ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

এইটা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা এবং এই ঘটনা কত যে মর্মান্তিক তা বুঝানো বা সহ্য করার কোন ‍ভাষা নেই। নিহতের রূহের মাগফেরাত ও শোক সম্ভ্রান্ত সমবেদনা জানাই।

আসলে প্রতিদিন এই রকম অহরহ ঘটনা ঘটতেছে। কয়েক দিন আগে চমেক ছাত্র দলের কর্মীকে ছাত্রলীগ নেতারা পিটিয়ে হত্যা করেছে।অথ্যাৎ পক্ষ পতিপক্ষের হাতে সংঘর্ষ খুন,আহত,নির্যাতন,অপহরন এবং হত্যার পর ঘুম করা এখন নিত্য দিনের ঘটনা। কিন্তু আমরা একই সময়ে দেখতে পেলাম অনেক বছর পরে ২/১ সাজা হলেও রাষ্ট্রপতি খুনীদের সাধারন ক্ষমা করে দিচ্ছেন।

আজকের এই রকম পরিস্থিতির কেন? গনতান্ত্রিক দেশে রেজিষ্টারভুক্ত সমস্ত রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার আছে। পরিস্থিতি বলে দেয় যে সেই অবস্থা অন্তত পক্ষে বাংলাদেশের মত গনতান্ত্রিক দেশে নেই। কারন এখানে স্বাধীনতা পর গনতন্ত্রের সংজ্ঞা ছিল “এক নেতার এক দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”।অথচ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মূল সূত্র হলো গনতন্ত্র অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে।তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্টী সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাহলে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে কি গনতন্ত্র ছিল? প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা,খুন করা, নির্যাতন করা,অপহরন করা স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আছে।কেউ বলতে পারবেনা এর শেষ কোথায়।

আজকে সরকারী দল যখন বিরোধী দলে থাকে তখনও তাদের এই রকম কর্মকান্ড চালায় আবার যখন সরকারে আসে তখনও একই অবস্থা। আর এই দলের মন্ত্রী,এম,পি ও নেতা কর্মীদের প্রায় বলতে শোনা যায় বিরোধী দল ও জামাত-শিবির দেশের মধ্যে ধ্বংশাত্ন‍ক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আজকে ঐসব মন্ত্রী,বুদ্ধিজীবি ও সুশীল সমাজ কোথায়। কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেল শুধু সরকারের সমর্থক এক পৌর মেয়র হত্যার জন্য। এখনো এই ধংশাত্নক কাজের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সুতারাং এর থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে যদিও দেশ স্বাধীন হয় আবার এই আওয়ামীলীগই সবচেয়ে বেশী ধ্বংশাত্ন কাজের সাথে জড়িত।

চমেক ছাত্রদলের কর্মী হত্যা, নাটোরে বি,এন,পির উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যা, রাবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী নোমানী হত্যা, ২৮শে অক্টোবরের হত্যা এবং এই রকম অসংখ্যক হত্যার পর কি এই ভাবে ট্রেন পুঁড়ে দিয়েছে।

কেন এই পক্ষ প্রতিপক্ষকে খুন,নির্যাতন কথায় কথায় বলা গনতন্ত্রের উজ্জ্বল দৃড়ান্ত বাংলাদেশ। ক্ষমতার রদবদলে প্রত্যেকে বলে পূর্নভাবে গনতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে। পক্ষ প্রতিপক্ষের এই সংঘাত কি বাংলাদেশের গনতন্ত্র। বাংলাদেশের এক মানবাধিকার নেত্রী বলেছেন বাংলাদেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর আশা করা যায় না। এখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলবেন অতীতের তুলনায আইন শৃঙ্খলা অনেক ভাল। কেন আজকে এগুলো হচ্ছে? কোন একটি ঘটনার পর তদন্ত ছাড়া মন্ত্রীরা বলেন বিরোধী দল ও জামাত-শিবির এই কাজ করেছে। আবার দেখা যায় তাদের সুরে সুর মিলিয়ে কিছু মিডিয়া সরাসরি জামাত-শিবির বা বিরোধী দলকে দায়ী করে হাইলাইট করে খবর প্রকাশ করে।

