ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে এ যাবৎ বি¯Íর আলোচনা হয়েছে। নানা মডেল, নানা কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। গৃহীত হয়েছে বেশ কয়েকটি পাঁচসালা পরিকল্পনাও। কিন্তু দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই উন্নয়নের সুফলবঞ্চিত। বরং বলা যায় তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি।বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি এবং বিশ্বের নি¤œ আয়ভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা অর্থনৈতিক ÿেত্রে কাঙ্খিত সফলতা লাভ করতে পারিনি। যে কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতি শীলতা।এ রাজনৈতিক স্থতিশীলতা না থাকলে কোন দেশের পÿেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।পাকি¯Íান আমলে তৎকালীন শাসকদের অর্থনৈতিক অবিচার রাজনৈকি শোষণের ফলে এদেশে উলেøখযোগ্য কোন অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় নি। স্বাধীনতা উত্তরকালের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ÿেত্রে সীমাহীন ত্রæটি ও অদÿতা, দুর্নীতি, সম্পদের অপচয় প্রভৃতি কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয় নি। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যেন দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ সালের পূর্বে নির্বাচিত কোন সংসদই তার মেয়াদকাল পূর্ণ করতে পারে নি। ১৯৯১ সালের পর নির্বাচিত সংসদগুলো তাদেও মেয়াদ প্রায় পূর্ণ করলেও পুরো সময় জুড়ে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা , হরতাল, অবরোধ ইত্যাদি। ফলে দীর্ঘকালের বহুমুখী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যার কারণে এদেশে উন্নয়নের গতি মন্থর। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেক মৌলিক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার দ্রæত সমাধান না করতে পারলে কাঙ্খিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংজ্ঞা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। বিভিন্নজন তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে একে ব্যাখ্যা করতে সচেষ্ট হয়েছেন। তবে সাধারণভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে কোন দেশের সর্ব¯Íরের জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে প্রকৃত জাতীয় আয় বৃদ্ধিকে বোঝায়;যা আয়-ব্যয় হ্রাসে অব্যাহত অবদান রাখে, ক্রমবর্ধমান হারে মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে এবং সর্বোপরি মানুষের জীবন যাপনের মান উন্নয়নে সদা তৎপর থাকে।

Williams and Patrick –এর মতে, ‘দীর্ঘ সময় ব্যাপি কোন দেশ বা অঞ্চলের জনগনের মাথাপিছু উৎপাদন ও সেবার অব্যাহত বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা হয়।’
Professor Snider- এর মতে, ‘মাথাপিছু উৎপাদন ÿমতার দীর্ঘমেয়দি বা অব্যাহত বৃদ্ধি প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা হয়।’
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ইয়ংয়ের মতে, ‘উন্নয়ন হলো কোন ব্যক্তি বা সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অগ্রগতির একটি জটিল প্রক্রিয়া।’
অর্থাৎ সংÿেপে বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো একটি প্রক্রিয়া বা চলনশীল গতি, যার দ্বারা দীর্ঘকালীন মেয়াদে একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রকৃত জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তিত হয় এবং সমাজে নতুন তর গতিবেগ সৃষ্টি হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল নির্ধারক সমূহ হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ, পুঁজির সরবরাহ,সংগঠন ও সংগঠক, প্রকৌশল গত ও কারিগরি উন্নতি ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অথনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়সমূহ:
বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কতকগুলো হলো একেবারে মৌলিক সমস্যা। যতদিন পর্যন্ত এগুলোর সমাধান করা না হবে ততদিন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। নি¤েœ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান সমস্যাগুলো আলোচনা করা হলো-

রাজনৈতিক অস্থিরতা:
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কোন সরকারই শান্তিতে কাজ করতে পারছে না। হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও , ভাঙচুর প্রভৃতি অর্থনীতির চাকা অচল করে দেয়। বিভিন্ন দাবিতে বিরোধী দলগুলোর সংসদে যোগ না দেয়া এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিভিন্ন হিসাব থেকে দেখা যায় যে, একদিনের হরতালে ÿতি হয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তাছাড়া দেশে বিদেশী বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর রয়েছে এর সুদূর প্রসারী প্রভাব। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর বিরাট ভ‚মিকা রয়েছে।

অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থা:
বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের ৩০শতাংশেরও বেশি আসে কৃষি খাত থেকে। তাছাড়া দেশের ৮৫ শতাংশ লোক প্রত্যÿ বা পরোÿ ভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্তে¡ও আমদের কৃষি ব্যবস্থা গতানুগতিক বা মান্ধাতার আমলের। কিছু কিছু ÿেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলেও তার গতি অনেক শøথ। তাছাড়া কৃষি উপকরন, যেমন- উফশী বীজ, সার কীটনাশক, সেচ যন্ত্রপাতি প্রভৃতির উচ্চমূল্যেও কারণে আমাদের দেশের দরিদ্র কৃষকদেও পÿে এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তদুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল রÿার কোনো ব্যবস্থা আজও উদ্ভাবিত হয়নি। অনুন্নত কৃষি ব্যবস্থার কারণে নি¤œ ফলন, অধিক উৎপাদন ব্যয় প্রভৃতি কারণে কৃষিখাত অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমানুরূপ ভ‚মিকা রাখতে পারছে না।

দারিদ্র্য:
দারিদ্র্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক বিরাট অন্তরায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫.১ শতাংশ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। ১৯৯০-৯১ সালের ৪৯.৭ শতাংশ দারিদ্র্য কমে ২০০৯-১০ সালে ৪০ শতাংশে দাঁড়ালেও দরিদ্র জনসংখ্যা এখনও অত্যধিক। এ বিপুল জনসংখ্যার অন্ন, বস্ত্র , বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বিপুল পরিমানের অর্থের প্রয়োজন, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি:
বাংলাদেশের মাত্র ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার জায়গায় প্রায় ১৬ কোটি মানুষ বাস করে। অর্থাৎ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০৮৪ জনের মতো মানুষ বাস করে। এ বিপুল জনসংখ্যা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিÿা,যানবাহন, চিকিৎসাসহ অর্থনৈতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক সকল ÿেত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় দেশের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান কমে যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যহত হয়।

অশিÿিত ও অদÿ জনশক্তি:
বাংলাদেশে যে বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে তার বেশির ভাগই অশিÿিত। আর শিÿার অভাবে তাদের অধিকাংশ অদÿ। বর্তমানে দেশে শিÿার হার প্রায় ৫৫ শতাংশ বলা হলেও এদের একটা বড় অংশ নাম স্বÿর করতে জানে।ফলে অশিÿা ও অদÿতার কারণে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদেরও পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিৎ করা যাচ্ছে না বা আধুনিক প্রযুক্তির যে বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে তাতে অংশ নেয়া বা তার সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আর অশিÿিত থাকার কারণে দেশের অধিকাংশ লোক অদÿও। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি শøথ হয়ে যাচ্ছে।

দুর্বল অবকাঠামো:
দুর্বল অবকাঠামো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনুন্নয়নের আরেকটি অন্যতম কারণ। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তা থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জন করা ছাড়া আমাদের গত্যন্তর নেই। তাই উৎপাদন ও রপ্তানির ব্যয়বাহুল্য হ্রাসের জন্যজরুরী ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিশেষ করে পরিবহনের জন্য রা¯Íা ঘাট নির্মাণ, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট সংযোগ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাকরণ, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের উন্নয়ন, কন্টেইনার টারমিনাল নির্মাণ ইত্যাদি আবশ্যক। এগুলোর ব্যবস্থা না করলে দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগকারী পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। তাইতো বিশ্বব্যংকের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফর শেষে অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন।

শিল্পের অনগ্রসরতা:
এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি বড় বাধা।উন্নত রাষ্ট্রগুলোর জিডিপির একটি বড় অংশ আসে শিল্প খাত থেকে। অন্যদিকে আমাদেও জিডিপির সিংহভাগ আসে কৃষি খাত থেকে। বিভিন্ন কারণে আশানুরূপ বিদেশি বিনিয়োগ না হওয়ায় শিল্পের বি¯Íারর ঘটছে না। এতে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি না পেয়ে বরং হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৯০- এর দশকে প্রথম আট বছরে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৮ শতাংশ, ১৯৯৯-২০০০ সালে ৪.২ শতাংশ এবং ২০০৮-০৯ সালে ৬.৬৮ শতাংশ হয়েছে। শিল্পের বি¯Íার দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি বৃদ্ধি করে থাকে। তাই শিল্পের অনগ্রসরতা অর্থনীতিকে অগ্রসর হতে দেয় না।

