ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সামাজিক মাধ্যমে পশু যবেহ ও মাংস কর্তনের ছবি দেখে মনেই হতে পারে কুরবানি মানে হত্যাযজ্ঞ৷ আদতেই কি তাই? কোরবানি বাহ্যিকভাবে পশু যবেহ হলেও এর শিক্ষা কী? আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তাঁরই প্রদর্শিত পন্থায় নিজের পশুত্বকে নির্জীব করাই কোরবানি৷

কোরবানি ধর্মীয় বিধান, এটাকে হত্যাযজ্ঞে পরিণত করছেন আপনি৷ আপনার প্রবাহিত রক্ত, গলা কাটা বা চালচিলা পশু, টুকরো করা মাংসের সাথে তোলা সেলফি দেখলে মনে হয় নিষ্ঠুরতাতেই আপনার আত্মতৃপ্তি৷আল্লাহর কসম, আপনার এইসব সেলফি আপনাকে যতই তৃপ্ত করুক, আমার মনে হয় আপনি একটা শয়তান৷

আরেক জাতের শয়তান আছে, তারা পশু হত্যা মানে নিষ্ঠুরতা মনে করে৷ মানুষ কৃষিজীবী হওয়ার আগে শিকারজীবী ছিল ৷ প্রাচীন ভারতবর্ষের মানুষ তো শিকারি হওয়ার কারণে নাগরিক জীবন পছন্দই করতো না৷ তারা কোন নগর গড়ে তোলেনি, বরং জঙ্গলে বসবাসকেই উত্তম মনে করতো৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, ভারতবর্ষে কেন পাননি একবার ভাবুন তো?

খাদ্যের প্রয়োজনে মানুষ পশু শিকার করতো৷ মানুষ যখন কৃষিজীবি হয়ে গেল তখনও পশু শিকার বন্ধ করেনি৷ এখনও মানুষ শিকারে যায় প্রাচীন প্রবৃত্তি তাড়িত হয়ে৷ মনুষ্য খাদ্যের অর্ধেক এখনো মাংস নির্ভর৷ যারা মাংস খায় অথচ পশু হত্যার বিরুদ্ধাচরণ করে তারা ভণ্ড, শয়তান৷ আপনি মাংস খান না সবজি খান৷ আপনি কি জানেন না গাছেরও প্রাণ আছে৷ নরবলি দেওয়া মানুষেরা পশু কোরবানি দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে তৃপ্ত করতে শিখেছিল৷ পশু হত্যা বন্ধ করে আবার নরবলি চালু করা কতটুকু যৌক্তিক হবে?