ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সাল: ৩০ এপ্রিল ২০১৫
রাত অনুমানিক ১০ টা। হঠাৎ দরজায় পাশে বুটের ঠনঠন শব্দ। কারা যেন পায়চারী করছে ওখানে। কিছুক্ষন পর বাসার কলিং বেলটি বেজে উঠল। দরজার আড়ালে থেকে মহিলার জিজ্ঞাসা কে ওখানে? উত্তর আসল আমরা।
মহিলা: আমরা কারা?
আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক। দরজাটা খুলুন প্লিজ।
মহিলা তার পাশে দাড়ানো কুটু সাহেবকে ফিসফিস করে বললেন, এখন উপায় কি? বাথরুমে পালাও। আমি এদিকটা দেখছি।
দরজার ওপার থেকে আবারও কলিং বেলের শব্দ। প্লিজ দরজাটা খুলুন। আমরা কিছু রুটিন ওয়ার্ক করতে এসেছি। আমাদের ভয় পাবেন না। দরজা না খুললে কিন্তু আমরা বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হব। আরও কয়েকবার কলিংবেল চাপা হল। দরজায়ও হালকা আঘাত করে দরজা খোলার তাগিদ দেওয়া হল।
ভিতর থেকে কোন জবাব নেই। দরজা স্বেচ্ছায় খোলা হবে বলেও মনে হল না।

ঠাস ঠুস, ধড়াস, কটকট…………………
সিভিল ড্রেসে গোখরা বাহিনীর জনা দশেক সদস্য দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ল। পাশে দাড়ানো ভয়ে থরথর করে কাপতে থাকা মহিলাকে একজন জিজ্ঞেস করল, এটা কি কুটু স্যারের বাসা?
মহিলা: জী।
উনি কি বাসায় আছেন?
মহিলা: উনিতো বাসায় নেই।
কোথায় গিয়েছেন উনি?
মহিলা: উনি ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় নেতা মানুষ। ওনার কর্মীরা ওনাকে জোর করে কোথায় যেন নিয়ে গেছেন।
প্লিজ কোন মিথ্যার আশ্রয় নিবেন না? উনি কোথায় আছে সত্যিই করে বলুন?
মহিলা: (রাগান্বিত হয়ে) আমিতো বলছি উনি বাসায় নেই।
ঢুং ঢাং ফড়াৎ………………..
গোখরার একজন সদস্য টেবিল থেকে কম্পিউটার লাথি দিয়ে ফেলে দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলছে, উনি কোথায়? আমরা ওনাকে চাই।
ঠাস, খট খট…………..
বেডরুমের দরজায় লাথি। ব্যাপক তল্লাশি শুরু। আসবাবপত্র, ফার্নিচার সক কিছু তন্ন তন্ন করে খোজা হল।
ইয়া ঠাস, খট খট, ঢাং…………….
সজোরে বাথরুমে লাথি। দরজা লন্ডভন্ড। বাথরুমের এককোনে অসহায় হয়ে বসে আছেন কুটু সাহেব। তাকে দেখে গর্জে উঠল গোখরার সদস্যরা। কলার ধরে টেনে এনে মা বাপ তুলে গালি দিয়ে একজন বলল স্যার আমাদের সাথে আপনাকে যেতে হবে।
কুটু: কোথায় যেতে হবে?
স্যার আপনি অনেক প্রতাপশালী মন্ত্রী ছিলেন। আপনি ভালভাবেই জানেন কোথায় যেতে হবে।
কুটু: আমার অপরাধ?
অপরাধের গোষ্ঠি কিলাই। উপরের নির্দেশ আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। আপনাকে অ্যারেস্ট করা হল।
কুটু: আপনাদের কোন ওয়ারেন্ট আছে?
অ্যারেস্ট করতে আধুনিক যুগে কোন ওয়ারেন্ট লাগে না সেটা বোধহয় আপনাকে বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন নেই। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা আপনাদেরই শিখিয়ে দেওয়া কৌশল। আপনি কি ভদ্রভাবে আমাদের সাথে যাবেন নাকি ঘাড় ধরে নিয়ে যাবো।