স্বল্প মাথাপিছু আয়:
বাংলাদেশের জনগনের মাথাপিছু আয় খুবই কম মাত্র ৭৫০ মার্কিন ডলারের মতো। এই স্বল্প আয় আবার সুষমভাবে বন্টিত নয়। স্বল্প আয়ের ফলে জনগনের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার ও কম। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘স্বল্প আয়- স্বল্প বিনিয়োগ- স্বল্প উৎপাদন- স্বল্প আয়’-এর দুষ্ট চক্রে আবর্তিত হচ্ছে। তাই এখানে জীবনযাত্রার মান নিচু এবং দারিদ্র্যেও সাথে মানুষের নিত্য বসবাস। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য ১৬-২০ শতাংশ জাতীয় সঞ্চয় দরকার;অথচ আমাদেও জাতীয় সঞ্চয়ের পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ।

আমদানি নির্ভরতা:
বহির্বাণিজ্য দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এÿেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা মোটেই সুবিধাজনক নয়। বাংলাদেশ যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী রপ্তানি করে, তার চেয়ে অনেক বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক দেনদেনের ভারসাম্য বাংলাদেশের প্রতিক‚লে চলে যায়। কাজেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিক‚ল বৈদেশিক বাণিজ্য বাংলাদেশের আরেকটি মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা।

বৈদেশিক সাহায্য:
বৈদেশিক সাহায্য তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের অন্যতম কারণ। তথাপি তারা বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ না করে পারে না। কিন্তু এর বিরাট অংশ পুনরায় দাতাদেশের পকেটে ফরত চলে যায়। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ,আইডিবি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান সাহায্য প্রদানের সাথে সাথে তাদেও স্বার্থ উদ্ধারকারী দঝঃৎঁপঃঁৎধষ ভড়ৎসঁষধ’-র শর্ত চাপিয়ে দেয়, তা গ্রহীতা দেশের জন্য যতই প্রতিক‚ল হোক না কেন। ফলে আমাদের নিজেদের উন্নয়ন উপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বা¯Íবায়ন ব্যহত হচ্ছে। আর এভাবে অথনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে বাধাগ্র¯Í।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক কালো অমানিশার মতো। এমনিতেই দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল তার ওপর প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত সে ভিত্তিকে আরো দুর্বল ও এলামেলো করে দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, জলোচ্ছাস, খরা এবং বর্তমানে আর্সেনিক দূষণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ এর মতো। ১৯৮৮,৮৯,৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যা ১৯৯১ সালের জলোচ্ছাস, ২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৮ সালের রেশমি এবং এর পরবর্তীতে আইলা হাজার হাজার কোটি টাকার ÿতি করেছে। ভেঙ্গে ফেলেছে বা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দেশের শতশত মাইল রা¯Í-ঘাট, শতশত পুল, কালভার্ট, সেতু ও হাজার হাজার ঘর-বাড়ি। এর ফলে দেশের অর্থনীতির যে অপূরণীয় ÿতি হয়েছে তা সামাল দিতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ভে¯েÍ যাচ্ছে।

ঋণখেলাপীদের দৌরাত্ম :
ঋণ খেলাপীদের দৌরাত্ম বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো চেপে বসেছে। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব ঋণ গ্রহীতা নানা প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে শিল্প স্থাপনের নামে ব্যাংক থেকে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে অন্যান্য অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা নিয়মিত পরিশোধ হলে পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি লাভবান হতে পারত।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি :
বাংলাদেশের বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি , খুন, অপহরণ, ঘুষ, গুপ্ত হত্যা, দুর্নীতি সামজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় দাড়িয়েছে যা অনেক বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারী বিমান বন্দর থেকে দেশে ফিরে যায়। এ অবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কেবল হতাশাজনকই নয় , আমাদের জন্য লজ্জাজনকও বটে।

দুর্নীতি :
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা এক অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু এটি যেন আজ আমাদেও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ এগোতে চায়না। ফলে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিলেও সেগুলো সময় মতো বা¯Íবায়িত হচ্ছেনা। এতে একদিকে যেমন উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া দুর্নীতির কারণে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীরাও এদেশে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না। বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন কাস্টমস চেক পয়েন্টে দুর্নীতির কারণে বিদেশী পর্যটকরা এদেশে আসতে অনীহা প্রকাশ করে। এতে ÿতিগ্র¯Í হচ্ছে দেশ ও দেশের অর্থনীতি। ্েক সেমিনারে দÿিণ এশিয়া বিভাগের অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসনের বক্তব্য ছিল- বাংলাদশের দুর্নীতি একধাপ কমাতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে জিডিপির ৪ শতাংশ এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধিও হার বাড়বে ০.৫ শতাংশ। এখানে উলেøখ্য যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক রির্পোট অনুযায়ী বাংলাদেশ দুর্নীতে বিশ্বে বেশ কয়েকবার প্রথম স্থান দখল করেছে। এটি নিশ্চিতভাবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

শ্রমিকদের ধর্মঘট, হরতাল অবরোধ ইত্যাদি:
কল-কারখানা ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর অবৈধ কার্যকলাপের ফলে কল কারখানায় কর্ম বিরতি হরতাল কাজে ফাঁকি দেয়া এগুলো লেগেই থাকে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপদন হ্রাস পায়, উৎপদন হ্রাস পেলে লাভজনক শিল্প লোকসান দিতে থাকে। কোন কোন সময় মালিকরা তাদেও শিল্প করাখানা বন্ধ কওে দিতে বধ্য হয়। এভবে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি ÿতিগ্রস্থ হয়।
বেকার সমস্য:
দেশে প্রায় দুই কোটি লোক বেকার রয়েছে। ফলে এরা দেশের অর্থনীতিতে কোন অবদান রাখতে পরছেনা। এ বিশাল জনসংখ্যাকে এভবে বেকার রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভবনা।কারণ এরা অনুৎপাদন শীল থাকলেও এদেও জন্য সরকারকে অন্ন , বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যাবস্থা করতে হয়। অর্থাৎ দেশের বেকার জনগোষ্ঠি উৎপাদন কর্মকাÐে জড়িত না থাকলেও তাদেও আহার ও বসস্থানের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ছে। সমস্যা যখন তীব্র হয় তখন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। একমনকি শাসন তান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি সহ আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। অতএব দেখা যাচ্ছে বেকার সমস্য া দেশের অর্থনৈকিত উন্নয়নের পথে বিরাট বাধা।

সরকারী নীতি বা¯Íবায়নে ধীর গতি:
সরকারের গৃহীত নীতি বা¯Íবায়নে ধীর গতি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত করে। যে কোন নীতি গ্রহণ করার পর সঠিক সময়ে তা বা¯Íবায়ন করা আবশ্যক । তা না হলে গৃহিত নীতি অনেক সময় তার উপযোগীতা হারিয়ে ফেলে। সরকারী নীতি বা¯Íবায়নের এ ধীর গতির ফলে অনেক সময় অনেক সুন্দও ও কার্যকর পরিকল্পনা ও ভে¯েÍ যায়। এতে আর্থিক ÿতিও সাধিত হয়। দাতা দেশ সহ অনেক বিদেশী বিনিয়োগ কারীকে সরকারী নীতি বা¯Íবায়নে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিশ্বব্যাং এটিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ÿেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় সমূহ দূরীকরণের উপায়:
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যে সব বাধা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থ নিতে হবে। নি¤েœ এ সম্পর্কে সংÿেপে আলোচনা করা হল।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে কোন দেশের পÿেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার করণে দেশে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ সহ ব্যাবসা বাণিজ্য প্রভৃতি ব্যাহত হয়। ফলে অর্থনৈতি ÿতিগ্রস্থ হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ¯øথ হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য অব্যাহত ভাবে সকল কর্মকাÐ সচল রাখা একান্ত আবশ্যক। এর জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনূকুল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত জরুরী। নতুন সহা¯্রাব্দের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ও তার অফুরন্ত সুযোগের সদ্বব্যাবহার করে কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি ও দারিদ্র বিমোচনের ধারা দ্রæততর করার স্বার্থে সত্যিকার জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। এই সব রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিগত ও দলীয় দ্বন্দ¦ সংঘাত ভুলে দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করতে হবে।

