ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন। অন্য কয়েকটি সাধারন দিনের মতই নতুন স্বপ্নের জালে আবদ্ধ হয়েছিল পুরো জাতি। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে সেদিনও অনেকে প্রার্থনা করেছিল মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে। অগনিত শহীদের প্রানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের গালে চপেটাঘাত পূর্বক মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে মীর জাফরি করে সর্বক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণের কাজ আগেই সাঙ্গ করা হয়েছিল। বর্বরতা এবং অমানবিকতার ষোলকলা পূর্ণ করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন। তৎকালীন বাকশাল তথা আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক জনগণের পেটে লাথি মারার ধারাবাহিক পরিকল্পনা এবং বিরোধী তথা সত্য ও বাস্তবতার গলা টিপে ধরতে মাত্র দুটি সংবাদপত্র ছাড়া সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি কালো দিন সংযুক্ত করে।

জীবনের নিরাপত্তা এদেশের মানুষ অনেক আগেই হারিয়েছিল। রক্ষীবাহিনী কর্তৃক হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে নিজ গৃহ থেকে ধরে নয়ে নৃশংসভাবে হত্যার কথা শুনলে গা শিউরে ওঠে। যার ঐতিহ্য আজও আওয়ামী লীগ বিশেষ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ স্বার্থকতার সাথেই ধরে রেখেছে। বরিশাল পলিটেকনিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পল্টন ময়দান, নাটোর, ইডেন কলেজ প্রভৃতি জায়গায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ গত কয়েক বছরে যে ধরনের বর্বরতার প্রমান দিয়েছে তা পশুত্বকেও হার মানায়। সেই ১৯৭২ সালের সূচনা থেকেই শুরু। হত্যা, গুম, ধর্ষন, ডাকাতি, দখল, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্মের রাজনীতি সাধারন মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য করেছে।

মিডিয়া দলন নীতিও আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত। তৎকালীন বাকশাল সরকার মাত্র দুটি সংবাদপত্র দৈনিক বাংলা এবং বাংলাদেশ অবজারভার ছাড়া সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করলেও ব্যক্তি মালিকানাধীন দুটি পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক এবং বাংলাদেশ টাইমস জোরপূর্বক সরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রচার শুরু করে। আওয়ামী লীগ কর্তৃক এমন নজীরবিহীন ঘটনার পুনর্জন্ম হয় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও। যেই যায়যায় দিন পত্রিকার সাথে দেশবরেণ্য সাংবাদিক শফিক রেহমানের আত্মার সম্পর্ক, মঈন-ফকরের যোগসাজশে সেই সংবাদপত্রটিও দখলে নেওয়া হয়। দখলে নেওয়া হয় আরটিভি সহ আরও কয়েকটি মিডিয়া। আর বর্তমান সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির পা চাটা গোলাম সরকার বন্ধ করে দেয় জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান এবং পরীক্ষামূলক সম্প্রচারকৃত যমুনা টিভি। বন্ধ করার অপচেষ্টা করা হয় আমার দেশের মত প্রথম শ্রেনীর জাতীয় দৈনিক। সে সময়ও দেদারসে গ্রেফতার করা হয়েছিল কবি, লেখক, সাংবাদিকদের। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারও নির্ভীক সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার উত্তর অমানবিক নির্যাতন করে। হেনস্তা করে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আসাফুদ্দৌলা, আবুল মকসুদসহ অনেককে। সাংবাদিক নির্যাতন তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তুচ্ছ কারনে প্রতিনিয়তই ঘটছে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা। আর বিরোধী মতের হলে তো কোন কথাই নেই।

আদর্শগতভাবে আওয়ামী লীগের অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা নেই বললেই চলে। যত্র তত্র মিথ্যা আর এক শ্রেনীর হলুদ সাংবাদিকতায় লিপ্ত সাংবাদিক নামধারী কিছু চাটুকারের সহযোগীতায় বিরোধী কন্ঠ স্তব্ধ করে দিতে বদ্ধপরিকর এই চক্র। সুশীল (?) শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত কিছু স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীও রয়েছে এই দলে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জন্য সরব (?) এই বুদ্ধিজীবী মহল বাকশাল আমলেও চাটুকারীতায় মজ্জ ছিল।

জন্মগতভাবেই আওয়ামী লীগ সেনাবাহিনী ও মিডিয়াকে শত্রু হিসেবে প্রতিপন্ন করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিল। আর মিডিয়া তো একেবারেই হত্যা করেছিল। প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক, আওয়ামী লীগ কেন সেনাবাহিনী ও মিডিয়াকে শত্রু মনে করে? সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিবেদিত প্রাণ একদল মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এখানে সবকিছুই নিয়ম অনুযায়ী হয়। খেয়াল খুশিমতো কোন কিছু করার সুযোগ এখানে নেই। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ বিপরীত জগতের একটি প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ। এখানে নেই কোন শৃঙ্খলা, এদের নেই কোন নীতি (আছে একমাত্র ভারত তোষণ নীতি), সব কিছুতে ধর মার খাও; রক্ষী বাহিনী স্টাইল। অন্যদিকে যে কোন দেশের মিডিয়াও (বাংলাদেশের সুশীল মিডিয়া ছাড়া) সে দেশের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জবাবদিহিতার একটা উল্লেখ্যযোগ্য মাধ্যম মিডিয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোন জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না। অন্যের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিয়ে খেলেও এই কর্মের জন্য একটুও অনুতপ্ত নয় এই গোষ্ঠী।

তেল আর জলের যেমন মিশ্রণ ঘটে না, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ আর সত্যনিষ্ঠ মিডিয়াও একসাথে সুন্দরভাবে চলতে পারে না। যার প্রমান জাতি অসংখ্যবার পেয়েছে। ১৬ জুনের পর আবার নতুন কালো দিবস ১ জুন। কলুষিত কিছু মানুষের দ্বারা সৃষ্ট এই কালো দিবস গুলো বাংলাদেশের ইতিহাসকেও কলুষিত করছে বারবার। শান্তি শৃঙ্খলার অন্তরায় এমন কালো দিবস থেকে পরিত্রাণ চায় সমগ্র জাতি।