ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আমরা খুব ভালো করে জানি, প্রতিটি রাষ্ট্রের ধাতব আত্মায় খোদাই করা আছে অর্থলিপ্সা, নিষ্ঠুরতা আর ভণ্ডামি। কিন্তু যখন একটি রাষ্ট্র নিছক রাষ্ট্র না থেকে সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়, তখন তার কর্মপরিধির মাত্রাও নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। কাজেই, আমরা কি পরিষ্কার করে বলতে পারি যে, মার্কিন সাম্রাজ্যের প্রজা হব আমরা সবাই । ওরা যা চায় আমরা তাই করতে দিব তাদের । আমেরিকা জিন্দাবাদ । সরি, জয় আমেরিকা , আমেরিকার জয়.।।

আমরা ফিরে যাই ১৯৮৮ সালের ৩ জুলাইয়ে, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ভিনসিনেস থেকে দুর্ঘটনাক্রমে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে ইরানি বিমানে আর তাতে মারা যায় ২৯০ জন সাধারণ যাত্রী।১ ওই ঘটনার পর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত প্রথম জর্জ বুশের কাছে এ ব্যাপারে মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল। নির্বিকারভাবে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আমি কখনোই ক্ষমা চাইবো না। ঘটনা যাই-ই হোক না কেন, আমার কিছু যায় আসে না /

৪০ বছর আগের ইতিহাসে একটু চোখ ফেরাই। তখন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির অধীনস্থ সিআইএ বাগদাদে সরকার পাল্টিয়েছিল। ১৯৬৩ সালে ইরাকে একটি সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেয় বাথ পার্টি। সিআইএ-র সরবরাহকৃত তালিকা অনুসরণ করে নয়া বাথ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে গুম করেছিল বামপন্থী হিসেবে পরিচিত শত শত চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষক এবং রাজনীতিকদের।

জর্জ বুশের তিন বছরের শাসন সময়ে আমেরিকান অর্থনীতির চিত্র এমন যে ২০ লাখেরও বেশি লোককে চাকরি হারা হতে হয়েছে।৫০ ব্যাপক সামরিক খরচ, কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রতি পক্ষপাতিত্ব ও ধনীদের রাজস্ব মওকুফ মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থায় অর্থনৈতিক সঙ্কট ডেকে এনেছে। প্রাদেশিক সরকারগুলির জাতীয় কাউন্সিলের একটি জরিপে দেখা যায়, ২০০২ সালে জনসেবা, স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ ও শিক্ষা খাতের মোট বরাদ্দ থেকে প্রদেশগুলি ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কাট-ছাট করেছে। এ বছরও তারা মোট বরাদ্দ থেকে আরো ২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমানোর পরিকল্পনা করেছে।৫১ অর্থাৎ সেবা খাতে মোট ব্যয় সংকোচনের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রস্তাবিত বাজেটে বুশ ইরাক যুদ্ধে ব্যয়ের জন্য ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবার জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রস্তাব করেছিল।

৯ বছরের সহিংসতায় ইরাকে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই সাধারণ মানুষ। নিহত বাকি ২০ শতাংশ হচ্ছে মার্কিন ও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং জঙ্গি।

একটা উক্তি বলি

“There are two kinds of truth. There are real truths, and there are made up truths.।।

আমেরিকা বানানো সত্য বলতে দুনিয়াতে সবচেয়ে পটু । দুনিয়া তে এরা মিথ্যার বেসাতি করে । এখন বলা হয় ওরা নাকি চাঁদেও যায়নি । যুদ্ধ লাগালে সবচেয়ে লাভ হয় আমেরিকার । তাই এরা এটা বাধানোর জন্য সব কিছু করতে রাজি থাকে ।

বুশ এর একটা ভাষণ পড়েন এই
Full text: Bush’s speech

A transcript of George Bush’s war ultimatum speech from the Cross Hall in the White House

http://www.guardian.co.uk/world/2003/mar/18/usa.iraq

আমেরিকা এখন একি টাইপ কথা বলা শুরু করসে.।। ইরান যুদ্ধ লাগালে কার লাভ হবে ????? নাকি ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ লাগে সেই টেনশনে আছি ।

উপরোক্ত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী নিয়া কি মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুল নাসেরের সময়কালের ন্যায় আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ একাধিকবার ইহা লইয়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশংকা করছেন। কিন্তু সেই আশংকা কখনই ফলপ্রসূ হয় নাই। তবে কৌশলগত দিক দিয়া এই সংকীর্ণ প্রণালীটির অবস্থান ও গুরুত্ব সীমাহীন বিধায় সেই আশংকাকে উড়াইয়া দেওয়ারও অবকাশ নাই। ইহার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগর। উত্তর উপকূলে ইরান আর দক্ষিণ উপকূলে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। প্রণালীটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫৪ কিলোমিটার বা ৩০ মাইল। পারস্য উপসাগরের পাড়ে অবস্থিত পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির একমাত্র সমুদ্রপথ এই প্রণালী। প্রতিদিন এই পথে প্রায় ১৪টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করে। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয় এই পথে। তাহাছাড়া হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন তেল উত্পাদনকারী দেশগুলোকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করিয়াছে। এমতাবস্থায় হরমুজ প্রণালী লইয়া উত্তেজনা আরও বাড়িতে থাকিলে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সারা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হইবে। বিশেষত বাংলাদেশের ন্যায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি পড়িবে আরও বিপদে।

হরমুজ প্রণালী ( Strait of Hormuz) একটি সরু জলপথ যা পশ্চিমের পারস্য উপসাগরকে পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। এটি আরব উপদ্বীপকে ইরান থেকে পৃথককারী প্রণালীটি ২৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৫০ থেকে ৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত। বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়াম পরিবহনে প্রণালীটির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যধিক। প্রণালীতে ইরানের জাজিরেইয়ে কেশম দ্বীপ ছাড়াও আছে জাজিরেইয়ে তোনবে কুচেক, জাজিরেইয়ে তোনবে বোজোর্গ এবং আবু মুসা দ্বীপগুলি; এগুলি ইরান ১৯৭১ সালে দখলে নিয়ে নেয়, কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত এগুলিকে নিজের বলে দাবী করে।

উপকূলবর্তী সবগুলো দেশই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার অধিকার রাখে, তবে এই প্রণালির সবচেয়ে বড় অংশ ইরানের উপকূলে রয়েছে বলে এর ওপর ইরানের বিশেষ অধিকার রয়েছে। অ্যাডমিরাল মুসাভি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার কোন প্রচেষ্টা হলে তেহরান তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। অ্যাডমিরাল মুসাভি আরো জানিয়েছেন, তার বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে টেকসই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

এর আগে ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দেশটির ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হবে। ইরান বলেছে, এই প্রণালি দিয়ে হয় সব দেশের তেল রপ্তানি হবে, নতুবা কোন দেশ তেল রপ্তানি করতে পারবে না। বিশ্বের অন্ততঃ ৪০ ভাগ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হয় বলে এটি বন্ধ করে দিলে তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের উত্তেজনা চলছে। পশ্চিমারা অভিযোগ করছে, পরমাণু কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ইরান বলছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

যুদ্ধ এক খান লাগবে রে ভাই.।।