অবকাঠামের উন্নয়ন:
উন্নত অবকাঠামে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে আমাদেও কে রা¯Íাঘাট, সেতু, গ্যাস, বিদ্যুত, ও টেলিফোনের ন্যায় অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা আরো বাড়াতে হবে। সা¤গ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উদাহরণ হিসেবে যমুনা বহুমুখী সেতুর কথা বলা যায়। এ সেতু দেশেরে দ্ইু অঞ্চলকে যুক্ত করার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও অর্থনৈতিক অগ্রগুতির ÿেত্রে এক নতুন যুগের সৃষ্ঠি করেছে।

রপ্তানী বৃদ্ধি:
বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনৈতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু দুখের বিষয় হলো বাণিজ্যিক ভারসাম্য সর্বদাই আমাদেও প্রতিকূলে। অর্থৎ আমারা যে পরিমান দ্রব্য রপ্তানী করি তার চেয়ে অনেক বেশী আমাদানী করে থাকি । তাই আমাদেও প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে হলে রপ্তানী বাড়াতে হবে। এই লÿে নতুন নতুন রপ্তনী যোগ্য দ্রব্য উদ্ভাবন করতে হবে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ভারত , পাকিস্থান শ্রীলংকা , চীন, জাপান সহ দÿিণ ও দÿিণপূর্ব এশিয়ার প্রায় সব দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য আমাদের রপ্তনী আয় বাড়াতে হবে।

শিল্পের প্রসার:
শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিবিড় ভাবে জড়িত। একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈকিত উন্নয়ন অনেকাংশে শিল্পায়নের উপর নির্ভরশিল। শিল্পায়ন দেশকে বাণিজ্য ঘাটতির হাত থেকে দেশকে রÿা করে। এবং একই সাথে দেশে অথিক কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করে। শিল্পায়ন অথিক সর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস ্যার সমাধান ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখ্ েতাই আমাদেরকে শিল্পের বিকাশ বিশেষ করে ÿুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের দিকে নজর দিতে হবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি:
কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের ÿেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিনিয়োগের ফলে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপিত হয় , সৃষ্টি হয় নতুন কর্মসংস্থান, বৃদ্ধি পায় উৎপাদন । এছাড়া বিদেশী বিনিয়োগের ফলে নতুন প্রযুক্তির আদান প্রদান ঘটে। যা দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ সহ দেশীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদÿেপ সরকারকেই নিতে হবে। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দÿিণ কোরিয়া প্রভৃতিদেশ বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে অনেক উন্নত পর্যায়ে নিতে সÿম হয়েছে।

শিÿার প্রসার:
শিÿা একটি জাতির উন্নতির মূলমন্ত্র। এদেশে শিÿার হার বর্তমানে ৫৪.৮ শতাংশ বলা হলেও এদের বিরাট অংশ কেবল নাম স্বাÿর করতে জানে, তা স্বত্তেও একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ৫৪.৮ শতাংশ শিÿা যথেষ্ট নয়। একে শতভাগে নিয়ে যেতে হবে। শিÿা ব্যতিত বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি জ্ঞান লাভ যন্ত্রপতি ও কলাকৌশল উদ্ভাবন ও সেগুলোর ব্যাবহার সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হলেও চাই শিÿা। পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোর দিকে লÿ করলে দেখা যাবে সেসব দেশে শিÿিতের হার শতকরা শত ভাগের কাছাকাছি। অধ্যাপক মার্শাল তাই শিÿাকে পুঁজি বিনিয়োগের সর্বোৎকৃষ্ট মাপকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যাবহার:
অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক সম্পদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদ একদিকে যেমন শিল্পের কাঁচামাল যোগায় তেমনি রপ্তানির মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সাহায্য করে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য না থাকলেও এর অবস্থা একেবারে খারপও নয়। আমাদের রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, কঠিনশিলা, কাঁচ বালি, খনিজ বালি প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের যথোপযুক্ত ও সর্বাধিক ব্যাবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া নতুন নতুন খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণের জন্য সরকারকে ব্যাবস্থা নিতে হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:
কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার অত্যাবশ্যক। উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির ফলন অনেক বৃদ্ধি করা সম্ভব। ধান উৎপাদনের ÿেত্রে উন্নত পযুক্তি ব্যবহারের উপযোগীতা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে কৃষির অন্যান্য ÿেত্রেও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তদুপরি আমাদের শিল্পায়নের জন্য দরকার টেকসই প্রযুক্তি।এতে একদিকে যেমন মোট উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচও কমে আসবে। পুঁজি ও শ্রমের বর্ধিত দÿতার সাথে আধুনিক প্রযুক্তির যথোপযুক্ত প্রয়োগ না থাকলে উন্নয়নের গতি মন্থর হতে বাধ্য। তাই একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ নজর দিতে হবে।

