ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

উচ্ছেদকৃত হকাররা শনিবার রাজধানীতে মিছিল করে তাদের পূণর্বাসনের দাবি জানান-
ছবি : মেহরাজ

উচ্চ আদালতের রায়ে রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের কিনার থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে হকারদের। পথচারী ও যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে এ রায় দিয়েছে আদালত। যা অবশ্যই ভাল একটি সিদ্ধান্ত। কারণ, রাজধানীর রাস্তার ধারে, ফুটপাতে কিংবা ফুটওভারে ভ্রামামাণ হাটবাজারের কারনে পথ চলতে ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হয়। কিন্তু এসব হকারদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ আদেশ বাস্তবায়ন করায় কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে।

হকারদের অভিযোগ, রাস্তা থেকে তাদেরকে তুলে দেয়ায় বেঁচাকেনার জন্য জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে কোথাও বসতে পারছেন না তারা। তাছাড়া এদের সামর্থ্য নেই যে, কোন সপিংমল কিংবা সাধারণ মার্কেটে দোকন নিয়ে ব্যবসা করবেন। এতে করে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। হয়তো এদের মধ্যে অনেকের পরিবারকে অনাহারে থাকতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে, কম আয়ের মানুষ, যারা ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কিনতেন তাদেরকেও সাময়িকভাবে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। কারণ, স্বল্প আয়ের মানুষের সাধ্য নেই ঝলমল আলোকসজ্জায় সজ্জিত কোন নামিদামি সপিংমল থেকে কেনাকাটা করা। তাই বলতে গেলে এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই সমস্যায় আছেন।

উচ্ছেদকৃত হকাররা শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে

এদিকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘উচ্ছেদকৃত অসহায় হকার্সবৃন্দ’ সংগঠনের ব্যানারে শনিবার রাজধানীতে মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় তারা সরকারের উদ্দেশে তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শিগগির তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বাস্তবতা বিবেচনায় এনে এসব স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের জন্য রাজধানীতে একটি নির্ধারিত স্থান ঠিক করে দেয়া প্রয়োজন। যেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা বেচাকেনা করতে পারবেন। এতে হকারদের পাশাপাশি ক্রেতারাও উপকৃত হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে শিগগির ফলপ্রসু ব্যবস্থা নেবেন। এমনটাই কামনা করছি।