ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

বরাবরে
সম্পাদক
বাংলা নিউজটোয়েন্টিফোর.কম
রগ কাটা, খুন এবং সন্ত্রাসী করার জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের জন্ম!
জনাব,
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
আমি আপনার বহুল প্রচারিত বাংলা নিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর একজন প্রবাসী গ্রাহক। প্রায় কিছুক্ষন পর পর অনলাইন আপডেট দেখি থাকি। আসলে এই রকম অনলাইন পত্রিকা কত প্রয়োজন তা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। তার মধ্যে আপনার এই পত্রিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ন আকর্ষনীয় খবর প্রকাশ করেন বলে পাঠকের আকর্ষনও বেশী।

আপনাদের মত নির্বীক,সাহসী ও স্পষ্টবাদী সাংবাদিকেরা আছেন বলে আজো সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগনের দ্বারে পোঁছানো সম্ভব হচ্ছে। তবে আপনাদের এই অবদান আমি ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করতে চাইনা। আল্লাহ যেন আপনাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম পুরুষ্কার দান করেন।

বর্তমান সময়ে সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা মুখে মুখে সবাই বললেও আসলে এর বাস্তবিকতা ভিন্ন দেখতে পেয়েছি। সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সম্প্রতি নির্যাতিত ও কারাবরন করেছেন উকিলিয়াস এর Julian Assange, আমাদের দেশ এর মাহমুদুর রহমান, শীর্ষ নিউজ এর একরামুল হক এবং সংগ্রাম এর আবুল আসাদ সাহেব সহ এখানে নাম না উল্লেখ করা অসংখ্যক সাংবাদিক। শুধু তাই না সত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন। আমি মৃতদের আত্নার মাগফেরাত,অসুস্থদের আরোগ্য এবং যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সৎ ও আল্লাহকে ভয় নিয়ে কাজ করার তাওফিক মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে কামনা করছি।

Julian Assange কারাবরনের অনুভুতিতে বলেছিলেন প্রত্যেক সাংবাদিকে অন্তত জীবনে একবার কারাবরনের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। আপনি আমার থেকেও হাজার গুনে অভিজ্ঞ। তবে সম্পাদক সাহেব আপনি অবশ্যই অবগত আছেন যে কারা সাংবাদিককে হত্যা,নির্যাতন ও রগ কেটেছে। যারা প্রশাসনে আছেন বা কোন প্রভাশালী মহল। ছাত্র শিবির, মধ্যভিত্ত বা গরীব শ্রেনীর লোকের হাতে সাংবাদিক নাজেহাল হয়েছে এই সংবাদ শুনছি বলে মনে পড়ে না। কেন তারা সাংবাদিককে নির্যাতনের পথ বেছে নিল। কেউ যদি কাহারো বিরুদ্ধে মিথ্যা লিখে তাহলে মামলা করবে, বিচার হবে। মিডিয়া ও সাংবাদিক আইনের উদ্ধে নন। তারা মানুষ তারাও ভুল করতে পারে।

সত্য সংবাদ যেমন প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের সমস্যা তেমনি ইসলামও ছিল প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের সমস্যা। ইসলামের ইতিহাসও আপনি ভালই জানেন। গত ২দিন আগে দেখলাম নাসিক নির্বাচনের প্রার্থী শামীম ওসমান বলেছেন আমি আল্লাহর পরে সাংবাদিকে ভয় পাই। কেন উনি সাংবাদিককে ভয় পাবেন? সাংবাদিকতো কাহারো শত্রু নন বরং সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। মানুষ সবসময় অধিক আগ্রহে যে কোন জিনিস জানার জন্য সংবাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।কুয়েতে আমি দেখেছি মানুষ রাতের ১১ টা/১২ টা (লোকাল সময়) খবর দেখে। আপনি স্বচক্ষে না দেখলে বুঝবেন না প্রবাসীদের মাঝে সংবাদ দেখার কত প্রবণতা । কয়েক দিন আগে ভুমিকম্পের অবস্থা জানার জন্য আমার বাড়ীতে কল করলে বলে যে এখনো এই ব্যাপারে জানেনা। সংবাদ দেখলে বলতে পারবে।

