ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আপনি বা আমি যদি কোন সুন্দরী মেয়ে দেখি তাহলে খুবই ভালোলাগা বোধের জন্ম হয়। এই ভালোলাগা হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক-যা বিবর্তন এর সাথে সম্পর্কিত এবং প্রকৃতির ইচ্ছায় এমনটি হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, “মানুষ প্রজাতি টিকে থাকার জন্য প্রকৃতি তার নিয়ম অনুয়ায়ী একটি ছেলের কাছে একটি সুন্দরী মেয়ে খুব সুন্দর লাগে।”

কারণ তার কোমরের হাড় বা পেলভিস ছেলেদের তুলনায় চওড়া হয়। বড় পেলভিস বাচ্চা প্রসব করা ঝুঁকিহীন ও বাচ্চার বেঁচে থাকার সম্ভবনাও থাকে বেশি। আর তাই ছেলেদের চোখে বড় পেলভিস মেয়ে বেশি আবেদন সৃষ্টি করে, এবং খুব সুন্দরী লাগে।

আবার স্তনের আকৃতি বড় এ কারণেও সুন্দরী লাগে যা ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। যা প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফসল। মায়ের দুধের প্রয়োজনীয়তা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা সবারই জানা।

যে মেয়ের গায়ের ঘ্রাণ বেশি বৈচিএ্য ছেলেরা সেই মেয়েকে খুব সুন্দরী ও আপন ভাবে। আমাদের দেহ থেকে প্রতিনিয়ত যে ঘাম বের হয় তা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ জীনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলোর বাহক।

শীলা নামের একটি মেয়ের মারাত্মক “X” রোগের প্রতিরোধক যা তার ঘামের গন্ধ থেকে একটি ছেলে বুঝতে পারে। তেমনি ছেলের “Y” রোগের প্রতিরোধক যা তার ঘামের গন্ধ থেকে একটি মেয়ে একইভাবে বুঝতে পারে। এদের মিলনের ফলে যে সন্তান জন্মাবে সে “X” ও “Y” দুই-রোগেরই প্রতিরোধক হবে। এ জন্যই ছেলেটি বা মেয়েটি উভয়ই আকর্ষণ বোধ করে একে অপরের প্রতি।

তাছাড়া একটি মেয়ে চায় তার সন্তানের বাবা হবে দায়িত্বশীল এবং নম্র ও ভদ্র স্বভাবের। আর এ ধরণের ছেলেই মেয়েদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এটা বিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাক। আমরা এিশ লাখ বছর আগে যদি ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাবো একটি মেয়ে গহীন জঙ্গলে অরক্ষিত অবস্থায় সন্তান প্রসব করছে এবং এ সময় সে অনেক দূর্বল। আদিম এই দূর্গম পরিবেশে তার বাচ্চাটিকে রক্ষার দায়ীত্ব ছেলেটির উপরেই পড়ে।কারণ এটি প্রকাশ করে ছেলেটি কতটা দায়িত্বশীল।

আর আমাদের দেহে কী পরিমাণ ইস্ট্রোজেন বা টেস্টোস্টেরণ হরমোণ আছে তা সময়ে সময়ে দেহের কিছু চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ করে যা দেখে আমরা নির্ধারণ করে নেই আমাদের ভবিষ্যৎ সঙ্গী বা সঙ্গীনী কে হবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আমরা মনের ভাষায় যাকে সুন্দর বা সুন্দরী বলছি তা আসলে আমাদের ক্রোমোজমে অবস্থিত ভারবাহী কিছু জিনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারাবাহিক ফসল মাএ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাকৃতিক ইচ্ছায় এমনটি হয়-যা মানুষ প্রজাতি টিকে থাকার জন্য ভালোলাগা বা ভালবাসা বোধের বিবর্তনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা।