ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

পদ্ম সেতু নির্মাণ ছিল মহাজোট সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আর রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নও এটিই। মহাজোট সরকারের প্রতিশ্রুতি আর দক্ষিণাঞ্চল বাসীর বহুদিনের স্বপ্ন এ দুয়ের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। দেখা মিলেছিল স্বপ্নপূরণের হাতছানির। কিন্তু লোভী ও দুর্নীতিবাজ কিছু ব্যক্তির কারণে প্রায় ধোয়াটে হয়ে আসছিল পদ্মা সেতুর স্বপ্ন। বিশ্বব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেয়া। বিশ্বব্যাংকের দেখানো পথে এডিবির হেটে যাওয়া। সব মিলিয়ে খাদের কিনারায় ছিল পদ্মসেতু প্রকল্প। সেই খাদের পাড় থেকে টেনে আবারো পদ্মা সেতুকে ডাঙ্গায় তুললেন বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করলেন- কারো কাছে মাথা নত নয়। দাঁড়াবো নিজেদের পায়ে। বাঙালী জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরির দৃঢ়তা তো এমনই হওয়ার কথা ছিল।

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার বলিষ্ঠ ভূমিকা আর বাংলার সোনার সন্তানদের বীরত্বে ঠিকই ধরা দিয়েছিল স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে স্বগৌরবে ঠাঁই করে নিয়েছে বাংলাদেশ নামের দেশটি। ঠিক একইভাবে স্বপ্নভঙ্গের শিকার দক্ষিণাঞ্চল বাসির দুচোখ ভরে নয়া আশার আলো দেখালেন শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক আর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবির) পশ্চাৎপদতায় আমরা যতটুকু আশাহত হয়েছিলাম; তার চেয়ে বেশি পুলকিত হয়েছি দেশের টাকায় পদ্মাসেতু করার দৃঢ় প্রত্যয়ের বাণী শুনে। মনে হচ্ছে- ড্রিমস কাম ট্রু।

প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করলেও পদ্মা সেতু নির্মাণ হবেই। প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে তা করা হবে। সেই সঙ্গে জানালেন, নিজেদের অর্থে পদ্মাসেতু কিভাবে নির্মাণ করা হবে তার রূপরেখা সংসদে তোলা হবে। এবং তা এ বছরই। তাঁর এ বক্তব্যের পর এগিয়ে এসেছে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ। বিনিয়োগ সংস্থা। এ যাত্রায় পিছিয়ে নেই সর্বকালের অগ্রগামী প্রতিনিধি ছাত্রসমাজ। দেশের সবাই আজ প্রস্তুত পদ্মা সেতুর জন্য যার যা সামর্থ আছে উজাড় করে দিতে। রোদে পুড়ে ফসল ফলানো গাঁয়ের কৃষক থেকে শুরু করে উঁচুতলার সাহেব; সবাই এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিজেদের অর্থেই হবে পদ্মাসেতু। আমাদের নিজেদের পকেটের অর্থে পদ্মাসেতু হবে এর থেকে আনন্দের আর কী আছে। এখন শুধু প্রতিক্ষা স্বপ্নের বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ার। তবে এক্ষেত্রে ফের কোন অশুভ হাতের ছাপ যেন না পড়ে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি।

মহাজোট সরকারের অর্জন আর ব্যর্থতার মাঝে ব্যবধানটা বেশি হলেও কিছু পদক্ষেপের জন্য সরকারকে অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হবে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আন্তরিকতা এসব মূলে। যার মধ্যে পদ্মাসেতু একটি। তাই তার প্রতি রইলো অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। সেই সঙ্গে, এটাও কামনা করছি তিনি তার দৃঢ় প্রত্যয়ে অনড় থাকবেন। বিশ্ব দাতাগোষ্ঠীর কাছে হাত পেতে নয়; নিজেদের যতটুকু সম্পদ ও সম্ভাবনা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন। আমরা চাই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো হীনমন্যতায় ভোগা দাতা গোষ্ঠীকে দেখিয়ে দিতে- দেখো আমরাও পারি আমাদের মেধা, যোগ্যতার সর্বোত্তম ব্যবহার করে স্বপ্ন ছুঁতে।