আমি বেশী লিখা পড়া করিনি তাই বেশী কিছু জানা সম্ভব হয়নি। ৯/১১ টুইন টাওয়ার ধ্বংশের ঘটনা এবং পরবর্তী সংবাদ প্রবাহের উপর কিছু দৃষ্টি দিয়ে বুঝলাম যে, মিডিয়া কিভাবে জিরোকে হিরো আর হিরোকে জিরোতে বানায়। এই ক্ষেত্রে বুঝতে পারলাম মিডিয়ার আবদানের পাশাপাশি অপকারিতাও রয়েছে। যেভাবে বিজ্ঞানের আবিষ্কারের উপকারিতা ও অপকারিতা আছে। কিন্তু মিডিয়ার অপকারিতা মিডিয়ার কষ্টকে বিলিন করে দেয় এবং মিডিয়ার প্রতি জন্ম নেয় ঘৃনা, অবজ্ঞা এবং অশ্রদ্ধা। আপনাদের মিডিয়াগুলো যে চাটুকারিতা করে তা একই বিষয় নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা না পড়লে বা টিভির সংবাদ না দেখলে বুঝা খুবই দুরহ ব্যাপার। তবে বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়া মানুষের বুঝতে কোন কষ্ট হয় না যে কোন মিডিয়া কি চাটুকারিতা বা চালবাজি করতেছে।যদি সাংবাদিকেরা একই বিষয়ে সাংঘষিক খবর প্রকাশ করে তাহলে কোন সংবাদটা মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে। তাই দেখা যায় বাংলাদেশের অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে একমাত্র জনপ্রিয়তা হারানো কারনে।

প্রিয় সম্পাদক সাহেব, আমার লেখার মুল উদ্দেশ্য হয়ত বিষয় থেকে বুঝতে পেরেছেন। আসলে আপনার মহামূল্যবান নষ্ট করলাম শুধু এই জন্য যে আপনার পত্রিকায় সবচেয়ে আকর্ষনীয় কলাম “শিবিরের আমলনামা” লিখেছেন্ আমাদের এক অকুতো বীর লেখক আদিত্য আরাফাত। আর আপনি কয়েক কিস্তিতে তা আপনার স্বনামধন্য বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ তিনাকে এবং আপনাকে দীর্ঘজীবি করুক।উনি এমন এক সময় ছাত্র শিবিরের অপকর্ম সাক্ষুস স্বাক্ষী হয়েছেন যখন সরকার জামাত-শিবির নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

জনাব আদিত্য আরাফাত, আপনার লিখা যদি সরকারের কোন প্রভাবশালী মহল পড়ত তাহলে আপনাকে হয়ত লিখায় শান্তি পুরুষ্কার দেওয়া হত এবং সাথে সাথে সরকারের সমস্ত গোয়েন্দা বাহিনীর ডিজি বা অন্য কোন পদে চাকুরী মিলত। দূভার্গ্য আমাদের দেশের যে আপনার মত বীর লিখক প্রশানেরে দৃষ্টি গোচর হয় না।

প্রিয় আদিত্য আরাফাত, আমি দৃড়তার সাথে বিশ্বাস করি আপনি শিবিরের আমলনামা নিয়ে কতৃপক্ষের দরবারের হাজির হবেন যদি আপনি সত্যিকারের মুসলমান হন। অবশ্য কর্তৃপক্ষকে এই আমলনামা জানানো ফরজ। কারন আপনার কাছে প্রমান আছে। আল্লাহ বলেন “

“যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন সাক্ষ্য বর্তমান রয়েছে, সে যদি তা গোপন রাখে, তবে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? (সুরা বাকারা-১৪০)
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর জন্যে সত্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়াও।” (সুরা আন নিসা-১৩৫)

“আমি তোমাদেরকে এক মধ্যমপন্থী জাতি বানিয়েছি যাতে করে তোমরা লোকদের জন্যে সাক্ষী হও আর রাসূলও যেন তোমাদের জন্যে সাক্ষী হন।” (সূরা আল বাকারাহ-১৪৩)
আমি আশা করব আপনি ও সম্পাদক সাহেব আল্লাহর আদেশ মেনে চলেন এবং তাঁর দরবারে জালেম হতে পারেন না।

শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সাহেব, আপনাদের এমন কি কোন রীতি আছে যে, যার যা ইচ্ছা তা বলবে বা লিখতে চাইবে তা আপনারা যাচাই বাছাই না করে প্রকাশ করবেন? আপনি এমন একজন লোকের লিখা ছাপিয়েছেন যার অনুরোধে তার ইমেল এড্রেসটি মুছে দিয়েছেন। এই কি সৎ, সাহসী,নিরেপক্ষ সাংবাদিকের পরিচয়? এই কি প্রমান করে না যে মিডিয়া জিরোকে হিরো বানায় আবার হিরোকে জিরো বানায়? সাংবাদিক ও মিডিয়া লোভে বা আক্রোশে চাটুকারিতার আশ্রয় নিচ্ছে? জনাব আদিত্য আরাফাত বীর বাঙ্গালীর কলঙ্ক। যিনি সত্য লিখবেন আর নিজেকে লুকিয়ে রাখবেন। অন্তত পক্ষে বর্তমান সরকারের সময় উনার এত গোপনে ইঁদুরের গর্ত খোঁজার কথা নয়। বাংলাদেশীরা যদি আদিত্য আরাফাতের মত কাপুরুষ হতো তাহলে ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। মিথ্যার উপর অনেক দিন বেঁচে থাকার চেয়ে সত্যের উপর একদিন বেঁচে থাকা অনেক উত্তম। এটাই হলো প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়। ইসলামের হতিহাস তথা নবী,সাহাবী ও ইসলাম প্রিয় তৌহিদি জনতার আত্নত্যাগ তাই প্রমান করে।

আসলে সম্পাদক সাহেব যুগে যুগে দেখা যায় শোষকের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।প্রায় সবাইকে দেখা শোষিতের বা দূর্বলের বিপক্ষে।অথ্যাৎ তেল মাথায় ঢাল তেল রুক্ষ মাথায় ভাঙ্গ বেল। কারন শোষকের বিরূদ্ধে কলম ধরতে হলে তাকে জান মালের ঝঁকি নিতে হবে। আমি জনাব আদিত্য আরাফাতকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করে বলছি মনীষী ও ইসলামী মনীষীদের জীবনী পড়ে পরে যে কা‍হারো বিরূদ্ধে কলম ধরেন।

শিবিরের আমলনাম পড়ে মনে হচ্ছে তিনি শিবির সম্র্পকে না জেনে শুধু মিডিয়া থেকে কিছু সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোস বা জিদের বশবর্তী হয়ে তিনি শিবিরের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। তার এই লিখার জন্য আল্লাহ তাকে শাস্তি দিন বা পুরুষ্কার করুন সেটা আল্লাহর ইচ্ছা। তবে উনাকে ধন্যবাদ এই জন্য যে উনার লিখা পড়ে শিবির সম্র্পকে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। আমি কখনো ছাত্র শিবিরের মত গোলাপের সংস্পর্শ আসতে পারিনি বলে নিজেকে খুবই হতভাগা মনে করছি।আসলে আদিত্য আরাফাতের মত আমিও ছাত্র জীবনে শিবিরের বিরূদ্ধে অনেক কথা শুনেছি কিন্তু কখনো যাছাই বাছাই করার জ্ঞান হয়নি বা করিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যা ও ম্যানহোলের ভিতর থেকে লাশ উদ্ধার ও পরবর্তী ঘটনা আমার হৃদয় অনুভুতিতে খুব নাড়া দিয়েছে। আন্তজাতিক বিশিষ্ট যুক্তিবাদী ও ইসলামী চিন্তাবিদ ‍ডাক্তার জাকির নায়েক কে আস্ট্রেলিয়াতে লেকচার শেষে প্রশ্ন করা হলো ওসামা বিন লাদেন এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে। তিনি উত্তরে বলেছিলেন যে একজন সন্ত্রাসীর জন্য লাখো নীরিহ নিরাপদ মানুষকে হত্যা করে সে প্রকৃত এবং ১ নাম্বার সন্ত্রাসী।