গতকালের ঘটনার জন্য ঢাকা থেকে বি,এন,পি নেতা খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।যদি উনি দোষী হয় তাহলে কেউ আইনের উদ্ধে নয়। কিন্তু ঘটনার কিছুক্ষন পর বিরোধী একজন নেতাকে গ্রেফতার করে আওয়ামীলীগ সরকার কি প্রমান দেয়নি যে তারা আইনের শাসন থেকে বিরোধী দল দমন শাসন করে যাচ্ছে? নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো পযন্ত ঐ নেতার নামে মামলা হয়নি। যদি মামলা হয় তাহলে বুঝা যেত যে মামলার তদন্তে স্বাথে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিদিষ্ট ব্যাক্তিকে মালমার আগে গ্রেফতার করে প্রকৃত অপরাধী তথা প্রকৃত ঘটনা লুকায়িত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এভাবে অপরাধ কমবে না বাড়বে? ঘটনা যে করুক বিরোধী রাজনীতিককে গ্রেফতার করে শায়েস্তা করা?

নাটোরের,রাবিতে,চমেক সহ অসংখ্য জায়গায় এই রকম বিরোধী দলের যখন নেতা কর্মী হত্যার পর আওয়ামী সরকারী দলের লোকদের নামে নিদিষ্ট করে মামলা করার পরও তো গ্রেফতার করা হয়নি? আমার মনে হয় এই জন্য হয়নি যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের গনতন্ত্র এবং তাহার আদর্শ বাস্তবায়নের খাতিরে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম টুকু দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো বললেও পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। ২০০৯ সালের তুলনায় গত বছর (২০১০) দেশে ৩৮ হাজার ৪২৬টি অপরাধ বেশি হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া এই তথ্যমতে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে ২০০৫ সালের চেয়ে এ সংখ্যা ৭২ হাজার ৫০১টি বেশি এবং সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ২০০৭ সালের চেয়ে ৩৮ হাজার ৩৩৪টি বেশি। গত বছরের তুলনায় এ বছর খুন বেড়েছে ৯৬টি। ২০০৫ সাল থেকে ৭২৩টি খুন বেশি হয়েছে।

সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী গতকাল আমার দেশকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাস্তবে এমন খারাপ পর্যায়ে গেছে যে, এ নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থাও নেই। শুধু বিএনপি আমলেই নয়, অতীতের যে কোনো সময়ের রেকর্ড ভেঙেছে দেশের অপরাধ পরিস্থিতি। এ সরকার তাদের শাসনামলের বিগত সময়েরও সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। চলতি বছর পুলিশ সপ্তাহ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছিল তাতেও দেখা গেছে, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভঙ্গুর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের আইনশৃঙ্খলায়। দেশে মানবাধিকার বলে এখন আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

বিগত ২০১০ সালে দেশে ডাকাতি ২৯১, দস্যুতা ১৩৬৬, খুন-হত্যা ৪৩১৫, দ্রুত বিচার আইনে মামলা ১৬৯২, দাঙ্গা হাঙ্গামা ৯৫০, নারী নির্যাতন ১৫১৩৪, শিশু নির্যাতন ১৪৫৬, অপহরণ ৮৮০, পুলিশের ওপর হামলা ও মারধর ৪৬২, সিঁধেল চুরি ৩১১৪, দুর্ধর্ষ চুরি ৮৫১৩, অস্ত্র ১৭০৩, বিস্ফোরক ১৮৯, মাদক ৫৬২৪৯, চোরাচালান ৯৭৭৬ ও অন্যান্য অপরাধে মামলা হয়েছে ৮৯৪৪৪টি। পুলিশ সদর দফতরে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রেকর্ড তৈরি রয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা অপর দুই মাসের রেকর্ড দেন বিভিন্ন হিসাব করে। এসব রেকর্ডে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের তুলনায় এবার ডাকাতির মামলা কমে বেড়েছে দস্যুতার মামলা। বিগত বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের যে কোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০১০ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনায় আগের বছরের চেয়ে ১৩ হাজার ৯৩০টি বেশি মামলা হয়েছে। বিশেষ করে ইভটিজিং ভয়াবহ ছিল বছরজুড়েই।