কৃষির উন্নয়ন:
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে কৃষিজ উৎপাদন থেকে। তাছাড়া প্রায় ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দেয় কৃষি। কৃষিকে বাদ দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও প্রশ¯Í হতে পারে । তাই দরকার হলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষিতে বায়োটেকনোলজির ব্যবহার
বাংলাদেশে বর্তমান খাদ্য চাহিদাকে মেটাতে কৃষিতে বায়োটেকনোলজির গুরুত্ব অপরিসীম। এখন আমরা ধান, পাট, গমসহ নানাবিধ ফসলের উন্নত বা উফশী জাত উদ্ভাবনে মিউটেশন ব্রিডিং বা সংকরায়ন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। সংকরায়ন পদ্ধতিতে কাংখিত এক বা একাধিক গুণাবলী নির্ভর কয়েকটি জিনকে কোন একটি জাতের মধ্যে আনা হয়। প্রকৃতপÿে সংকরায়নের সময় পরবর্তী প্রজন্মে অসংখ্য কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত জিনের স্থানান্তর ঘটে থাকে। এর ফলে দেখা যায় কোন ফসলের ফলন বৃদ্ধি পেলেও কোন বিশেষ রোগ প্রতিরোধ ÿমতা কমে যায়। অথবা রোগ প্রতিরোধ ÿমতা বৃদ্ধি পেলেও ফলন কমে যায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৭টি উফশী ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এ সম¯Í ধানের জাত উদ্ভাবনে কোন কোন সময় ক্রসিং বা সংকরায়ন পদ্ধতির অবলম্বন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর আণবিক জীব বিজ্ঞানী ডঃ জন বেনেট এর ভাষায় ট্রান্সজেনিক ধান গাছ সাধারণ ধান গাছের মতই তবে পার্থক্য যা হলো বাইরের কোন উৎস থেকে আকাঙ্খিত সেট বা একাধিক জিন এর মধ্যে সংযোজন করা হয়। আবার ব্যাকটেরিয়ার সুডোমোনাস প্রজাতির জিন বরফ বা তুষার প্রতিরোধী। এজন্যে সেই জিনকে ষ্ট্রবেরি, আপেল এবং আলুগাছে প্রতিস্থাপন করার ফলেই এই সম¯Í ফসল বরফ বা তুষারপাতে তেমন কোন ÿতি করে না। আবার বিটক্সিন জীন তামাক ও টমেটো গাছে প্রতিস্থাপনের ফলে সৃষ্ট গাছ টমেটোর ইনওয়ার্ম দ্বারা আক্রান্ত হয় না। এছাড়া অড়হর এবং ছোলায় স্থাপনের পর সৃষ্ট গাছ ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী হয়। একই কৌশল অবলম্বনে তুলাগাছ বোলওয়ার্ম এবং লাল কটনবাগ প্রতিরোধী হয়। কৃষি বাই প্রডাক্ট, বন এবং খাদ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা দিয়ে শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। এক ধরনের জীবাণুর সাহায্যে ফার্মান্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর থেকে প্রোটিন তৈরী করা যায়।

ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অবসান:
বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে যদি খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা হয় তাহলে সেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা থেমে যেতে বাধ্য। কারণ দেশে এমনিতেই মূলধনের অভাব। তদুপরি এরূপ বিশাল পরিমাণ মূলধন আটকা পড়ে থাকলে দেশে বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়াসহ শিল্পোন্নয়ন ব্যহত হয়। শিল্পোন্নয়ন ব্যহত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, ফলে বেকারত্ব বাড়ে। এভাবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই দেশের স্বার্থে এসব ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সাথে ঋণ বিতরণের সময় আরো অধিক সতর্ক হতে হবে। সোজা কথায়, যে কোনো মূল্যে বর্তমানে বিদ্যমান ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে।

