ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মুয়াম্মার গদ্দাফিকে যদি কেউ লোহ মানব বলে তাতে আমি কেন কারোরই আপত্তির কিছু থাকার কথা নয়। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে পরবর্তী বিয়াল্লিশ বছর ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন খেয়াল খুশিমত। বলা যায় রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে খেলায় মত্ত ছিলেন ঠিক যেভাবে ছোটবেলায় বাচ্চারা বেলুন নিয়ে খেলা করে। আমেরিকা থেকে শুরু করে ইসরাইল আর আল কায়েদা থেকে শুরু করে কেউই পাত্তা পায় নি গাদ্দাফির কাছে। তারপরও গাদ্দাফিকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। তাকে বন্দী করে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারত। তা না করে তার সাথে অন্যায় আচরন করা হয়েছে।

বিয়াল্লিশ বছরের শাসনামলে অধিকার চর্চা যটতুকু করেছেন তার চেয়েও বেশি অনধিকার চর্চা করেছেন গাদ্দাফি। একেক সময়ে তার একেক রকম খায়েশ হিটলারের কথাই মনে করিয়ে দেয়। শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে বিরোধী মত দমন করেছেন। বিশেষ করে সঠিক ইসলামের অনুসারীদের অকথ্য জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। গাদ্দাফির ইচ্ছাঘুড়িও ছিল খামখেয়ালীপনায় ভরা। গত আগস্ট মাসে গাদ্দাফির কমপক্ষে পাচজন নারীরক্ষী দাবী করেছে যে তারা ঘাদ্দাফি এবং তার পুত্রদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে।


১৯৯০ সালে কায়রোতে একটি কনফারেন্স কক্ষের বাইরে পাহারারত গাদ্দাফির নারীরক্ষী

গাদ্দাফি ইসলামী আইন বিকৃত করে ১৯৯৪ সালে চালু করেন পিওরিফিকেশন ল (Purification law)। এর আগে ১৯৭৩ সালে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (স) এর জন্মদিনে শরীয়ার নামে স্বীয় পছন্দমাফিক পাঁচ দফা পেশ করেন যাকে তিনি নিজেই ইসলামী সমাজতন্ত্র (Islami socialism) নামে অভিহিত করেন। শুধু এগুলো করেই ক্ষ্যান্ত হন নি, পবিত্র কুরআনকে বিকৃত করে নিজে রচনা করেন গ্রীন বুক (Green book)।

নারীরক্ষী নিয়ে চলাফেরাতো করতেনই, এছাড়াও তিনি জন্ম দিয়েছেন বহু ঘটনার। তার লেখা বইয়ের প্রচারের জন্য ২০০৯ সালে পাঁচশত সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে ইটালিতে একটি পার্টির আয়োজন করেন। মুসলমানদের ধোকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানে আগত সুন্দরীদের একটি করে কুরআন শরীফও সরবরাহ করা হয়। গাদ্দাফির শর্ত ছিল এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নারীদের কমপক্ষে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৫ এর মধ্যে হতে হবে।


গাদ্দাফির অনুষ্ঠানে আগত পবিত্র কুরআন ও গ্রীন বুক হাতে কতিপয় সুন্দরী

জীবদ্দশায় গাদ্দাফী পবিত্র কুরান মজীদের কিছু অংশ পরিবর্তন করার মত নিকৃষ্টতম ইচ্ছাও পোষন করেন। পবিত্র কুরআনের কিছু কিছু শব্দের দ্বারা সঠিক অর্থ প্রকাশ হয় না বলে দাবী করেন গাদ্দাফি। যেমন গাদ্দাফির দাবী ছিল কুল (ِ قُل-বল) শব্দ দ্বারা রাসূল (স) কে সম্বোধন করা হয়েছে আর এখন যেহেতু তিনি (স) বেচে নেই তাই কুরআনে কুল শব্দ থাকাটা অমূলক। নাউযুবিল্লাহ।

গাদ্দাফিকে পছন্দ কিংবা অপছন্দ করা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।সে কারো আদর্শ হতেই পারে। তবে ইসলামের বিশষ্ট সেবক হিসেবে তাকে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা হলে একজন মুসলমান হিসেবে সেটা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়। যখন তাকে শহীদ হিসেবে আক্ষ্যায়িত করা হয় তখন প্রতিবাদ করার অনেক কিছুই সামনে আসে। সারা জীবন যে লোকটি ইসলাম প্রিয় লোকদের সীমাহীন নির্যাতন করেছে, জিন্দেগী ভর অন্যায়ের পথে থেকেছে এবং একই পথে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরন করেছে তাকে শহীদ বলাটা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা প্রতিটি বিবেকবান লোকের জন্যই চিন্তার বিষয়।

***
ছবি: বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট