ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

এবার অস্থিতিশীলতার দিকে এগুচ্ছে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। নেতৃত্ব নিয়ে ভেতরে ভেতরে চলছে দলাদলি। নেতৃত্ব হাতিয়ে নিতে চলছে পাঁয়তারা। এমনিতেই দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত খাদের কিনারায়।

বিশ্বের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বহির্বিশ্বের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নানা মহলের চক্রান্তের মুখে বর্তমান সরকারের সময়ে বিদেশ থেকে ফিরেছে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক। অন্যদিকে বিদেশে নিয়োজিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর উদাসীনতা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অদক্ষতার কারণে বিদেশে নতুন শ্রম বাজার সৃষ্টি সম্ভব হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন হলেও তেমন কিছুই চোখে পড়েনি। তাই বলতে গেলে, অনেকটা টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে জনশক্তি রপ্তানি খাত।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স তথা প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এককথায় দেশের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ যোগান দেয় রেমিটেন্স। বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব এসে পড়ে দেশের মৌলিক অর্থনীতিতেও। তাই দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে জনশক্তি রপ্তানি খাত যে কতবড় গুরুত্বপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়।

এই যখন অবস্থা তখন, বায়রার নেতৃত্ব নিয়ে কামড়াকামড়ি সত্যিকার অর্থেই গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফল মন্দ বৈ ভাল হবে না। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যত শিগগির সম্ভব এসব চক্রান্তের হাত থেকে জনশক্তি রপ্তানি খাতকে সরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ঢাকা টাইমসটোয়েন্টিফোর ডটকমে। পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

বায়রায় বিভক্তি!

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। বর্তমান কমিটির নির্বাচিত সভাপতি শাহজালাল মজুমদার ও মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরীর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নতুন কাউকে নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এক্ষেত্রে শফিকুল আলম ফিরোজকে (কলাবাগানের ফিরোজ বলে পরিচিত) সভাপতি ও নুরুল আমিনকে মহাসচিব করার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) এমন একজন সাবেক সভাপতি এর নেপথ্যে রয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বায়রার নির্বাচিত ২৭ জন পরিচালকের মধ্যে ১৫ জন পরিচালকের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ছিল। কিন্তু অতি সম্প্রতি বায়রার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিনসহ আরো একজন পরিচালক শফিকুল আলম ফিরোজের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে শফিকুল আলম ফিরোজ, নুরুল আমিন ও বায়রার সাবেক একজন সভাপতি রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকে নুরুল আমিনকে আরো গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়ার অঙ্গিকার করা হয়। বিনিময়ে নুরুল আমিন শাহজালাল মজুমদার ও আলী হায়দার চৌধুরীর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সবমিলিয়ে শফিকুল আলম ফিরোজ গোষ্ঠীর কৌশল হলো নির্বাচিত ২৭ জন পরিচালকের মধ্যে অন্তত ১৪ জন পরিচালক যেন তাদের পক্ষে থাকেন; তা নিশ্চিত করা। আর তা হলে বায়রার নেতৃত্ব তাদের হাতে চলে আসবে বলে মনে করছেন তারা। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে নানা দেন-দরবার চলছে।

মাস দুয়েক আগে শেষ হওয়া বায়রা নির্বাচনে রীতিমত বল প্রয়োগের মাধ্যমে বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশারকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে শেষতক বাশার সমর্থিত প্যানেলই জয়লাভ করে। এতে অসন্তুষ্ট বিরোধী পক্ষ এখন ভিন্ন কৌশলে বায়রার নেতৃত্বে আসতে চাইছে। জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশেই বায়রার নেতৃত্ব হাত রাখা জরুরি বলে এই চেষ্টা চলছে।