স্বচ্ছ,জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিতকরণ:
দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। ফলে কোন কাজ বা পরিকল্পনা সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে বা¯Íবায়ন হচ্ছে না। বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীরাও এ কারণে তাদের পুঁজি বিনিয়োগে আস্থাহীনতায় ভুগছে, যা দেশের অর্থনীতিতে পভাব ফেলছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এজন্য কমবেশি দায়ী। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতিা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাছাড়া প্রশাসনকে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। তাহলে দেশে দুর্নীতি হ্রাস পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত অবস্থান:
একবিংশ শতাব্দির বিশ্ব হলো মুক্ত বাণিজ্যের বিশ্ব। বাণিজ্যের ÿেত্রে বিশ্ব আজ সীমাবিহীন একক বাজারে পরিনত হয়েছে। এমতাবস্থায় একবিংশ শতাব্দির অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো আজ শঙ্কিত।এ পরিস্থিতিতে ÿতিগ্র¯Í হওয়ার যেমন আশঙ্কা রয়েছে, তেমনি সুযোগ রয়েছে লাভবান হওয়ার। বাংলাদেশকে তাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায়,বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক ফোরামগুলোতে এমন কৌশল অবলম্বন করতে হবে, যাতে দেশে অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তার থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা আদায়ের জন্য সরকারকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন:
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা। অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেÐারবাজি ইত্যাদির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের মূলধন বিনিয়োগ না করে বসে থাকে। আবার কেউ কেউ সাহস করে বিনিয়োগ করলেও বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। ফলে দেশ ÿতিগ্র¯Í হচ্ছে,ব্যহত হচ্ছে দেশের উন্নয়ন। তাই সন্ত্রাস দমনে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশি-বিদেশি সকল বিনিয়োগ কারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর তা সম্ভব হলেই দেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সÿম হবে।

যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি:
দারিদ্রের পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত বাংলাদেশে মূলধন গঠনের হার অত্যন্ত কম। ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় উন্নয়নে যন্ত্রপাতির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কলকব্জা, কাঁচামাল বিদেশ থেকেই সংগ্রহ করা হয়। এভাবে শিল্পজাত দ্রব্যসামগ্রী আমদানি করে দেশকে শিল্পায়িত করা হয়। এতে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি ঘটে। ফলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।

উদ্ধৃত্ত পণ্যের রপ্তানি :
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে পাট, চা, চামড়া, তামাক প্রভৃতি উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদা পূরণের পর উদ্ধৃত্ত থাকে। বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে এ উদ্ধৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এ সকল অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশীয় উন্নয়ণ কাজে ব্যবহার করা হয়।

বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস :
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। কিন্তু রপ্তানির স্বল্পতার দরুন বৈদেশিক মুদ্রার জন্য বর্তমানে আমাদেরকে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এরূপ অতিমাত্রায় নির্ভরতা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এÿেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রপ্তানি বৃদ্ধি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বৈদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা যায়।

প্রযুক্তি বিদ্যার আমদানি :
বর্তমান যুগ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তিতে যে যত উন্নত সে তত এগিয়ে। তাই প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাণিজ্যের মাধ্যমে নিত্য নতুন প্রযুক্তি আমদানি করে দেশকে বর্তমান সময়ের সাথে যুগোপযোগী করে তোলা যায়।

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানি :
বিশ্বের সপ্তম জনবহুল দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। জনসংখ্যার উত্তরোত্তর বৃদ্ধির করণে পণ্য সামগ্রির চাহিদা ও দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশীয় চাহিদা পূরণে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য দ্রব্য বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

বাজারের বি¯Íৃতি :
বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত পণ্য উৎপাদন কম বলে বাজার ও সীমিত। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশের বাজারে বিক্রি কওে আর্ন্তজাতিক ÿেত্রে বাজারের বি¯Íৃতি ঘটানো সম্ভব যা দেশের পরিচিতি ও সুনাম বয়ে আনতে পারে।

মূলধন বৃদ্ধি :
বৈদেশিক বাণিজ্য আর্ন্তজাতিক হাতকে প্রশ¯Í করে। ফলে বিদেশ থেকে অতি সহজে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা যায়, যা মূলধনের গতিশীলতা বুদ্ধি করে।

একচেটিয়াত্ব প্রতিরোধ :
বৈদেশিক বাণিজ্য দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করায় একচেটিয়া কারবার প্রতিরোধে ব্যাপক অবদান রাখতে পারে। এতে উৎপাদনকারীকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকতে হয়। কাজেই তাকে পণ্য উৎপাদনে ও গুণগত মানের দিকে সজাগ দৃষ্টির পাশাপাশি মূল্যের প্রতিও সুনজর দিতে হয়।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা :
ঝড় জলোচ্ছ¡াসের বাংলাদেশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈদেশিক বাণিজ্য তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ. আনীয় আমদানি করে দেশের জনগণকে দুর্ভিÿ ও মৃত্যুর হাত থেকে রÿা করা হয়।