হাউমাউ কান্নাকাটির শব্দ। স্ত্রী ছেলে-মেয়ে সবাই কাদছে আর সরকরের গোষ্ঠি উদ্দার করছে। গোখরার কয়েকজন সদস্য টেনে হিচঁড়ে নিচে নামালেন টুকুকে। গাড়িতে উঠতে গড়িমসি করছিলেন কুটু। গলাধাক্কা মেরে গাড়িতে ওঠালেন একজন। গাড়িতে উঠিয়ে চোখ বাধা হল। অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটে চলল কুটুকে বহন করা গাড়িটি।
কুটু(আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি): এগুলো কি হচ্ছে? আপনারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
স্যার যে জায়গায় নেওয়া হচ্ছে এটা আপনার বা আপনাদেরই বানানো। আপনারা মজা করে এটাকে বলতেন তেলাপোকা হ্রদ। আর যাদেরকে এখানে নেওয়া হত তাদেরকে বলতেন কীট পতঙ্গ। স্যার আপনার কি মনে আছে আপনারা আমাদের কি বলতেন?
কুটু: আপনারা একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছেন।
স্যার আমারা শুধুই আমাদের দ্বায়িত্ব পালন করছি। এর বেশি আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই।
কুটু: এক মাঘে শীত যায় না।
স্যার বড্ড দেরী করে ফেলেছেন এই কথাটি বুঝতে। বছর পাচেক আগেই এই কথাটি ঠাহর করা উচিত ছিল। স্যার আমাদেরকে আপনি প্রতিপক্ষ মনে করবেন না।
কুটু: আপানদের উদ্দেশ্য কি?
স্যার আমাদেরকে নতুন কিছুই বলা হয় নি। শুধু বলা হয়েছে গত পাচ বছর যেভাবে দ্বায়িত্ব পালন করেছি সেইভাবে দ্বায়িত্ব পালন করতে। আর ও হ্যা স্যার শুধু বলে রাখি আপনারা আমাদের রঙ্গ করে মাছি মারা বাহিনী বলতেন।

মধ্যরাত। গাড়ীর চলা শেষ হয়েছে। কুটু সাহেবকে গাড়ি থেকে বের করা হল। একটি অন্ধকার বদ্ধ ঘরে ঢুকিয়ে চোখ খুলে দেওয়া হল।
কুটু: প্লিজ ভাই। দয়া করে আলোটা একটু জ্বালাবেন। অন্ধকারে আমি অনেক ভয় পাই।
স্যার আপানর কি মাহমুদুর রহমানের কথা মনে আছে।
কুটু: আমি এগুলোর কিচ্ছু জানি না।
কিচ্ছু জানো না? ঠাস, ঠুস, ঢিশ, ঢুশ………………..
উহ, আহ, ওয়া, ওয়া……………
(পাশ থেকে মিসেস কুটু) এই তুমি এরকম করছ কেন? কি হয়েছে তোমার?
কুটু: এটা কত সাল?
মিসেস কুটু: ২০১১।
কুটু: আমি কি মন্ত্রী?
মিসেস কুটু: হ্যা তুমিতো মন্ত্রীই। খুব বড় মন্ত্রী।
কুটু: আমি কি বাসায়?
মিসেস কুটু: কি আবোল তাবোল বলছ? বাসায় নাতো কোথায়! কি হয়েছে আমাকে বলতো।
কুটু: নাহ। কিছু না। একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম। দুঃস্বপ্ন।
মিসেস কুটু: উই! তুমি না……………

শিক্ষা: ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।
এক মাঘে শীত যায় না।

(বিঃ দ্রঃ লেখাটি বাংলাদেশের বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি কাল্পনিক রূপ)