ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

নিজের জনগনকে ভাল রাখা যদি সভ্যতার মানদণ্ড হয় তাহলে ঠিক আছে। আমেরিকা-ইউরোপ-জাপানের মত দেশগুলো সভ্যতার এই মানদণ্ডে নিশ্চয়ই এগিয়ে আছে। কিন্তু সমগ্র বিশ্বচিন্তা করলে এই সমস্ত দেশগুলোর মানসিকতা-সভ্যতা নিয়ে আমার সবসময়ই প্রশ্ন আছে।

প্রতিদিন বোমা হামলায় নিরীহ মানুষ মারার পেছনে যে দেশগুলো দায়ী তার মধ্যে এই দেশগুলো অন্যতম। কেউ সরাসরি যুদ্ধ করে, আবার কেউ পরোক্ষভাবে। কিন্তু এই উন্নত দেশগুলো যারা শিক্ষা-শিল্প প্রসারে এবং গনতন্ত্র প্রসারে ভূমিকা রেখেছে তারাই কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বর জাতি। তাদের প্রত্যক্ষ হা পরোক্ষ ইন্দোনে প্রতিদিন মারা যায় হাজার হাজার মানুষ।

এ বিষয়টি খুব করেই সত্য যে এই দেশগুলো নিজেদের জনগনকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তাদের বেশীরভাগ রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হলো পরের দেশ শোসন করে নিজেদের উন্নয়ন করা। তারা প্রতিনিয়ত রক্ত খেলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় এরকম সবকিছু করে। তাদের এই মনমানসিকতা যদি সভ্যতা হয় তাহলে অবশ্যই তারা সভ্য জাতি।

আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবী কোন কালেই সভ্য ছিলনা। শুধুমাত্র রূপান্তর ঘটেছে এক ফেইজ থেকে আর এক ফেইজে। যারা একচ্ছত্র ডমিনেট করেছে তাদের ভাষায় পৃথিবীর সভ্যতার সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়েছে। একচেটিয়া ডমিনেশনের কারণে মনে হয়েছে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করেছে, কিন্তু প্রকৃত শান্তি পৃথিবীতে কোন কালেই ছিল বলে মনে হয়না। ধর্মযুদ্ধ থেকে শুরু করে যত যুদ্ধ দ্বারা পৃথিবীতে রূপান্তর ঘটেছে তার সবকিছুতেই ঐ রক্তের খেলাই ছিল। এখনও চলছে, তাই অবাক হওয়ার তেমন কিছু নাই। এখন শুধু বিভিন্ন নামে এই যুদ্ধের প্রসার ঘটছে। যে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ হয় সে পৃথিবীর মানুষ সভ্য এটা মানতে সত্যি কষ্ট হয়।

এই পৃথিবীর সাধারন মানুষকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ঐ মানুষগুলোই যারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে। এই হীন এবং নোংরা মানসিকতা সম্পন্ন মানুষেরা নিজের দেশের অথবা পরের দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করে। আবার তারাই হয়ত ধর্মগুরু বা রাষ্ট্রনায়ক। এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই পৃথিবী এ পর্যায়ে এসেছে। এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আগামি দিন চলবে। কোন কালে সভ্যতার আমূল পরিবর্তন হবে এরকম কিছু কেন জানি আমার বিশ্বাস হয়না।