ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশে কোন সরকারি দলই বিরোধী দল হতে চায়না। এর অন্যতম কারণ বোধহয় যেভাবেই হোক সব অপকর্মের বিচার বিরোধী দলকেই সহ্য করতে হয়। যার কারণে বাংলাদেশে বিরোধী দলের রাজনীতির আসনে কেউ যেতে চায়না। একবার কেউ নির্বাচিত হলে কোন ভাবেই আর হারতে চায়না। যে করেই হোক ক্ষমতায় থাকার মানসিকতা বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এই ধারা থেকে বের হবার কোন চেষ্টা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আছে বলে মনে হয়না।

কোন দল নির্বাচনে পরাজিত হলেও তাদের বিরাট সংখ্যক সমর্থক থাকে। সংসদে তাদের প্রতিনিধি থাকে। তাদের দায়িত্ব হলো সংসদে যাওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে সহায়তা করা। আবার সরকারের দায়িত্ব হলো বিরোধী দলকে মূল্যায়ন করা। বাংলাদেশে এর কোনটিই কখনও হয়না। সব সময় জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের মাধ্যমে একটা অস্থির পরিবেশ তৈরী করা হয়। এর বড় কারণ হলো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব।

বাংলাদেশে সরকারে থাকাকালীন কেউ কোন অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করে না বললেই চলে। আইনের ফাঁক ফোকরেও তারা বেঁচে যান অবলীলায়। কিন্তু বিরোধী দলকে প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হয় আইনের মারপ্যাঁচ। আইনের সমতা নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশে দলগুলোর মধ্যে সবসময় নির্বাচন ভীতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

আমাদের একটি সহনশীল রাষ্ট্র দরকার। দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বোঝাপড়া আরও চমৎকার হওয়া জরুরী। আদর্শ/বিশ্বাস জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত কাজের মাধ্যমে। জনগণের ম্যান্ডেটকে সবসময় সবার মেনে নেওয়া উচিত। এইসব বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নীতি কথা মনে হলেও গণতান্ত্রিক উন্নত দেশগুলোতে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

আমেরিকায় ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী ডেমোক্রাটরা এই নিয়ে কিন্তু দিনের পর দিন রাস্তায় নেমে আসেনি। একটা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এ ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। হয়ত ট্রাম্পকে বিচারের আওতায় আনা হতে পারে। কিন্তু তার আগে তার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে কেউ মিছিল মিটিং করছেনা। আবার ট্রাম্প প্রশাসনও বিরোধী দল মোকাবিলায় জেল জুলুমের সংস্কৃতি চালু করেনি।

অন্যদিকে ভারতের বিজেপি সরকার কংগ্রেসে মোকাবিলায় আইন আদালত করলেও আদালত অনেক ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের অনেক নেতাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার গতি প্রকৃতি ঠিক থাকার কারণে বিজেপির মত একটি হিন্দু মৌলবাদী দল ক্ষমতায় থাকার পরেও ভারতকে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি।

ইচ্ছাকৃত হয়রানি করার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এর কোন বিকল্প নেই। যেদিন আমাদের সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা এক টেবিলে বসে দেশের সকল সমস্যা সমাধান করার মানসিকতা তৈরী করতে পারবে, সেদিন আমরা প্রকৃত অর্থে আলোর জগতে প্রবেশ করব। আমরা গড়ে তুলতে পারব সোনার বাংলাদেশ।

লেখক: ড. মো: ফজলুল করিম, সহকারী অধ্যাপক, কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান।

এবং সহযোগী অধ্যাপক, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।