ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

কোন সন্দেহ নেই নোবেল পুরষ্কার বর্তমান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক পূরষ্কার। আর নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি যে কোন মানুষ, জাতি বা দেশের জন্য গৌরব ও কৃতিত্বের। সেই ১৯০১ সাল থেকে যখন নোবেল পুরষ্কার দেওয়া শুরু হয়, তখন পুরষ্কারের দাম ও মান নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। নব্বই দশকের আগ পর্যন্ত নোবেল কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুরষ্কার দেয়ার ক্ষেত্রে পেশাদ্বারিত্বের পরিচয় দিয়েছে যা মানুষের প্রশংসাও কুড়িয়েছে ব্যাপক। কয়েক বছর আগেও কে বা কারা নোবেল পুরষ্কার পেল তা নিয়ে কম মাতামতি হত না। কালের বিবর্তনে নোবেল পুরষ্কারের দাম বাড়লেও মান অনেক কমেছে, কমেছে মাতামাতিটাও; অন্তত আমার কাছে। এখন অবশ্য উপযুক্ত ব্যক্তি নোবেল পুরষ্কার পেল কিনা তা নিয়ে হর হামেশাই আলোচলা শোনা যায়। নিন্দুকেরা বলে পুরষ্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে নাকি এখন সাম্রজ্যবাদী ক্ষমতাধরদের পছন্দ অপছন্দকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাধারনত প্রথম থেকেই কয়েকটি ক্ষেত্রে উত্তম বা সৃষ্টিশীল কোন কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হত। বলা হয়ে থাকে এখনও সেরকমই করা হয়। কারও কোন ভাল কাজের একটা অন্যতম স্বীকৃতি নোবেল পুরষ্কার। তবে নোবেল পুরষ্কারই ভাল কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার একমাত্র মানদন্ড নয়। কেউ কোন উত্তম কাজ করে নোবেল পুরষ্কার না পেলে কি তার কাজটি কি মূল্যহীন হয়ে যাবে? আবার সমাজবিধ্বংসী কোন কাজের জন্য কেউ নোবেল পুরষ্কার পেলেই কি সেই কাজ মহামূল্যবান হয়ে যাবে? নিশ্চয়ই নয়। অন্যদিকে নোবেল পুরষ্কার পেলেই কারও জন্য আইনের দৃষ্টিকোন পরিবর্তন হয় না কিংবা কুকর্মগুলো কারও জন্য সুকর্ম হিসেবে পরিগনিত হয় না।

আমার ছয় বছর বয়সী ভাগ্নী এবার লটারির মাধ্যমে ভিখারুন্নেসা নূন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তার দাবী সে যেহেতু ভিখারুন্নেসায় চান্স পেয়েছে সে যা বলবে তার সব কথাই শুনতে হবে। ছয় বছর বয়সী পিচ্চিকে অবশ্য এটা বুঝানো সম্ভব নয় যে ভিখারুন্নেসায় চান্স পেলেই তার সকল আবদার পূরণ করা অসম্ভব। কিন্তু সত্তর বছর বয়সী একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোককে এটা বুঝাতে যাওয়া সময়ের চরম অপব্যবহার যে নোবেল পুরষ্কার পেলেই আইন ভঙ্গ করা যায় না, নোবেল পুরষ্কার পেলেই সমাজ ধ্বংসকারী সুদের কারবার করাটা গ্রহনযোগ্য হয় না, নোবেল পুরষ্কার পেলেই মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা আদায় করতে যাওয়াটা অন্যায়, নোবেল পাওয়ার কৃতিত্ব বিক্রি করে মানুষকে ধোকা দেওয়াটা অমানবিক, নোবেল পুরষ্কার পেতে গরীবের রক্ত চুষে খাওয়াটা পৈশাচিক।

নোবেল পুরষ্কারকে নিজের কাজের স্বীকৃতির মানদন্ড ভাবা বড় ধরনের দুর্বলতা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন অনেকে নোবেল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই দশক আগে কখনও কেউ নিজে বা কোন গোষ্টি কারও পক্ষে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার দাবী তুলেছে এমনটি শোনা যায় নি। এখন অবশ্য অনেকেই নিজেকে অথবা অন্য কারও জন্য নোবেল পুরষ্কারের দাবী তুলছে খুব জোরেশোরে যা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দুঃখজনক। বড্ড রুচীহীন মানুষেরাই এ ধরনের নির্লজ্জ দাবী তুলতে পারে। আর নোবেল পেয়ে যারা তাদের অহমিকার বহিঃপ্রকাশ ঘটান তারাও সেই প্রজাতিরই লোক।