ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

ces-polaroid-socia_2785782k

 

সময় ১৯৪৩, পোলারয়েড তখন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্য স্কি গগল, থ্রিডি গ্লাস সহ বিভিন্ন ধরনের চশমা তৈরিতে ব্যাস্ত।  পোলারয়েডের কর্নধার এডউইন ল্যান্ড তার পরিবারের সাথে একদিন অবকাশ যাপন করার সময় তার ৩ বছরের কন্যা তাকে জিজ্ঞেস করলো এখন আমার তোলা ছবিটি আমি কেন দেখতে পারছিনা, ঠিক সেইমুহুর্তে ইন্সট্যান্ট ক্যামেরা উদ্ভাবনের বুদ্ধিটি এডউইন ল্যান্ডের মাথায় এলো।  ১৯৪৮ সালে পোলারয়েড প্রথম ইন্সট্যান্ট ক্যামেরা বাজারে এনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।  সবাইকে তাক লাগানোর পিছনে মূল কারনটি ছিল ছবি তোলার পরপরই তা কোন প্রকার প্রিন্টার ছাড়াই ক্যামেরাটি স্বয়ং নিজে তা কাগজে ছাপাতে সক্ষম ছিল।  এরপর পোলারয়েডকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হইনি, একের পর এক দুর্দান্ত ক্যামেরা তারা উপহার দিয়েছে।  এবার তারা নিয়ে এসেছে সোসালম্যাটিক ক্যামেরা যা ছবি তোলা প্রিন্ট করার পাশাপাশি এর অ্যান্ড্রয়েড ইন্টারফেস, ওয়াইফাই ও ব্লু টুথ এর সাহায্যে ছবি সহজেই শেয়ার করা যাবে।  এবার আসি আসল কথায়, যে কারনে এটি সবাইকে অবাক করেছে, এটি একটি কালিবিহীন পোলারয়েড অর্থাৎ ছবি ছাপাতে ক্যামেরায় কোন প্রকার কালির প্রয়োজন হয়না।  জিরো ইঙ্ক সংক্ষেপে জিঙ্ক নামে একটি নতুন প্রযুক্তি এতে ব্যবহৃত হয়েছে।  কালার কার্টিজ, রিবন, টোনার এসবকিছু ছাড়াই তাৎক্ষণিক ভাবে রঙিন ছবি ছাপাতে সক্ষম ক্যামেরাটি।  এই প্রযুক্তির মৌলিক ধারনাটি সাধারন হলেও এক্ষেত্রে তা খুব অসাধারনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।  ক্যামেরাটির আসল রহস্যটি লুকিয়ে আছে এর কাগজে।

popup_s1(1)

 

 

মানুষের চুলের চেয়েও কম পুরু এই কাগজটি দেখতে সাধারন কাগজের মত মনে হলেও এটিতে পাঁচটি স্তর রয়েছে।  নির্দিষ্ট তাপের ফলে কাগজের স্তরে স্তরে গাঁথা রঙের অনুগুলো সক্রিয় হয়ে কাগজের উপর ভেসে উঠে এবং একটি সম্পুর্ন রঙিন ছবি তৈরি হয়।  কাগজের বাইরের স্তরে থাকা পলিমারের প্রলেপ পানি, আদ্রতা, অতি বেগুনী রশ্মি, ছিড়ে যাওয়া ও বিবর্ণ হওয়া থেকে ছবিকে রক্ষা করে।  সামনে ১৪ মেগাপিক্সেল ও পিছনে ২ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরাতে আরো আছে সাড়ে চার ইঞ্চি টাচস্ক্রিন, ৪ জিবি স্টোরেজ, জিপিএস, ফ্ল্যাশ, এসডি কার্ড স্লট ও স্টেরিও স্পিকার।  আরো আছে সামনের স্ক্রিনে কিউআর কোড মুড এসিস্ট্যান্ট।  ক্যামেরাটির বর্তমান বাজার মূল্য ৩০০ ইউএস ডলার।