ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

25c24438d2c3e0a07e2eb20073d2897b-5a27c0698b6c7

জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ট্রাম্প জেরুজালেম কে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলেন। আরব বা সবচেয়ে বড় মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাধা উপেক্ষা করে ট্রাম্পের এ ঘোষণা ফিলিস্তিন-ইসরাইলের দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরোসনে কতটুকু ভূমিকা রাখবে এটা সময়ই বলে দিবে। তবে ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনের মানুষের বিপ্লবী প্রতিক্রিয়ায় ট্রীম্পের এ ঘোষণা হুমকির মধ্যে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন এক সময়ে এ পদক্ষেপ নিলেন যখন মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নী বিভেদ চরম আকার ধারণ করেছে। ইরান এবং সৌদী আরবের আধিপাত্যের স্নায়ুযুদ্ধ ট্রাম্পকে জেরুজালেমের ব্যাপারে একমুখী নীতি গ্রহণ করতে সহায়তা করেছে বলে মনে হয়।

জেরুজালেমকে মুসলিম/ইহুদিদের তীর্থস্থান হিসেবে ধরা হয়। এই জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিন/ইসরাইলের মধ্যে বছরের পর বছর যুদ্ধ করে আসছে। ফিলিস্তিনের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ছিন্নভিন্ন করে ইসরাইল নামক ইহুদি রাষ্ট্র গঠনে বড় ভূমিকা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ছায়াতলে থেকে ইসরাইল প্রতিদিন ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণকে হত্যা করছে। তাই ট্রাম্পের এমন ঘোষণায় অবাক হওয়ার কিছু নাই। বরং যুক্তরাষ্ট্র তার দ্বিমুখী আচরণ থেকে বের হয়ে আসছে ট্রাম্পের মাধ্যমে। এবার শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ফিলিস্তিন/ইসরাইল রাষ্ট্রের মধ্যে তথাকথিত শান্তিচুক্তি করতে ট্রাম্প বেপোরোয়া হতে পারেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে এবার এগিয়ে আসছ সৌদী আরব। বাতাসের খবর সোদী আরব ইসরাইলের সহায়তায় ইরানকে ঠেকাবার রাস্তা খুঁজছে। এ কথা আমরা সবাই জানি যে ইরান ফিলিস্তিন জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা সংগ্রামে সবসময় সোচ্চার। তারা অস্ত্র/অর্থ দিয়ে গাজা উপত্যকার মানুষদের সহায়তা করেন। এর বড় কারণ হলো ঐ এলাকায় শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বসবাস। তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ফিলিস্তিন জনগণের ব্যাপারে সৌদী আরবের ভূমিকা কি হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তবে আমার মনে হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিশীল করে তুলবে। সৌদিআরব-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বেল্টের বিপরীতে ইরান-তুরস্ক-রাশিয়া বেল্টের উল্থানে আরও একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। যেমনটি আমরা লক্ষ্য করছি সিরিয়ায়। যেমনটা হবে নিরীহ জনগণ মারা যাবে, আর অস্ত্র ব্যবসার মাধ্যমে টাকা আয় করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া।

পরিশেষে এটা বলা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে আরও হুমকির মধ্যে নিয়ে যাচ্ছেন। তার হঠকারি সিদ্ধান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলতে পারে। আর এর জন্য সৌদীআরব বা ইরানের দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা দায়ী। তবে ইতিহাস কেমনভাবে রচিত হবে তা হয়ত সময়ই বলে দিবে।