খাদ্য ঘাটতি পূরণ :
খাদ্য ঘাটতি বাংলাদেশের একটি নিয়মিত ঘটনা। খাদ্য ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী আমদানি করে থাকে। বৈদেশিক বাণিজ্য ছাড়া ও বিপুল পরিমাণ খাদ্য ঘাটতি বাংলাদেশের পÿে পূরণ করা সম্ভব নয়। কাজেই বিদেশ থেকে পণ্যসামগ্রী আমদানি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘাটতি পূরণ করার জন্য বৈদেশিক বাণিজ্য অপরিহার্য।

প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার :
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সয়ংসম্পূর্ণ না হলেও এর রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ প্রাপ্তির সমূহ সম্ভাবনা। বিদেশ থেকে প্রযুক্তি আমদানি করে প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার-আহরণে বৈদেশিক বাণিজ্য একান্ত দরকার। প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কৃত হলে দেশের অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে বলে আশা করা যায়।

আর্ন্তজাতিক সহযোগিতার প্রসার :
বৈদেশিক বাণিজ্যের দ্বারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে ভাব ও সংস্কৃতি আদান-প্রদান ঘটে। ফলে বাণিজ্যরত দেশেসমূহের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের মনোভাব সৃষ্টি হয়। এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে ভাব ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান এক অপরকে পরিচিত করে এবং আর্ন্তজাতিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার:
বিশ্বে স্নায়ু যুদ্ধের অবসান ঘটেছে অনেক আগেই। আর এখন চলছে বিশ্বব্যপি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। একবিংশ শতাব্দির শুরুতে অর্থনীতির এ যুদ্ধ উন্মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। বাংলাদেশকেও এ যুদ্ধে বাধ্য হয়ে অংশ নিতে হচ্ছে। এখানে টিকে থাকতে হবে নিজের ক্ষমতায়।তাই সরকারকে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লÿ্যে অব্যাহত ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যেতে হবে।এজন্য রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দকে ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি , উদারতা, সহযোগীতা ও সমঝোতার মনোভাব নিয়ে দেশে মৌলিক বিষয়ে প্রকৃত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন কায়েম করতে হবে। জানমালের নিরাপত্তা, অনুক‚লবিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি হলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা নিশ্চিত হবে।আর দেশ নতুন সহস্রাব্দে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ও বানিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের সুযোগ নিয়ে জাতি হিসেবে আমরা মাথা উঁচু কওে দাঁড়াতে পারবো।

তথ্য সূত্র
উন্নয়নের অর্থনীতি- রেজোয়ানুল ইসলাম
বাংলাদেশের অর্থনীতি অতিত বর্তমান ভবিষ্যৎ-এম এম আকাশ
সামষ্টিক অর্থনীতি-মনোতোষ চক্রবর্তী
আধুনিক অর্থনীতি- ড. আনিসুর রহমান
বাংলাদেশের অর্থনীতি- মনোজ কুমার দাস
অর্থনৈতিক সমীÿা ২০০৯-১০
দৈনিক প্রথম আলো
দৈনিক কালের কন্ঠ
দৈনিক ইত্তেফাক
ইন্টারনেট

গ্রন্থকার:
আশরাফুজ্জামান মিনহাজ
গবেষক ও পিএইচডি, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, কানাডা।

***আমার লেখা প্রবন্ধটি সামাজিক সচেতনতা মূলক।তাই, প্রবন্ধটি শেয়ার করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহয়তা করুণ এবং এই বিষয়ে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা, মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে দয়া করে মন্তব্য করুণ***

*** In my article based on social awareness to share my article to awake consciousness. Now, you’re cordially invited to read through article or comments below and share your own thoughts through the comment box.***

Penman:
Ashrafuzzaman Minhaz​
Researcher at York University​,Canada
Ph.D in Public Administration and Good Governance,York University.

https://twitter.com/A_Minhaz
www.facebook.com/Minhaz

Member of the federal executive committee of Conservative Party of Canada – Parti conservateur du Canada​