ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

বিচিত্র এই ধরনী। মানুষগুলো আরও বেশি বিচিত্র। কোমলতা থেকে বর্বরতা, আবেগ থেকে বাস্তবতা সবই মানুষের নখদর্পণে। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে কোমলতার চেয়ে বর্বরতা অনেক বেশি প্রতাপশালী। আর বাস্তবতার চেয়ে আবেগ। আবেগের কাছে প্রেম, ভালবাসা, সম্মান, মর্যাদা সবকিছুই মুল্যহীন হয়ে পড়ে। আর সেখান থেকে সৃষ্টি হয় বর্বরতার। বর্বরতায় লিপ্ত কিছু বর্বর লোকদের দোর্দান্ত দাপটে আমাদের মত আম জনতা বড্ড অসহায়। সমাজে সংঘঠিত রাঘোব বোয়ালদের বর্বরতার চিত্র চেপে যাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। একটি মামুলি মোবাইল ফোনের জন্য হত্যাকান্ডের মত ঘটনা এখন তুচ্ছ ব্যাপার। নারী নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের জেরে সমাজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশেষ করে বেহায়াপনা ও পরকীয়ায় লিপ্ত সদ্য বিবাহিত এমনকি সন্তানের জনক জননী কর্তৃক একে অপরকে নির্যাতন, হত্যা, গুম ইত্যাদি ঘটনাগুলো প্রতিটি সুস্থ বিবেককেই আঘাত করে। পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে নিজের গর্ভজাত কিংবা ঔরসজাত সন্তানকে খুন করার মত সেকেলে বর্বরতাও দর্শিত হয় এই সমাজে।

রুমানা ম্যাডাম প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সম্মানের পাত্রী। স্বীয় স্বামী কর্তৃক তিনি যে ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বরতার স্বীকার হয়েছেন তার এবং ইতিপূর্বে এই ধরনের যত জঘন্যতা জন্ম দেওয়া হয়েছে সবগুলো ঘটনার ন্যায় বিচার একান্ত কাম্য। বারবার একই ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটার পরও কেন সেগুলোর সুষ্ঠ বিচার হচ্ছে না সে ব্যাপরে আইনজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ভাল বলতে পারবেন। তবে দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ার কারনেও যে ঘটনাগুলো পুনঃপুনঃ ঘটছে সে ব্যাপারে হয়ত দ্বিমত পোষণ করা কষ্টকর হবে।

যে কোন কাজের জন্য ‘বিশ্বাস’ একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। মুসলমান হতে হলে না দেখা সত্ত্বেও আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হয়। টাকা পয়াসার লেনদেনের জন্য ব্যাংককে বিশ্বাস করতে হয়। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য আদালতকে বিশ্বাস করতে হয়। রোগে আক্রান্ত হলে ডাক্তারকে বিশ্বাস করতে হয়। কনস্ট্রাকশনের কাজে ইঞ্জিনিয়ারকে বিশ্বাস করতে হয়। ঠিক তেমনি সংসার সুখনীয় করার জন্যও স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস থাকা অত্যাবশ্যক। বিশ্বাস ধরে রাখার জন্য অবশ্য দুই পক্ষকেই পরীক্ষা দিতে হয়। যেমন কোন আদালতের বিচারক যদি ঘুষের বিনিময়ে ন্যায় বিচার করা থেকে বিরত থাকে তাহলে তাকে বিশ্বাস করাটা অযৌক্তিক। কোন ডাক্তার যদি রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা করে তাহলে ঐ ডাক্তারকে বিশ্বাস না করাটাই স্বাভাবিক। একই ভাবে বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী যে ধরনের কমিটমেন্টে আবদ্ধ হয়, একজন অথবা উভয়ের পরকীয়া সম্পর্কের কারনে সেটা ভঙ্গ হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থার সম্পর্ক নষ্ট হয়। শুরু হয় কলহ বিবাদ এবং এর চেয়েও বড় কিছু।

আগেই হাসান সাঈদদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছি। কিন্তু কেন হাসান সাঈদদের সৃষ্টি হয় সেটাও তো আমাদের দৃষ্টি এড়াতে পারে না। পত্রিকা এবং অন্য মারফত যতটা শুনেছি তাতে রুমানা ম্যাডামের পরকীয়ার কথা উঠে এসেছে। এর আগেরও পরকীয়ার কারনে বড় ধরনের সহিংসতার হাজারো ঘটনা আমাদের সকলের জানা। পরকীয়ার ঘটনা যদি সত্যিই হয়, তাহলে কি রুমানা ম্যাডাম এর দায় থেকে পুরোপুরি মুক্ত? স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে তিনি যদি অন্যায় করে থাকেন সেটা কেন লোকানো হচ্ছে? ডঃ মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব। এই যদি হয় শিক্ষিত মায়েদের অবস্থা, তাহলে জাতির বারোটা বাজতে আর বেশি দেরি নেই। নিজের স্বামী সন্তানকে ঘরে রেখে যে বা যারা অন্য পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রাখতে পারে সে বা তাহারা সার্টিফিকেটধারী হতে পারে, শিক্ষিত নয়।