শ্রদ্ধেয় সম্পাদক ও জনাব আদিত্য আরাফাত আশা করি এই ব্যাপারে দ্বিমত পোষন করবেন না। দোষে গুনে মানুষ। সব দলে ভাল খারাপ লোক আছে। এখন আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন একজন লোককে সবোচ্চ কয়েক জন লোক দ্বারা হত্যা করা হয়েছে? তাহলে কয়েক জন লোকের জন্য সারা বাংলাদেশের লাখো লাখে শিবির কর্মী দায়ী বা ঐ সংগঠনটি দায়ী? যদি তাই হয় তাহলে জাবি ধর্ষনের সেঞ্চুরী করা ছাত্রলীগ নেতার জন্য বাংলাদেশে লাখো ছাত্র কর্মীকে ধর্ষক বলা হবে বা ছাত্রলীগ ধর্ষকের দল? সত্যিকার খুনীকে গ্রেফতার না করে সারা বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিরূদ্ধে চিরুনী অভিযান চালানো কি এই কথা প্রমান করে না ৯/১১ এর মত একই ফাঁদ তৈর করেছে সংগঠনটি বিরূদ্ধে। আপনার লেখায় সেই আমেরিকানদের রেফারেন্স দিয়ে বললেন আমেরিকা নাকি ছাত্র শিবিরকে সন্ত্রাসী লিস্টেট করেছে। বর্তমান মুসলমানের দূরাবস্থা কি এই কথা প্রমান করে না যে মুসলমানের আল্রাহর ভয় থেকে আমেরিকাকে ভয় করে এবং আমেরিকাকে ইমাম বানিয়ে নিয়েছে? আর কখন আমেরিকার বাহ! বাহ! পাবে সেদিকে তাকিয়ে আছে। এই আমেরিকা কি কখনো মুসলমানদেরকে বন্ধ হিসেবে গ্রহন করবে? আপনার লজ্জা থাকা উচিত যারা ৯/১১ পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রসেট ডিকলায়ের করেছিল, যদিও পরে তারা সুর পরিবর্তন কিন্তু ক্রসেটই চালিয়ে যায়। আপনি মুসলমান আমেরিকার দেওয়া মানদন্ডে নাকি কুরআন হাদিছের মানদন্ডে?

প্রিয় সম্পাদক ও জনাব আদিত্য আরাফাত,দেশ স্বাধীন হওয়ার পরদিন থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কোন কর্মকান্ড আপনাদের অজানা নয়। ৭২-৭৫ সাল বঙ্গবন্ধু দেশ শাসন করেছেন। ‍আজকের মত অনেক রাজনৈতিক দল ছিল না। বরং এক দল (বাকশাল) রেখে সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছে। সেই সময়ের কর্মকান্ড কি আপনারা প্রকাশ করে বর্তমান প্রজন্মকে জানাতে পারবেন? ইতিহাস স্বাক্ষী তথা তৎকালীন মিডিয়া, বুদ্ধিজীবি এবং যারা স্বচক্ষে দেখেছেন তারা বলতে পারবেন। ৭২-৭৫ শাসনামলে যতগুলো খুন ও অপরাধ হয়েছে আমার মনে হয় ৭৫-২০১১ শাসনামলে ঐ পরিমান খুন ও অপরাধ সংগঠিত হয়নি।

