন ওয়েবসাইট রাঙ্কিং কিংবা আইইবি -র (ইন্সিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশের) সদস্য আছে কিনা তা না দেখে মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় দেখে ভর্তি হওয়া।