ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

মানসিকভাবে একজন ব্যক্তি কতটা সুস্থ থাকবে তা নির্ভর করে তার পরিবার ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর। মানুষের দৈহিক সুস্থতার সাথে সাথে মানসিক সুস্থতাও অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত মানসিক চাপে বা দুশ্চিন্তায় একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, নেমে আসে কালো অধ্যায়।

অতিরিক্ত মানসিক চাপে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে এবং রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় অথবা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী শিরা ছিদ্র হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ছড়িয়ে যায়। এসব কারণে ঘটে মৃত্যুর মতো ঘটনা। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র নই, এসব বিষয়ে আমার জ্ঞান স্বল্প। তাই ভালোভাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে আমি অক্ষম। তবে সাধারণ কিছু বিষয় তো সবাই জানে- অতিরিক্ত মানসিক চাপে প্রতিনিয়ত মাথা ব্যাথা হতে পারে, হতে পারে হার্টের অনেক সমস্যা। দুশ্চিন্তার আরও অনেক ভয়াবহতা রয়েছে।

একটু লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, আমাদের সমাজে অসচেতন এবং স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন অনেক অভিভাবক আছেন যারা তাদের সন্তানকে সেই ছোটবেলা থেকে মানসিক চাপের মধ্যে রেখে বড় করছেন। তারা তাদের সন্তাদের সফলতার হাতিয়ার হিসেবে ভয়ভীতি দেখানোকে বেছে নিচ্ছেন। হয়তো তারা মনে করছেন, ভয় দেখালে সন্তান তাদের কথা শুনে সফলতার মুখ দেখাবে। এমন ভাবনায় অভিভাবকদের কোন দোষ নেই। কেননা তারা মনে করছেন ভয় দেখালে বাচ্চারা অনেক বেশি সফল হবে সর্বক্ষেত্রে। তারা হয়ত জানেন না, উৎসাহ এবং প্রেরণা শিশুদের মেধা বিকাশে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে। সেইসব অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত শিশুদের মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রাখেন। শিশুরা ছোটবেলা থেকে ভয় পাওয়া শিখে যায়। তাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা ঘুমন্ত থেকে যায়। সময় হয়ে উঠেনা তাদের নিজেদের মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর। তারা ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে সবার সামনে বহিঃপ্রকাশ করতে পারে না। অতিরিক্ত শাসন কিংবা মানসিক চাপে অনেক শিশু যেমন অসুস্থ হয়ে যায়, তেমনি অনেক শিশু হতে পারে অন্যরকম স্বভাবের মানুষ।

আজকের শিশু ভবিষ্যতে জাতির কর্ণধার। দেশ ও সমাজকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমত শিশুদের মেধা বিকাশে মনযোগ দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ভাবে শিশুরা মানসিক চিন্তায় না পরে। সবসময় যেন উৎসাহ এবং প্রেরণা নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যায় সৃজনশীল সব কর্মের মাধ্যমে। আমাদের উচিৎ সবসময় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় মনে ধারণ করে সৃজনশীল সব কর্মের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়ার শপথ নেয়া। পাশাপাশি দরকার শিশুদের মেধা বিকাশে নজর দেয়া। তাহলে সুস্থ মন ও সুস্থ শরীরে সুন্দর সব ভাবনার প্রকাশ ঘটানো সম্ভব হবে এবং সবাই মিলে সুন্দর ও সৃজনশীল সব ভাবনার বাস্তবে রূপ দিতে পারব নিজ কর্মের মাধ্যমে। ফলে দেশ হবে সুখী এবং সমৃদ্ধ।