আপনি ছাত্রলীগের বিরূদ্ধে লিখতে চান না যে প্রসঙ্গটি ”ছাত্র শিবিরের আমলনামা”। কিন্তু আমি আপনাকে ও অত্র সম্পাদক সাহেবের ব্যাপারে দৃড়তার সাথে বলতে পারি, আপনারা অন্তত বর্তমান সরকারের সময় লিখতে পারবেন না। যদি সাহস করে লিখতে যান তাহলে বাংলাদেশ কলম বীর ও জিহাদী সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আপনার লিখায় ছাত্র শিবিরের ব্যাপারে এক পাক্ষিক,আক্রোশ ও বিদ্ধেষপূর্ন তা পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাচ্ছে। কোন সংঘর্ষ যখন হয় দুই পক্ষের কোন না কোন ক্ষতি হয়। কিন্তু আপনি শুধু ছাত্র শিবির বিরোধীদের ক্ষয় ক্ষতি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ছাত্র শিবিরের কোন ক্ষয় ক্ষতি উল্লেখ করেন নি। ‍তাই বলে সম্পাদক সাহেবও অতি আন্তরিকতার সাথে আপনার লিখা বিভিন্ন কিস্তিতে প্রকাশ করে এবং আপনার অনুরোধে আপনার ইমেইল এড্রেসও মুছে দিয়েছেন। পত্রিকায় লিখে নিজেকে কলামিষ্ট বলে জাহির করে ও সরকারের চোখের মনি হওয়ার স্বপ্ন জাগছে। জানিনা আপনার সেই স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবে পরিনতি হবে। তবে
দু’আ করি যেন পূরন হয়।

আসলে আপনাকে ধন্যবাদ দিতে হয় ছাত্র শিবিরের প্রতি আক্রোশ ও বিদ্ধেষ পোষন করতে গিয়ে তাদের ভাল কর্মকান্ডগুলো তুলে ধরেছেন। আপনি লিখেছেন ছাত্র শিবির গরীব ছাত্রদের লেখাপড়া,বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এখন আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করুন আপনারা মুসলমান নাকি? এই কাজগুলো শুধু ছাত্র শিবিরের করার দরকার না মুসলমান হিসেবে সবার দরকার? আপনারা নিজে করতে পারলেন না বরং অন্যেরটাতে দোষ বাহির করার ফন্দি করেছেন।

আল্লাহ বলেন “ মু’মিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই ৷ অতএব তোমাদের ভাইদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে দাও৷ আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতি মেহেরবানী করা হবে(সুরা হুজরাত-১০)”৷

রাসুল(সাঃ) বলেছেন “যারা আল্লাহ জন্য ভালবাসল আল্লাহর জন্য শত্রুতা করল, আল্লাহর জন্য কাহাকে দান করল এবং আল্লাহর জন্য কাহাকে দান করা থেকে বিরত থাকল,সে তার ঈমানকে পরিপূর্ন করল”।
এখন আপনার প্রশ্ন হতে পারে ছাত্র শিবিরের এই ভালবাসা ও দান শুধু তাদের দলে প্রবেশ করার জন্য। আমিও আপনার সাথে একমত। অবশ্যই আপিন কোন না কোন দলে আছেন। এখন বলেন ছাত্র শিবিরের ভাল কর্মকান্ডগুলো মুসলমান হিসেবে আপনাদের পালন করার দরকার আছে কিনা? বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির যে কুরআন ও হাদিসের কথা বলছে সেটা তাদের বাপদাদার সম্পতি নাকি? তাদের জন্য বলা ফরজ আপনার দরকার নেই? আপনাকে শুধু মা বাপ মুসলমানের নাম রেখেছে বলে বাংলাদেশের আদমশুমারী মতে আমি মুসলমান,আমি মুসলমান বলবেন আর মৃত্যুর পর জিয়াফত ও চল্লিশা দিয়ে মিলাদ পড়ালে জান্নাতে চলে যাবেন। এই জন্যই শুধু আল্লাহতালা আপনাকে শ্রেষ্ঠ মাখলুকাতের মধ্যে পাঠিয়ে শ্রেষ্ঠ উম্মতের মর্যাদা দিয়েছেন।

