ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

এবার অফিস ভাড়ার তদবিরে জড়িয়ে পড়েছেন মহাজোট সরকারের হেভিওয়েট দু মন্ত্রী। নিজের পছন্দের লোককে নামমাত্র ভাড়ায় অফিস পাইয়ে দিতে নিজেরাই নেমে পড়লেন তদবিরে। আলোচিত এই দু মন্ত্রী হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ৪র্থ তলায় অফিস ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, গত ২৯ জুন দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক সকালের খবরে অফিস ভাড়া সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেয় বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাওরান বাজারস্থ হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে বিটিএমসি ভবনের ৪র্থ তলায় ২০৪১ বর্গফুট জায়গা অফিস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হবে। এ জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়ার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই সঙ্গে, জামানত হিসেবে বিটিএমসির অনুকূলে ১০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দিতে বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বেঁধে দেওয়া সময়ানুযায়ী দরপত্র জমার শেষ সময় ছিল ১২ জুলাই বেলা ১২টা পর্যন্ত। একই দিন দুপুর ১২.৩০ মিনিটে দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দিতে গিয়ে দরদাতারা জানতে পারেন অনিবার্য কারণে অফিস ভাড়ার বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করেছে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ। ১২ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক সকালের খবরে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে তারা। তবে কবে নাগাদ পরবর্তী দরপত্র আহ্বান করা হবে; কিংবা আদৌ দরপত্র আহ্বান করা হবে কি না এ সম্পর্কে ওই বিজ্ঞপ্তিতে কিছুই বলা হয়নি। এনিয়ে ভাড়া নেওয়ার জন্য আগ্রহী দরদাতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিএমসি ভবনে অফিস ভাড়া নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করিয়েছেন দু জন দরদাতা। তাদের মধ্যে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে দিয়ে সরাসরি বিটিএমসির চেয়ারম্যান মাহমুদ উল আলমকে ফোন করিয়েছেন। অন্যদিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বিটিএমসির চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পছন্দের লোককে অফিস ভাড়া দেওয়ার জন্য বলেছেন।

জানা গেছে, নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নেওয়ার জন্যই তারা এ ধরনের পায়তারা চালাচ্ছেন। এতে মোটা অংকের আয় হারাবে বিটিএমসি। অথচ দরপত্রের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হলে কয়েকগুণ বেশি আয় হতো ক্রমাগত লোকসানে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটির।

মোজাম্মেল হক নামের এক দরদাতা অভিযোগ করে বলেন, সামান্য একটি অফিস ভাড়ার মধ্যে সরকারের মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপ লজ্জাজনক। এ থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, দেশে এখন তদবির ছাড়া কিছুই হয় না। চাকরি-বাকরি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তদবিরের বিকল্প নেই। এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিএমসির এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রীদের তদবিরের কারণে বিটিএমসি বাধ্য হয়ে অফিস ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি বাতিল করেছে। এনিয়ে বিটিএমসি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বিপাকে রয়েছেন। দু মন্ত্রীর মধ্যে কার অনুরোধ তারা রাখবেন তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বায়ক বিটিএমসির প্রধান প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. ছানাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনটি ঢাকা টাইমসটোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত