ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

নিতাই: (ভয়ে ভয়ে ভাবছে) কি যে করি এয়ারপোর্টেই কি সারেন্ডার করমু, না কি দু একদিন পর? এয়ারপোর্টে সারেন্ডার করলে পুলিশের কাছে কিছু লুকানোর সুযোগ কম। যাকগে বন্ধু রাইসুল তো আছে। ওর ওখানে গিয়ে দু একদিন থাকি। তারপর পুলিশের কাছে ধরা দেওয়া যাবে।
রাইসুল: কেমন আছিস। তোকে অনেক দিন পরে দেখলাম। বল তো কি করতে চাস এখন?
নিতাই: আরে বেটা চল আগে এখান থেকে বের হই।
রাইসুল: কেন? তুই এইখানেই সারেন্ডার কর।
নিতাই: না, দুই দিন পরে করি।
রাইসুল: (আবার কোন ঝামেলায় পড়ি কে জানে) তুই তো দেখছি আমাকেও সমস্যায় ফেলবি। দুই দিন পর হোক আর দুই মাস পর হোক পুলিশের সামনে ভুলেও আমার নাম উচ্চারন করবি না।

নিতাই রাইসুলের সাথে তার বাসায় যায়। অতপর দুইদিন পর নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে আত্মসমর্পণ করে। নিতাই ওয়েটিং রুপে অপেক্ষারত অবস্থায় ভাবছে যদি পারমিশনটা হয়ে যায় তাহলে কি হবে আর না হলে কি হবে সেইসব নিয়ে। সে মনের ভিতর আকতে শুরু করেছে অনেক নিত্য নতুন স্বপ্ন। পাচ বছর পর সে ইউরোপের একটা দেশের নাগরিক হবে সেটা ভেবে মনে তার আনন্দের জোয়ার প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। মনে মনে অবশ্য তার একটু ভয়ও কাজ করছে। এমন সময় একজন পুলিশ কনস্টেবল ওয়েটিং রুমে প্রবেশ করল।
কনস্টেবল: আমার সাথে আস।
নিতাই: (কাপা কাপা গলায়) স্যার।
পুলিশ কনস্টেবল নিতাইকে নিয়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে তাকে পৌছে দিয়ে প্রস্থান করল।
পুলিশ কর্মকর্তা: কি নাম তোমার?
নিতাই: নিতাই চন্দ্র সরকার
পুলিশ কর্মকর্তা: পিতার নাম কি?
নিতাই: বড়াই চন্দ্র সরকার।
পুলিশ কর্মকর্তা: কিভাবে এসেছ এখানে?
নিতাই: আফগানিস্তান, রাশিয়া হয়ে এই দেশে এসেছি।
পুলিশ কর্মকর্তা: ইউরোপের অন্য কোন দেশে ছিলে কখনও?
নিতাই: না, না।
পুলিশ কর্মকর্তা: অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছ কি?
নিতাই: না, করি নাই।
পুলিশ কর্মকর্তা: এখানে কেউ আছে পরিচিত? কার মাধ্যমে এখানে এসেছ?
নিতাই: না, আমার এখানে পরিচিত কেউ নেই। আমি পালিয়ে আফগানিস্থান, রাশিয়া হয়ে এই দেশে এসেছি।

নিতাইকে আরও কিছু প্রশ্ন করার পর পুলিশ ইউরোপের অন্য কোন দেশে থাকার ব্যাপারে কোন তথ্য না পেয়ে ইমিগ্রেশনে পাঠিয়ে দিল।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা: কেন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছ? দেশে সমস্যা কি?
নিতাই: আমি একজন হিন্দু। মুলমানরা আমাকে এবং আমার পরিবারের সকল সদস্যদের অকথ্য নির্যাতন করে চলেছে। আমাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে আমাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমাদের সকল জমি জমা তারা জোর করে দখল করে নিয়েছে। পরিবারের সবাই এখন পলাতক। না খেয়ে, কাজ কর্মহীন অবস্থায় পরিবারের সবারই অবস্থা অত্যন্ত করুন। আমি কোন রকম পালিয়ে এখানে এসেছি।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা: সংখ্যালঘুদের উপর এরকম কি কি নির্যাতন হচ্ছে?
নিতাই: সারাদেশেই সংখ্যালগুদের উপর অকথ্য ও অমানবিক নির্যাতন চলছে। অনেকেই পালিয়ে অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে মৌলবাদীদের দারা সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে সংখ্যালঘুদের কোন নিরাপত্তা নেই। অনেক জায়গায়েই সংখ্যালঘুদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে।

উপরের ঘটনাটা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ফিনল্যান্ডে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা এক কুলাঙ্গার বাংলাদেশীর কাহিনী। কুলাঙ্গার বলায় অনেকেই হয়ত রাগ করতে পারেন। কিন্তু এমন একজন ইতর লোককে এর চেয়ে ভাল ভাবে সম্বোধন করার মত ভদ্র লোক আমি নই। এতক্ষণ উপরের কথোপকথনে নিশ্চয় আপনারা বুঝতে পেরেছেন একজন হিন্দু নামধারী বাংলাদেশী রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে লোকটি আসলে হিন্দু নয়, সে একজন মুসলমান। মুসলমান হয়ে হিন্দু নাম নিয়ে সম্পুর্ন বানিয়ে বানিয়ে নিজের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যে বিষোদগার করতে পারে তাকে কুলাঙ্গার ছাড়া আর কিই বা বলা যায়।

এরকম অনেক বাংলাদেশী কেউ কেউ মুসলমান হয়ে হিন্দু সেজে, বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগার সেজে, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি সেজে সম্পুর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে ফিনল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে আসছে। এখন নাকি এমন হয়ে গেছে যে পুলিশ বা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারাই জিজ্ঞেস না করেই বলে দেয় তুমি হিন্দু তাই না? যদি সেটা না হয় তাহলে বলে এখন তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তুমি বিএনপি তাহলে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থকলে বলে আওয়ামী লীগ।

এই সমস্ত লোকগুলো শুধু যে একটি রাজনৈতিক দলকেই বা একটি ধর্মের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপবাদ দেয় তা নয়। উপরের ঘটনা থেকে স্পষ্টতই দেখা যায় নিতাই নামধারী মাহবুবের (ছদ্মনাম) কোন কথার মধ্যেই সত্যের লেশ মাত্র নেই। পুরো দেশের মান মর্যাদাকে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিয়ে যারা নিজের হীন স্বার্থ উদ্ধারে তৎপর দুঃখ লাগে যখন তাদেরকেই দেখি বাংলাদেশ নিয়ে বড় বড় কথা বলতে,স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে পাকা পাকা বুলি আওড়াতে। দুঃখ লাগে যখন দেখি তারাই আবার দেশে গিয়ে যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিল সেই দলে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয় দেশ ও জনগনের সেবা করার জন্য।

এই সমস্ত দেশদ্রোহী ইতর কিছু বাংলাদেশীর জন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। বিদেশী লোকজনের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা খারাপ ধরনা সৃষ্টি হয়ে চলেছে যুগ যুগ ধরে। বাংলাদেশকে অনেকেই কুনজরে দেখে। আমার প্রশ্ন জাগে একজন মানুষের সামান্য স্বার্থের জন্য এই জঘন্য দেশ বিরোধী কর্মকান্ড কিভাবে মেনে নিতে পারি? আমরা কিভাবে এই রকম নিম্ন রুচিসম্পন্ন কাজের সাথে নিজেদেরকে জড়িত করতে পারি? আমরা কি দেশকে আদৌ ভালবাসি? আমরা কি সত্যিকারের মানুষ হতে পারব না?