ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

খুব প্রত্যাশিত ফলের বিপর্যয় আমাদের মাঝে মাঝেই বিমর্ষ করে। জীবনের আকাঙ্ক্ষায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। আমরা এর পরের কিছু করবার ইচ্ছাশক্তি হারাতে থাকি। বিশ্বাস করতে থাকি আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবেনা। আমরা নিয়তির ছাঁয়ায় হারিয়ে যেতে থাকি ক্রমে ক্রমে। কিন্তু আমরা জানিনা জীবনের প্রতিটি ভবিষ্যত ক্ষণের পরতে পরতে অন্যরকম হিসাব লুকিয়ে থাকতে পারে।

জীবন অনিশ্চয়তায় ভরপুর একটি রহস্যময় অধ্যায়। বই আর জীবনের মধ্যে পার্থক্য হলো বই পড়ে শেষ করা যায়, কিন্তু জীবনের সবকিছুর জন্য সময়ের উপর নির্ভর করতে হয়। অনেকে আমরা পেছনে ফেলে আসা একটি সময়কে পরম মান ধরে হতাশায় মুসরে পড়ি। যদিও এটা ঠিক আমাদের সবার জীবন মাঝে মাঝে হতাশার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। নানা কারণে এরকম হতেই পারে। তবে এর থেকে বের হয়ে আসবার মত শক্তি অর্জন করা জরুরী।

আমাদের চারপাশে আমরা অনেক বন্ধুদের দেখি তারা হয়ত যা করতে চেয়েছে তা না পারার কারণে জীবনকে উপভোগ করতে ভুলে যায়। হতাশার চাদরে ঢেকে রাখে সবসময়। কিন্তু যা আছে/ ভবিষ্যতে যা অর্জন করতে পারে তার চ্যালেঞ্জ  নিতে একদম পছন্দ করেনা। এভাবে তিলে তিলে কষ্ট পেতে পেতে জীবনের শেষ দেখা পায়।

আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত শুধুমাত্র একবারের জন্য আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি। এখানে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে খুব ভালভাবে জীবন-যাপন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ যে যত বেশি মোকাবিলা করতে পারে সে তত বেশি ভাল থাকে। আর আমার কাছে ভাল থাকাটাই জরুরী।

কথাটি শুনতে খুব স্বার্থপরের মত মনে হলেও ব্যক্তিগতভাবে ভাল থাকা, হাসতে পারার অনেক ভাল দিক আছে। আপনি নিজে যখন ভাল থাকবেন তখন আপনার চারপাশকে আপনি ভাল রাখতে পারবেন। আপনার হাসি মুখের প্রভাব পরিবেশের উপর পড়তে বাধ্য। সবচেয়ে জরুরী বিষয় হলো অতীত ভুলে গিয়ে বর্তমান সময় উপভোগ করা।

আমার কাছে মনে হয় এই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ নিজেকে অসুখী হিসেবে রাখে। তারা কখনই সুখের হাতছানি গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। পেছনের হারানো শোক কে সুখে পরিণত করবার প্রবণতা তারা কেন জানি খুঁজে পায়না। জব সেক্টর থেকে প্রেম/ভালবাসা সব জায়গায়ই যা পায়নি তা নিয়ে হতাশ হবার প্রবণতা বেশি বলেই আমাদের জগত ঈর্ষা/বিদ্বেষে ভরপুর। অথচ যা আছে তা নিয়ে সামনে তাকাবার সাহস কেন জানি আমাদের নেই। সুখে থাকার বড় মন্ত্র হলোই শুধু বর্তমান/ভবিষ্যত বিনির্মান করা। অতীত শোকেসে বন্দী করে রাখার জিনিস। এটা নিয়ে হায়-হুতাশ করে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয়না।

 

লেখক- ড. মো: ফজলুল করিম

সহযোগী অধ্যাপক, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ।