ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

পারিবারিক সহিংসতা বর্তমান বিশ্বে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এরূপ সহিংসতা নানান রূপে, নানান ভাবে আবির্ভূত হয়ে সমাজ এবং মানবীয় উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এরূপ সহিংসতার বিষয়টিকে প্রায়শঃই সামাজিক, রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষা করা হয়। শুধু তাই নয় পারিবারিক সহিংসতার পুরো বিষয়টিকে আমাদের সমাজে তেমনভাবে গুরুত্বারোপও করা হচ্ছে না।

পারিবারিক সহিংসতার দু’টি রূপ। প্রথমত, পুরুষ কর্তৃক নারীর উপর নির্যাতন বা সহিংসতা। দ্বিতীয়ত, নারী কর্তৃক পুরুষের উপর নির্যাতন বা সহিংসতা। এছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর নির্যাতন বা সহিংসতাও পারিবারিক সহিংসতার অন্তর্ভুক্ত। এখনকার আলোচনায় শুধু পুরুষ বা নারীর উপর নির্যাতন বা সহিংসতার বিষয়টিই আলোচনা করব।

পুরুষ কর্তৃক নারীর উপর নির্যাতন বা সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং এরূপ নির্যাতন বা সহিংসতা রোধকল্পে রাষ্ট্রীয়ভাবেও নানান আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজের অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং অসহায় শ্রেণী বিবেচনা করে নারীকে সুরক্ষার জন্য সময়ে সময়ে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর প্রয়োগও ঘটানো হচ্ছে। এরূপ আইন প্রণয়ন এবং তা কঠোর প্রয়োগের ফলে যে সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বিপরীতভাবে এরূপ আইনের অপপ্রয়োগ দ্বারা যে সমাজের আর একটি অংশকে উপেক্ষা করা হচ্ছে তা কি আমাদের সমাজ সংস্কাররকদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে না ?

নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীর প্রতিপক্ষ হিসেবে পুরুষকেই দাঁড় করানো হয়। যুগে যুগে নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে পুরুষ কর্তৃক, সাধারণ্যে এটিই প্রচলিত। কিন্তু নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টি তেমনভাবে কখনোই আলোচনার পাদ- প্রদীপে আসেনি। পত্র পত্রিকায়ও এ সংক্রান্ত খবরগুলো খুব কমই আসে। আসলেও তা নারীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আসে। কখনো বা পুরুষ নির্যাতনকারী নারীকে বীরাঙ্গনার আসনে বসিয়ে তাকে এরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য বাহবা ও দেওয়া হয়। এতে করে যে প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকারকেই ভূলুন্ঠিত করা হচ্ছে সে ব্যাপারে সমাজ সংস্কারক বা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্য কী ?

পুরুষ নির্যাতনের বিষয়টি আমাদের সমাজে তেমনভাবে স্বীকৃতি পায়নি যদিও বাস্তবে এরূপ নির্যাতনের চিত্রটি ভয়াবহ। এরূপ স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-

১) আমাদের সমাজে নারীকে সবসময়ই কোমল স্বভাবের এবং শান্তি স্থাপনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত নারীদের প্রতি প্রচলিত ধারণা এই যে, তারা কখনোই সহিংস আচরণকারী হতে পারে না। এর ফলে নারী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েও একজন পুরুষ কারো কাছেই তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে পারে না।

২) নির্যাতিত হয়ে পুরুষ আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে গেলে কিংবা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ডাক্তারের নিকট গেলে তারা বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব আরোপ করে না বা অনেক সময় হেসেই উড়িয়ে দেয়। মাথায় বা শরীরে গুরুতর জখম নিয়ে নির্যাতিত পুরুষ থানা-পুলিশ বা ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে “বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে আহত হওয়া” বা “দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোন কারণে আহত” হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে।

৩) নারীকে সুরক্ষার জন্য প্রণীত কঠোর কঠোর আইনও পুরুষকে উল্টো হেনস্থা হওয়ার আশংকায় নির্যাতনের বিষয়টি চেপে থাকতে বাধ্য করে। নারী নির্যাতন বিষয়ক আইনের স্পর্শকাতরতার কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নির্যাতিত পুরুষদের পক্ষাবলম্বন করতে ইচ্ছুক হয় না।

৪) প্রকৃতিগতভাবেই পুরুষরা নারীদের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী হওয়ায় নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করতে তারা লজ্জ্বাবোধ করে। নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে অন্য কারো সাথে আলোচনা দূরে থাক বিষয়টি তারা স্বীকারই করে না।

৫) নারী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে বিষয়টি প্রকাশ পেলে সমাজে বা কর্মক্ষেত্রে তারা হাসির পাত্র হয়ে উঠবে এই আশংকায় যথাসম্ভব বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে। লোক লজ্জ্বার ভয়ে নির্যাতন সহ্য করেও পুরুষ কর্তৃক সংসার ধরে রাখার চেষ্টার ফলে ‘পুরুষ নির্যাতন’ বিষয়টি তেমনভাবে প্রকাশ্যে আসে না।

৬) আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা এই যে, নির্যাতিত নারী তার অসহায়ত্বের কারণে কিংবা ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার ভয়ে নির্যাতন সহ্য করেও সংসারে টিকে থাকার চেষ্টা করে, কিন্তু একজন পুরুষের তো এই ভয় নেই। তাই “নির্যাতিত পুরুষ নির্যাতন সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে”- এটি অবিশ্বাস্য।

৭) খুব সম্ভবত একজন নির্যাতিত পুরুষ তার সঙ্গিনীর চেয়ে কম আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হয়ে থাকে। পৌরুষত্বের দুর্বলতার কারণে সঙ্গিনী কর্তৃক নির্যাতনটাকেই নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়ে সমাজ-সংসারের ভয়ে সে চুপ থাকে।

৮) পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে পুরুষ নিজে তার দায়ভার এড়াতে পারে না। এরূপ সহিংসতার ক্ষেত্রে তারও কিছু দায়ভার আছে মনে করে সে বিষয়টি চেপে থাকতে পছন্দ করে।

৯) “সাময়িক উত্তেজনার কারণে সহিংসতা ঘটেছে” “ভবিষ্যতে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে” -এইরূপ আশায় পুরুষরা বিষয়টি প্রকাশে তেমন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।

১০) যদি ভবিষ্যতে সঙ্গিনীর সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় তবে নির্যাতনের বিষয়টি নাড়াচাড়া করলে শুধু তিক্ততারই সৃষ্টি হবে, ভবিষ্যত সংসার জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, উপরন্তু সন্তানদের উপরও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে- এই আশংকায় নির্যাতনের বিষয়টি তারা চেপে যেতে চায়।

পুরুষ কর্তৃক এরূপ নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকৃতির কারণেই “পুরুষ নির্যাতন” বিষয়টি আমাদের সমাজে এখনও তেমনভাবে স্বীকৃতি পায় নি। পত্র-পত্রিকায় পুরুষ নির্যাতন সংক্রান্ত যে দু’চারটি ছিটে-ফোঁটা সংবাদ স্থান পায় তা পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। পুরুষ নির্যাতন সংক্রান্ত এরূপ সংবাদ পত্রিকার পাতায় স্থান না পেলেও সমস্যাটি যে দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এরূপ সমস্যার কারণে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজকে আরও বিশৃঙ্খল অবস্থার দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে-এটি অনস্বীকার্য। তাই সমস্যাটি নিয়ে সমাজ গবেষকদের খোলামেলা হওয়া উচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও এ ব্যাপারে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা উচিত। শুধু নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে প্রণীত আইন-ই যে সমাজে শৃঙ্খলা আনয়ন করবে সমাজ সংস্কারকরা তা এখন আর মনে করেন না। তদুপরি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের অপপ্রয়োগের ফলে পুরুষরা যে ভুক্তভোগী হচ্ছে না তারই বা নিশ্চয়তা কি ?

এইবার আসা যাক ভিন্ন প্রসঙ্গে। পারিবারিক সহিংসতামূলক ঘটনা দীর্ঘকাল ধরে চলে এলেও একবিংশ শতাব্দীর শেষপর্যায়ে বিষয়টি বৈশ্বিকপর্যায়ে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজবিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিবেচনায় আসে। বাংলাদেশে যতরকম সহিংসতার ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগই পারিবারিক সহিংসতা এর প্রত্যক্ষ শিকার নারী এবং পরোক্ষ শিকার শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শহরাঞ্চলের ৫৩% নারী ও গ্রামাঞ্চলের ৬২% নারী পরিবারে তাদের স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজন দ্বারা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন। জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী ৪৩% নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। এর মধ্যে ১১% যৌতুকবিষয়ক নির্যাতন। তবে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত অবস্থা আরো নাজুক।

পরিবারে শিশু নির্যাতনের হার ক্রমেই বেড়েই চলছে তা সে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যেভাবেই হোক। এটি সর্বজনবিদিত যে পারিবারিক নির্যাতনে শিশুরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাবে তাদের মধ্যকার ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে একদিকে তারা মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়, অন্যদিকে তাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক ও সাবলীলভাবে বেড়ে ওঠা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
শুধু নিম্নবিত্তই নয়, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত নাগরিক সমাজের চার দেয়ালের মধ্যেও পারিবারিক সহিংসতার শিকার নিষ্পেষিত নারীর কান্না গুমরে ওঠে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে প্রকাশ্যে কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে সংঘটিত এসব নির্যাতনের ঘটনা এখনো ব্যক্তিগত বিষয় বলে বিবেচিত হয়। এমনকি আইনপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিষয়টি পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নেয়। ফলে নির্যাতনের শিকার নারী পুলিশ স্টেশন বা আদালতে যেতে তেমন ভরসা পায় না। কেননা সেখানেও তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি বা পুনরায় নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া সামাজিকভাবেও তারা বিভিন্নরকম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন।

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সব ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। উপরন্তু নারীর অনগ্রসরতা বিবেচনায় ২৮ (৪) অনুচ্ছেদে নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন আইন বা নীতি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০। কেননা প্রচলিত আইনগুলোয় পারিবারিক সহিংসতা গুরুত্ব পায়নি এবং কোনোভাবেই এর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এছাড়া দণ্ডবিধি বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি শাস্তি পেতে হয়। ফলে সমঝোতার আগেই পরিবারগুলো ভেঙে যায়; যা পরিবার এবং সমাজের জন্য হুমকি। এ পর্যায়ে এমন একটি আইনের প্রয়োজন দেখা দেয়, যে আইনের মাধ্যমে পরিবারে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রণীত হয় পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ এবং এর বিধিমালা ২০১৩।

এই আইন বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিবন্ধকতাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে
১. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ একটি নতুন আইন, তাই অধিকাংশ মানুষ এ আইন সম্পর্কে অবহিত নয়;
২. আইনটি কেবল পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য, তাই এটি খুবই স্পর্শকাতর;
৩. আদালত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রয়োগকারী কর্মকর্তাসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের যথাযথ সমন্বয়হীনতা;
৪. প্রচলিত আইন এবং সমাজব্যবস্থায় তৈরি পুরাতন এবং প্রচলিত মানসিকতা;
৫. পুরুষতান্ত্রিক ধ্যানধারণা ও ৬. নারীর ক্ষমতায়নে বাধাগ্রস্ততা ইত্যাদি।

উপরোলি্লখিত প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য পারিবারিক পরিমণ্ডলে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার (যেমন: পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা) ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে; পারিবারিক সুরক্ষা আইন ২০১০ ও এর বিধিমালা ২০১৩ এর ওপর সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণ এই আইন বাস্তবায়নে এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে এবং কমিউনিটিকে নারী ও শিশু অধিকার সম্পর্কে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং পারিবারিক নির্যাতনবিরোধী আইনগুলোর বাস্তবায়ন মনিটর করার মাধ্যমে এ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০-এর কার্যকর প্রয়োগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পারিবারিক সহিংসতার শিকার সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা আইনের আশ্রয় নেয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। এমনকি সহিংসতার ঘটনা পারিবারিক পরিম-লে সংঘটিত হওয়ায় ও আইনটি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই আইনের আশ্রয় নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে না। তাই আইন প্রয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিতদের জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়া অত্যাবশ্যক। তাছাড়া পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০-এ সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি আদালত কর্তৃক আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে সারভাইভারের আস্থার জায়গাটি সুদৃঢ় করার ব্যবস্থা এবং দ্রুততার সঙ্গে আইনি সহায়তা প্রদান করার যে কথা বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ আইনের কার্যকর প্রয়োগের লক্ষ্যে গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে সরকার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে এমন সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে আলোচ্য আইনটির পাশাপাশি অপরাপর আইনের মাধ্যমে প্রতিকারের উপায়গুলো জানিয়ে দিতে হবে। সর্বোপরি এ আইনের প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণে আইনের বাস্তবায়নে আরো সহজ-সরল কোনো নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতার মূল স্রোতধারায় নারীদের অংশগ্রহণ তখনই সম্ভব হবে যখন সমাজে নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতার মাত্রা কমে যাবে এবং নারীদের অবস্থানের উন্নতি হবে। একই সঙ্গে জাতীয় জীবনে পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমঅধিকার এবং সমান অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

গ্রন্থকার:
আশরাফুজ্জামান মিনহাজ
গবেষক ও পিএইচডি, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, কানাডা।

***আমার লেখা প্রবন্ধটি সামাজিক সচেতনতা মূলক।তাই, প্রবন্ধটি শেয়ার করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহয়তা করুণ এবং এই বিষয়ে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা, মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে দয়া করে মন্তব্য করুণ***

*** In my article based on social awareness to share my artConservative Party of Canada – Parti conservateur du Canada​ awake consciousness. Now, you’re cordially invited to read through article or comments below and share your own thoughts through the comment box.***

Penman:
Ashrafuzzaman Minhaz​
Researcher at York University​,Canada
Ph.D in Public Administration and Good Governance,York University.

https://twitter.com/A_Minhaz
www.facebook.com/Minhaz

Member of the federal executive committee of Conservative Party of Canada – Parti conservateur du Canada