ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

যখন জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর ক্ষমতা সমান নয়, তখন বিশ্বে আইনের সমতা কি আসতে পারে? পাঁচটি রাষ্ট্র যখন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে জাতিসংঘকে সব অন্যায়ের সূতিকাগার করে রেখেছে, তখন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সত্যি কঠিন।

সর্বশেষ উদাহরণ, আমেরিকার ইসরাইল নীতি। ইসরাইল যখন জেরুজালেমে দিনের পর দিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আবার জাতিসংঘ যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে থামাতে চেয়েছে তখন এক আমেরিকার ভেটোতে সব থেমে গেল!

আমেরিকা বা বাকি শক্তিশালী চারটি রাষ্ট্রের চাওয়া পাওয়ার উপর যখন বিশ্ব শান্তি নির্ভর করে তখন পৃথিবীর কোন না কোন অংশে যুদ্ধ লেগে থাকাই স্বাভাবিক। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র, শান্তি এগুলো আসলে জনগণ দ্বারা নির্ধারিত কোন বিষয় নয়। কতিপয় মানুষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে কিভাবে গণতন্ত্র, শান্তি, দখলদারিত্বের সংজ্ঞা নির্ধারিত হবে।

এই যেমন ভারতে গুজরাট হিমাচলে নির্বাচন হয়ে গেল। কত সুন্দর নির্বাচন। কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন। আবার এরাই দেখা যায় প্রতিবেশী দেশের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বদলে দেয়। তাদের স্বার্থ দ্বারা প্রতিবেশী অনেক দেশের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়।

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর চেহারা পুরো পাল্টে গেছে। নব্য উপনিবেশিকতা একটি দেশের ভূখণ্ড দখল না করেও যেভাবে সাধারণ জনগণ মারছে তাতে যত দুর্ভোগ আসলে সাধারণ জনগণের। সিরিয়াতে আসাদ সরকার কিন্তু ঠিকই টিকে গেল, আর মার খেলো সাধারণ জনগণ! রাজনীতি থেকে রাষ্ট্রনীতি সব জায়গায়ই সাধারণ জনগণ হলো মূল টার্গেট। হয়ত জেরুজালেম ইস্যুতে আমেরিকা পক্ষের সাথে অন্য পক্ষের যুদ্ধ হবে। মার খাবে ঐ সাধারণ জনগণই।

জনগণের চাওয়া-পাওয়া যখন কতিপয় মানুষের খেয়ালিপনায় সম্পৃক্ত তখন জনগণের শান্তি আসতে পারেনা। যতক্ষণ পর্যন্তু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা সমতা না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্তু শান্তি আসতে পারেনা। এই পৃথিবীতে কখনও এই সিস্টেমের মধ্য থেকে এবস্যুলুট শান্তি আসবে এটা আমি কমপক্ষে বিশ্বাস করিনা।

লেখক:

ড. ফজলুল করিম

শিক্ষক ও গবেষক, কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান।

এবং

সহযোগী অধ্যাপক, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ।