ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

জানুয়ারি মাসটা কেমন যেন আনন্দ আর হৈ-হুল্লোরড়র মধ্যে যাচ্ছে। মাসব্যাপী ধর্ষণযজ্ঞ, বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি, মশলা স্প্রে’র প্রবর্তন, বিপিএল এর দ্বিতীয় আসরসহ নানাবিধ আমেজের মধ্যে শেষ হতে চলল জানুয়ারি।
মাসের পুরোটা জুড়েই ছিল রসময় ধর্ষণের খবরে ভরপুর। সংবাদমাধ্যমগুলো এমনভাবে ধর্ষণের খবর প্রকাশ করে যা সত্যিকারের ধর্ষণকে কাগজে-কলমে আরেক দফা ধর্ষণ করার মত। সত্যিই রসময়! শীতে খেজুরের রস শহুরে এলাকায় পাওয়া না গেলেও ধর্ষণের রসাল খবর পাওয়া গেছে গোটা দেশব্যাপী। এ মাসটাকে রসময় করে তুলতে নিরলস শ্রম গেছে ঐ সকল ধর্ষকদের এবং তার সাথে ৫ বছরের কণ্যাশিশু থেকে শুরু করে বয়স্কা নারীর সম্ভ্রম। এমনকি প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি।

এদিকে মওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায়ে দেশবাসী ছিল আনন্দিত। তবে বাচ্চু রাজাকার বর্তমান ধর্ষকদের জন্য এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কেননা একাত্তরে বাচ্চু ধর্ষণের বেশ কয়েকটি মাইলফলকও গড়েছেন। শিশ্ন যখন আছে, যোনীর সন্ধান সে করবেই। ইহাই সহিহ হাদিস। এ বাক্য মনে প্রাণে পালন করে ঐ সকল নরপশুদের তাণ্ডবলীলা চলেছে নানাবয়সী নারীদের উপর।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘পেপার স্প্রে’ প্রবর্তন জাতির জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি। তা নিয়ে জনসাধারণও কোন বাক্য ব্যয় করতে পারবে না। এতে মরিচের দাম আরো কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেদিকে আর গেলাম না।

বিপিএল এর দ্বিতীয় আসর শুরু হলো রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতের পিণ্ডির শ্রাদ্ধ করে। বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পীর কণ্ঠে উর্দু গানের কলতানে মুখরিত হল ঢাকা, আর তা সরাসরি উপভোগ করল দেশবাসী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে জমকালো করে তোলার জন্যে পাকিস্তান থেকে উড়িয়ে আনা হলো আতিফ আসলামকে। হিন্দি আর উর্দু মিলে ধর্ষণ করলো বাংলা আর বাংলা ভাষাশহিদদের। এভাবেই ছিদ্রান্বেষণের নিমিত্তে শিশ্নগুলো বরাবর এগিয়ে গেছে ছিদ্রগুলোর দিকে। যেখানে ছিদ্র পায়নি, সেখানে জোর করে, কৌশলে ছিদ্র বানিয়ে তবেই ধর্ষণ করেছে।

পরিশেষে জানুয়ারি মাসকে ‘ধর্ষণের মাস’ বা ‘রসময় মাস’ বলে সরকার ঘোষণা করতে পারে। এতে জাতিগতভাবে আমাদের পরিচিতি উজ্জ্বল হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম এই নামকরণের ইতিহাস জানতে বই-পুস্তক পড়বে। এই সুকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁদের প্রজন্মে ধর্ষণের কলা-কৌশলে পরিবর্তন আনবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

জয় বাংলা জয় ধর্ষণ!