ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১১ সমাপ্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে চাওয়া পাওয়া নিয়ে হিসাব নিকাশের পালা। প্রথমবারের মত আয়োজকের দ্বায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ। জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। দেশীয় ঐতিয্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে কিছুটা পরিচিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের সামনে। সেটা প্রকাশ করতে একেবারেই যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি সে কথা বলা যাবে না। তবে আমাদের ঐতিয্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে পৌছে দিতে মনে হয় একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা আদৌ আমাদের জন্য কোন সুখের সংবাদ বয়ে আনবে না এটা হলপ করে বলা যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একজন শিল্পীর নোংরা গান, ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের মুর্থতা, ভাষা সৈনিকদের মুজিব কোট পরিহিত অবস্থায় দেখানো থেকে শুরু করে দর্শক কর্তৃক ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের বহনকৃত বাসে ঢিল নিক্ষেপ, বর্তমান এবং সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে বাদানুবাদ ইত্যাদি ঘটনা আমাদের জন্য হাস্যরস এবং বেদনার সৃষ্টি করেছে।

আবার কয়েকটি ভিনদেশী ক্রিকেট দলকে সমর্থন করা নিয়ে যে তুলকালাম কান্ডগুলো ঘটেছে তাকেও বাড়াবাড়ি বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না। এখনে বলে রাখা প্রয়োজন খেলাকে কোন অবস্থাতেই রাজনীতির সাথে মেলানোটা একেবারেই কাম্য নয়। যেকোন দর্শকই তার পছন্দের যেকোন দলকে সাপোর্ট করতে পারে। এমনটি করায় দোষের কিছু আছে বলে মনে করি না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অন্য দলকে সাপোর্ট করা নিয়ে যা ঘটেছে সেগুলো শুধুমাত্র দোষের নয় রীতিমত অন্যায়। যেমন পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর কয়েকজন দর্শককে বলতে শুনেছি “আমরা আগে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম আর পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করেছে। তাই আমরা মনে করি আমরাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করেছি”। আমার কাছে অস্পস্ট তারা একথার দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছে। তারা যাই বুঝাতে চাক না কেন তাদের কথাগুলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের সাথে প্রতারনা করারই শামিল।

অন্যদিকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকদের কর্মকান্ডও কম প্রশ্নের জন্ম দেয় নি। ভারতের জয়ে নেচে গেয়ে উল্লাস করায় আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ভারতের পতাকা উড়িয়ে রঙ্গ তামাসা করার স্পর্ধা তাদের কে দিয়েছে? অগনিত শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা সমৃদ্ধ এই বাংলার মাটিতে ভিনদেশী পতাশা নিয়ে উল্লাস করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে চরম বেঈমানি করেছে। ভারতীয় পতাকার প্রতি যদি কারও এতই মমতা থাকে, এতই ভালবাসা থাকে তাহলে নিজের শয়নকক্ষে সেটা যত্ন রেখে দেওয়ার অধিকার তাদের আছে, অপরাজেয় বাংলায় ভারতীয় পতাকা উড়ানোর কোন অধিকার তাদের নেই। ১৬ কোটি মানুষের মুখে কালিমা লেপন করার অধিকার তাদের নেই।

ক্রিকেট নিয়ে উম্মাদনা হতেই পারে। উম্মাদনা কখনও কখনও আনন্দের। কিন্তু উম্মাদনায় লিপ্ত হয়ে উম্মাদ হওয়াটা সবসময়ই লজ্জার।