ছাত্র শিবিরের ও জামাত এ ইসলামী সংসম্র্প আমি ছিলাম না। তবে আমি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করলাম যে যারা তাদের বিরোধীত করতেছে তাদেরই ৯০% -৯৫% লোকের কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান নেই। কুরআন হাদিস বুঝা দুরের কথা কুরআন পড়তে পারে না।আমি বাংলাদেশ ও কুয়েত উভয় জায়গায় এই অবস্থা দেখেছি। আশা করি আপনি ও সম্পাদক সাহেব এই আওতায় পড়বেন না।

আপনি যদি মনে করেন ছাত্র শিবিরের মধ্যে খারাপ কর্মকান্ডে জড়িত তবুও আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে মুল সংঠনটি পরিচালিত হয় কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে এবং সেই আলোকে মানুষ গড়ার চেষ্টা করে। ২/১ জনের দোষের জন্য পুরো ছাত্র শিবিরের ব্যাপারে গীবত করা বা কোন মন্তব্য করা অনুচিত।আমেরিকার মতে আজকের বিশ্বে যত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হচ্ছে সবই মুসলমানেরা করতেছে। এখন যদি আপনি বা আমেরিকা বলে যে ইসলাম হলো সন্ত্রাসী ধর্ম! যেই ধর্মে যেই বর্নের হোন না কেন যুক্তির বিচারে ‌এই কথা সঠিক নয়।

সুতারাং আপনাদের অনুরোধ করব না জেনে পত্রিকা বা মিডিয়ার উপর ভিত্তি করে শুধু ছাত্র শিবির নয় যে কাহারো ব্যাপারে মন্তব্য করলে আপনার ঈমানীত্ব নিযে প্রশ্ন দেখা দিবে। বর্তমান মিডিয়ার কথা ১০০% সত্য মনে করলে ঈমান থাকবে না। আপনি একটা বিষয় নিয়ে কয়েকটা পত্রিকা পড়লে আমার কথার সত্যতা পাবেন।

ছাত্র শিবির যে কুরআন হাদিসের কথা বলতেছে সেই কথাটি মুসলমান হিসেবে আমার আপনার মুসলমান হিসেবে সবার বলার দরকার। ছাত্র শিবির বাদ দিয়ে আপনি অন্য নামে ঐ কাজটি চালিয়ে যান হয়তবা ছাত্র শিবিরকে আপনার সহযোগি হিসেবে পাবেন। তাহলে ছাত্র শিবিরের ভুলগুলো সংশোধন করে দেওয়া আপনার পক্ষে সহজ হয়ে যাবে। কারন যে কোন সংগঠনের যারা আছেন তাদের কেউ বা কেউ আপনার ভাই,আত্নীয়। সাংগঠনিক নাম যাই হোক ভাইকে আত্নীয়কে সংশোধন করতে বা সাহায্য করতে আপনার আপত্তি কেন? আপনি চান না যে তিনারা আপনার মত ভাল মানুষ হোক। তাহলে এখনই ছাত্র শিবিরের যোগ দিয়ে তাদের সংশোধন করে দেওয়া আপনার উপর ফরজ। ‍

আপনি লিখেছেন ছাত্র শিবিরের কোন পদ পেতে হলে মওদূদীর জিহাদী বই পড়তে হয়্। আপনার এই কথার দ্বারা প্রমান হলো আপনি মুসলমান,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,ব্যারিষ্টার ও কলামিষ্ট কিন্তু আপনি জীবনে একটি বারের জন্য কুরআন খুলে দেখেন নাই। ‍অথচ ঐ কুরআনকে মানেন বলে আপনার নাম আরাফাত। এখন আপনি বলেন যেই গ্রন্থের কারনে আপনি মুসলমান বলে পরিচয় দিচ্ছেন সেই গ্রন্থ বুঝেন না এমনকি পড়তে পারেন না। আপনাদের মত লোকেরাই মুসলমানের নামে ইসলামের বিরোধীতা করতেছে। জামাত-শিবির আপনাদের মত মুসলমানদের বিদ্ধেষের শিকার। দোষ গুন সব জায়গা আছে। আপনি যদি সত্যিকার লেখক বা মুসলমান হন তাহলে পরবর্তী লিখায় আপনাকে প্রমান করতে হবে জামাত-শিবির থেকে আপনার সংগঠন উত্তম। আমি ও আপনার সংগঠনে যোগ দিব।

