ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

হারানো দপ্তর ফিরে পেতে চান সরকারের দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রেল মন্ত্রণালয়ের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার কোন ‘সংশ্লিষ্টতা নেই’ দুদক ও রেলের তদন্ত কমিটির এমন বক্তব্যের পর এখন দপ্তর ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা।

সুরঞ্জিত সেনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় ফিরে পেতে নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। একাধিক তদন্ত কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে ‘নির্দোষ’ প্রমাণিত হওয়ায় আর দপ্তরবিহীন থাকতে চাইছেন না প্রবীণ এই নেতা। এ ব্যাপারে সাবেক রেলমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে-তার মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষকে বসিয়ে রেখে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। কাজের মানুষকে কাজে লাগানোই উচিত বলে মনে করেন তিনি। তাই যতদ্রুত সম্ভব দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চান সুরঞ্জিত। এ ক্ষেত্রে রেল মন্ত্রণালয় না হয়ে অন্য কোন মন্ত্রণালয় হলেও তার কোন আপত্তি নেই বলে জানা গেছে।

গত ৯ এপ্রিল রাতে রেলমন্ত্রী সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ওমর ফারুক তালুকদারের (বরখাস্ত) গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই গাড়িতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইউসুফ আলী মৃধা (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত), তার নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হকও (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) ছিলেন। ঘটনা জানাজানি হলে এপিএস ও রেলের সাবেক জিএম জানান, তারা রাতে মন্ত্রীর বাসা ঝিগাতলায় যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সন্দেহের তীর ছোড়া হয় তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিতের দিকে।
অবশেষে ‘দায়’ মাথায় নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল রেল মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করেন সুরঞ্জিত। সেদিন তিনি বলেছিলেন, রাজনীতিতে এটা আমার যাত্রাবিরতি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে রাজনীতিতে স্বচ্ছভাবে ফিরে আসবো।

সেদিন সুরঞ্জিত মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলেও প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেনি। বরং তাকে রেল মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করে রাখা হয়। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য।

প্রতিবেদনটি ঢাকা টাইমসটোয়েন্টিফোর ডটকমকে প্রকাশিত।