জিহাদের কথা যদি কুরআন ও হাদিসে থাকতে পারলে মওদূদী বা অন্য কাহারো বইতে থাকলে সমস্যা কোথায়। আপনি কি মওদূদীর জিহার সম্র্পকিত বইটি পড়ছেন? না পড়লে জামাত-শিবির বিরোধীতার জন্য অন্তত একবার ভালভাবে পড়ে নিবেন।

আপনি শিবিরের উৎপত্তি থেকে শিবিরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড উল্লেখ করেছেন। তাহলে কি রগ কাটা, খুন এবং সন্ত্রাসী করার জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের জন্ম! রগকাটার জন্য কতটি মামলা কোন কোন থানায় হয়েছে তার পরিসংখ্যন দিতে পারবেন? এতগুলোর লোকের রগ কাটল গত ৩২/৩৩ বছরে একটা মামলার বিচারও হয়নি?

সাধারনত কেউ সন্ত্রাসী করলে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় করছে বলে উল্লেখ করা হয়। পত্র পত্রিকার আলোকে তাই প্রমাণিত হয় । এখন আপনি কি বলবেন তাহলে ছাত্র শিবিরকে প্রশাসন সাহায্য করেছে? আপনার মতে শিবিরের মুরুব্বী সংগঠন ”জামাত এ ইসলামী” যারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনো পর্যন্ত ক্ষমত যেতে পারেনি। আর প্রশাসনে জামাত- শিবিরের লোক থাকার প্রশ্ন উঠেনা। প্রশাসন দলীয়করন শব্দটা প্রায়ই পত্রিকায় শুনা যায়। ক্ষমতা যেতে না পারলে দলীয়করন কিভাবে করবে। দেশের বিবেকবান মানুষ যারা জামাত-শিবির বিরোধিতা করেন তাদের কাছে আমার লিখায় প্রশ্ন রাখলাম।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যাকারী ছাত্র শিবিরের বলে আপনার দাবি। এখনো পর্যন্ত ঐ হত্যাকারী কেউ প্রমান করতে পেরেছে শিবিরের কোন জায়গার কর্মী? গত তত্তাবধায় সরকারের আমলে দূর্নীতি দমন কমিশনার বলছিলেন অভিযোগ আনা সহজ কিন্তু প্রমান করা কঠিন। হিংসার বশবর্তী হয়ে অনেক অভিযোগ পত্রিকা থেকে তুলে ধরেছেন। আপনি এবং যেসব পত্রিকার নাম উল্লেখ করেছেন তাদের কেউ প্রমান দিতে পারবেনা। যেসব পত্রিকায় সরাসরি প্রমান ছাড়া সাহসিকতার সাথে জামাত-শিবিরের নাম উল্লেখ করে যে কোন ঘটনা প্রকাশ করে, ঐ সাংবাদিকেরা যদি ঐসব ঘটনার স্বাক্ষী হয় তাহলে সরকার জামাত-শিবিরের সন্ত্রসী কর্মকান্ডের শত শত মামলার নিসপ্তি করে তাদের সাজা দিতে পারে।এখন আপনি চিন্তা করুন ঐ সাংবাদিকেরা জামাত-শিবির জড়িত প্রমাণিত পত্রিকায় লিখতে পারে, কিন্তু কেন কিসের লোভে স্বাক্ষী হয় না। তাহলে কি সাংবাদিকেরা কি চায় জামাত-শিবির সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশটা তলিয়ে যাক?

আপনারা না জেনে না বুঝে কেন শিবিরের পিছনে উপচিয়ে পড়েছেন? শিবিরের ছেলেরা ধর্ষণের সাথে জড়িত নয়, তাই বলে? বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজের মসজিদগুলোতে ফজরের জামাতে শিবিরের ছেলেদেরকে পাওয়া যায়, তাই বলে? যে ছেলেটা মুসলমান হিসেবে জন্ম নিয়েছে অথচ জানেনা মুসলমান কাহাকে বলে, মুসলমানওকাফেরের মধ্যে প্রার্থক্য কি, মুসলামনের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি? সেই ফরজ জিনিসগুলো জানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে, তাই বলে? মদ জুয়া গাঁজা আসরে তাদের কোন ছবি ছাপাতে পারেন না বলে? আপনারাতো সংগঠনের সাথে পরিচিত। বলেন তো নৈতিক চরিত্রের দিক দিয়ে কোন সংগঠনের কর্মীরা এগিয়ে?

আমি এখানে অমেরিকান মেলেটারী ক্যাম্পে কাজ করার সময় একদিন এক আমেরিকান জিজ্ঞেস করল তুমি মুসলমান নাকি অরিজিনাল মুসলমান? আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম মুসলমান আর অরিজিনাল মুসলমানের মধ্যে প্রার্থক্য কি? আমার পাশে একজন পাকিস্তানি কাজ কুরআন পড়তেছিল। তখন সে জিজ্ঞেস করল তুমি কি এই কুরআন বুঝ। আমি উত্তম দিলাম না। তখন তিনি বললেন যে এটা তোমার ধর্ম গ্রন্থ। অথচ তুমি বুঝনা তাহলে তুমি কিভাবে আরিজিনাল মুসলমান হলে? মানে তোমরা মুসলমান তোমাদের বাপ দাদা মুসলমান বলে। এখন আপনি বলুন উত্তরাধিকার সূত্রে মুসলমান থাকার কোন সুযোগ আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে নবীর ছেলে কেন কাফের হয় আবার কাফেরের ঘরে নবীর জন্ম হয়? আপনারা কি এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে খোঁজেছেন?

গত কয়েক বছরের জামাত-শিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রম গভীর ভাবে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যাছাই বাছাই করে দেখলাম জামাত-শিবির ঐ কথাটি জানিয়ে দিচ্ছে যে তোমরা প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরন করো না। আল্লাহ সুরা আল্- ইমরানে ১০২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন ” হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করো৷প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মৃত্যু করোনা“। মতিয়ার রহমান নিজামী পারলামেন্ট ভাষনে বলেছেন যে, বড় দুটি রাজনৈতিক দল যদি তাদের গঠনতন্ত্রে কুরআন হাদিছকে একমাত্র লক্ষ উদ্দেশ্যে নেয় তাহলে জামাত এ ইসলাম বাদ দিয়ে ঐ সব দলে হয়ে কাজ করবেন। মাওঃ আবুল কালাম আযাদ টিভির প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন স্কুলে সিলেবাসে যদি কুরআন হাদিছ অর্ন্তভুক্ত করলে মাদ্রাসা নামের আলাদা প্রতিষ্ঠানের দরকার নেই। চিন্তা করুন আপনাদের এগুলো কি দরকার নেই?

শ্রদ্ধেয় সম্পাদক ও আদিত্য আরাফাত, এভাবে লিখার আগে আমরা বিস্তারিত জেনে শুনে লিখি। নতুবা একদিন আল্লাহ দরবারে অবশ্যই জবাবদিহি হতে হবে। আপনারা যা লিখতেছেন তা গীবত। যদি মিথ্যা হয় বুহতান। যার শাস্তি গীবত থেকেও জগন্য। সংশোধনের জন্য ইসলামে সমালোচনা নিষেধ নেই কিন্তু সমালোচনার নামে ফেৎতা ছড়ানো এবং কাহারো খাটো বা রাজনৈতিক চরিতার্থ করা ইসলামে সম্র্পূর্ন নিষিদ্ধ।
সুতারাং জেনে শুনে লিখেন এবং সংশোধন করে দেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন।**আমীন**

এম, এ, ইসলাম।
কুয়েত
বিঃদ্রঃ- লিখায় বানানগত ভুল হলে শুদ্ধ করে পড়বেন। অসত্য তথ্য বা ভুল লিখে থাকলে সংশোধন করে দিতে ভুল করবেন না।